ফ্রান্সে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পেট্রলবোমা হামলায় হত্যা চেষ্টার তদন্ত শুরু

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১ দিন আগে

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: প্যারিসে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপে হত্যাচেষ্টার ঘটনার রোববার তদন্ত শুরু করেছে ফ্রান্স। এদিকে, আগুনে একজন পুলিশ সদস্যের শরীরের নিচের অংশ পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে টানা তৃতীয় সপ্তাহের শেষে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্যারিস পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, কয়েকশ দাঙ্গাকারী বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর এএফপিকে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এতে ব্ল্যাক ব্লক বিক্ষোভকারীদের মতো কালো পোশাক পরা তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় এবার দাঙ্গার বিস্তার কম হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, কিছু বিক্ষোভকারীর সহিংসতা ছিল নজিরবিহীন।

Manual2 Ad Code

এএফপি’র তোলা ছবি ও ভিডিওসহ বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা যায়, ঘরে তৈরি একটি অগ্নিসংযোগকারী যন্ত্র নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরা এক কর্মকর্তার পায়ের কাছে বিস্ফোরিত হয়। এতে তার শরীরের নিচের অংশে আগুন ধরে যায়। সরকারি কৌঁসুলিরা জানান, সরকারি ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। তারা বলেন, প্রায় ১৫ জন জেন্ডার্মসহ পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়। জেন্ডার্মরা ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত সামরিক পুলিশ সদস্য। কৌঁসুলিরা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে দ্বিতীয় মাত্রার দগ্ধ হওয়ার ঘটনা রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

Manual1 Ad Code

‘আমাদের ওপর হামলা চলছিল’-
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জনতা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যের পায়ে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এ সময় তার দুই সহকর্মী আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। সাদা টি-শার্ট ও খড়ের টুপি পরা এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে খালি হাতে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর আরেক পুলিশ সদস্য তাকে সরিয়ে দেয়ালে ঠেলে দেন। ফরাসি বিধি অনুযায়ী নিজের পরিচয় শুধু ক্যাপ্টেন আলেকজান্দ্র নামে উল্লেখ করে ওই জেন্ডার্ম এএফপিকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের উত্তেজনা ও চাপের মধ্যে আমরা ভেবেছিলাম, লোকটি আমাদের ওপর হামলা করতে এসেছে। তাই আমার সহকর্মী তাকে সরিয়ে দেন এবং নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল প্রয়োগ করেন। কিন্তু ওই বিক্ষোভকারী বা পথের চিকিৎসাকর্মী আসলে আমাদের সাহায্য করতে এসেছিলেন।’

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, ‘লোকটি কেন সেখানে এসেছেন, তা আমি তাৎক্ষণিক বুঝতে পারিনি। কারণ, আমার প্যান্টে আগুন ধরে যাওয়ার সময় আমি একটি কঠিন অভিযান সামলাতে পুরোপুরি ব্যস্ত ছিলাম।’ ওই ব্যক্তি তাকে সাহায্য করায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাকে ধন্যবাদ জানাতে চান বলেও জানান। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএলকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে ওই জেন্ডার্ম বলেন, তাদের ইউনিটের ওপর হামলা চলছিল। তাদের লক্ষ্য করে কাচের বোতল, পাথর ও অগ্নিবোমা নিক্ষেপ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর বেশ কয়েকটি শক্তিশালী অগ্নিসংযোগকারী যন্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘দাহ্য পদার্থটি এতটাই তৈলাক্ত ছিল যে, সেটি তার ত্বকের ওপর ছড়িয়ে পড়ছে বলে তিনি অনুভব করছিলেন।’ সামান্য আহত ওই কর্মকর্তা জানান, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের পোশাকে তার পা ও পায়ের নিচের অংশের সুরক্ষাবর্ম গলে যায়। আরটিএলের বরাতে জেন্ডার্মেরি জানায়, ওই কর্মকর্তার ইউনিটের ১৩ সদস্য আহত হয়েছেন।

সামনে নির্বাচন-
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর ছয় মাস বাকি থাকতে উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটল। আগামী বছর নির্বাচিত হলে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা মেরিন ল্য পেন। চরম ডানপন্থী ন্যাশনাল র‌্যালি পার্টির নেতা ল্য পেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, অগ্নিবোমা হামলার জন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি দিতে হবে। তিনি এবং ডানপন্থী রিপাবলিকান পার্টির প্রধান ব্রুনো রেতাইয়ো আগুনে পুলিশ সদস্যের শরীর পুড়ে যাওয়ার দৃশ্যকে ‘অসহনীয়’ বলে বর্ণনা করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের ঘটনায় ৭৭০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিক্ষোভ ও হ্যালোইন উদযাপনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ১৫৯ সদস্য আহত হয়েছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code