

ডেস্ক রিপোর্ট: মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা আরো সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করতে ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। ই-কনস্যুলার নামের একটি অটোমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কনস্যুলার সেবা প্রদান শুরু করেছে মিশনটি। নতুন এ ব্যবস্থায় নথি প্রস্তুত, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল অনুমোদন ও ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া আরো সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইকমিশনের দূতালয় প্রধানের সই এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ই-কনস্যুলার সিস্টেমের আওতায় নোটারি অব ইন্ট্রোডাকশন, একই ব্যক্তি মর্মে পাসপোর্ট রেকর্ডের পত্র, পারিবারিক সম্পর্কসংক্রান্তপত্র এবং সিগনেচার অ্যাটেস্টেশন লেটারসহ বিভিন্ন ধরনের কনস্যুলার সেবা দেওয়া হচ্ছে। অটোমেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব সেবা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে হাইকমিশন।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ, থাকবে কিউআর কোড
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন সিস্টেমে উন্নতমানের অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এ প্রযুক্তির সাহায্যে পাসপোর্ট বা ফটোকপি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এরপর ইউনিক কিউআর কোড সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট পত্র প্রস্তুত করা হয়। কিউআর কোড স্ক্যান করে নথির তথ্য সহজে যাচাই ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। এ ব্যবস্থায় তথ্য সংগ্রহ ও নথি প্রস্তুতের কাজ আরো সুশৃঙ্খল করার পাশাপাশি ভুলের ঝুঁকি কমানো এবং যাচাইপ্রক্রিয়া সহজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে সেবাগ্রহীতাদের নথি নিয়ে বারবার যাচাইয়ের ঝামেলা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিজিটাল অনুমোদন ও তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ
ই-কনস্যুলার সিস্টেমে আবেদন গ্রহণ, পেমেন্টের রসিদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ব্যবস্থার মাধ্যমে নথি যাচাই করে অনুমোদন দিতে পারবেন। পাশাপাশি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ (রিয়েল-টাইম মনিটরিং) এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থায় সেবা প্রদানের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়। একই সঙ্গে নথি ব্যবস্থাপনা ও অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
পিওএস মেশিনে ফি পরিশোধের সুযোগ
কনস্যুলার সেবার নির্ধারিত ফি পরিশোধ সহজ করতে হাইকমিশনের কাউন্টারে একাধিক পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব মেশিনের মাধ্যমে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, টাস এনজিও এবং কিউআর পেমেন্ট পদ্ধতিতে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া যাবে। এতে সেবাগ্রহীতাদের ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেবাগ্রহীতাদের জন্য নির্দেশনা
হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে সেবা নিতে আসা প্রবাসীদের পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মূল কপি অথবা পরিষ্কার রঙিন ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে সশরীরে কাউন্টারে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত কনস্যুলার ফি পিওএস মেশিনে অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য কনস্যুলার সেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাসপোর্ট-সংক্রান্ত নথি, পারিবারিক সম্পর্কের প্রত্যয়ন কিংবা স্বাক্ষর সত্যায়নের মতো কাজে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা পাওয়া প্রবাসীদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের অংশ। এ অবস্থায় ই-কনস্যুলার সিস্টেম চালুর মাধ্যমে সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কম সময়ে অধিকসংখ্যক সেবাগ্রহীতাকে কনস্যুলার সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে হাইকমিশন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।