নিউইয়র্কে স্মরণ সভায় অধ্যাপক মুহাম্মদ মতিউর রহমান: কবি আল মাহমুদ কর্মগুণে বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে থাকবেন

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual3 Ad Code

বিশিষ্ট  শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখক  অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান বলেছেন, বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য, স্বাধীনতা, বাংলাদেশ আর দেশের মা-মাটির সাথে মিশে রয়েছেন কবি আল মাহমুদ। তাঁর কর্মগুণেই তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে থাকবেন। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর সাহিত্য রচনার জন্যই তিনি অমরত্ব লাভ করবেন। তাঁকে উপেক্ষা করার কোন সুযোগ নেই। আর কেউ তাঁর সাহিত্যকে ছুঁতে পারবে না। কবি আল মাহমুদ, আল মাহমুদই।

 

Manual3 Ad Code

 

সম্প্রতি প্রয়াত কবি আল মাহমুদ স্মরণে রাইটার্স ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুহাম্মদ মতিউর রহমান উপরোক্ত কথা বলেন। উল্লেখ্য, তিনি ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশন, ঢাকা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং এশিয়া ইউনিভার্সিটি’র বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান।

 

 

সিটির জ্যাকসন হাইটসের কাবাব কিং রেষ্টুরেন্টের পার্টি হলে গত ১৪ মার্চ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত কবি আল মাহমুদ স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন রাইটার্স ফোরামের সভাপতি হাফেজ আব্দুল্লাহ আল আরিফ। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এখন সময় সম্পাদক কাজী সামসুল হক, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও অবু তাহের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ও নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান এবং বায়তুশ শরফ ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও খতীব মাওলানা মাহমুদ জাকারিয়া।

Manual2 Ad Code

অতিথিবৃন্দ ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, ড. ওমর ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক মইন উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সোবহানী, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ফরহাদ, লীগ্যাল নেটওয়ার্ক-এর প্রেসিডেন্ট জ্যাকব মিলটন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম ও সাবেক সাধার সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ,কমিউনিটি এক্টিভিটস জালাল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

 

রাইটার্স ফোরাম অব নর্থ আমেরিক’র সাধারণ সম্পাদক রশীদ আহমদের সঞ্চালনায় স্মরণ সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ আলী আকবর এবং নাশীদ পরিবেশন করেন মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াসীন। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোরামের সহ সভাপতি নইমুদ্দীন।

সভায় কবি আল মাহমুদ স্মরণে কবিতা আবৃত্তি করেন অধ্যাপক নূরুল মোস্তফা রইসী, নিলুফার রেজা, ওবায়দুল্লাহ মনসুর, নীরু নীরা, এম সারোয়ার হায়দার প্রমুখ।অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুফতি মুহাম্মদ ইসমাঈল, ক্যাপ্টেন (অব) রেজাউল হক,অনলাইন টিভি পীসফুল এর সিইও মাওলানা আবু সালেহ নায়েব আলী, ফোরামের সাহিত্য সম্পাদক ইন্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন আহমেদ,সাংবাদিক এমদাদ চৌধুরী দীপু,সদস্য এম এ আলীম তালুকদার,ইন্জিনিয়ার রাইসুর রহমান রিপন,গোলাম হোসেন,মুহা: সামছুল আলম মানিক ও জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

সভায় বক্তারা কবি আল মাহমুদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি বাংলা সাহিত্যের উজ্জল নক্ষত্র, আধুনিক কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, সাহসী সম্পাদক, ঈমানদার মানুষ। ছিলেন দেশপ্রেমকি মানুষ। তার তুলনা তিনি নিজেই। তিনি শুধু বাংলাদেশেই নন, ভারতের কলকাতাতেও শ্রদ্ধার মানুষ। তাঁর মতো করে ‘সোনালী কাবিন’ আর কেউ রচনা করতে পারবেন না। বাংলা ভাষা আর সাহিত্য যতদিন থাকবে, কবি আল মাহমুদ ততদিন বেঁচে থাকবেন। তাঁর সাহিত্য সৃষ্টি অনাদিকাল জাগ্রত থাকবে। বক্তারা বলেন, কবি আল মাহমুদ একমাত্র কবি-মুক্তিযোদ্ধা যিনি রণাঙ্গনে সরাসরি অংশ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সম্মাণ না পাওয়ারও সমালোচনা করেন কোন কোন বক্তা বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ইসলামী জাগণের কবি ফররুখ আহমদ আর কবি আল মাহমুদরা একই সূত্রে গাঁথা। তাঁদেরকে দাবিয়ে রাখতে নানাভাবে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হননি। কবিরা তাদের কর্মগুণে জয়ী হয়েছেন, জনগণের মনে স্থান করে নিয়েছেন। রবি-নজরুলের সাথে আল মাহমুদের নামও বাংলা সাহিত্যে উজ্জল থাকবে।

 

সভায় বক্তারা বলেন, দলমত-নির্বিশেষে দেশের সকল গুনীজনকে শ্রদ্ধার সাথেই স্মরণ করতে হবে। কে কোন দল বা মতের সেটা বড় কথা নয়, যোগ্য লোককে যোগ্য সম্মান দেয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর সকল ক্ষেত্রেই রাজনীতি টেনে আনার সংস্কৃতি ভুলে যেতে হবে। সকল নিয়ম, অন্যায়, অবিচার আর অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কবি আল মাহমুদের মতো কবিদের চেতনায় বাংলাদেশ আর দেশের মানুষ আবার জেগে উঠবে বলেও বক্তারা প্রত্যাশা করেন।

 

সভায় অধ্যাপক মুহাম্মদ মতিউর রহমান কবি আল মাহমুদের সাথে পরিচয়-সম্পর্ক আর থাকা-খাওয়ার স্মৃতি চারণ করে বলেন, আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কবি। দেশের সকল পর্যায়েই তাঁর বিচরণ ছিলো। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতদৈনতা থাকবে। তারপরও সবাইকে সঠিক পথে চলতে হবে, সত্যটাকে মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, কোরআন ছাড়া সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি হতে পারে না। মতবেধ নয়, যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য সম্মান দিয়ে ঐক্যের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কেননা, ঐক্যর মধ্যেই সমৃদ্ধি।

প্রসঙ্গত তিনি প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃত বিকাশে প্রবাসীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দুবাইতে ২০ বছর তার চাকুরী জীবনে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ১৯৯০ সাল থেকে বাংলা সাহিত সম্মেলন ও বাংলা পুস্তক প্রদর্শণী আয়োজনের কথা তুলে ধরে বলেন, দুবাইতে আয়োজিত প্রবাসের প্রথম সাহিত্য সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন কবি আল মাহমুদ।

Manual7 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

সভায় রাইটার্স ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র পক্ষ থেকে অধ্যাপক মুহাম্মদ মতিউর রহমান-কে প্ল্যাাক প্রদান করা হয়। এর আগে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সর্বশেষ  বিশেষ দোয়ার মধ্য দিয়ে কবি আল মাহমুদের বিদেহী আত্মার  মাগফেরাত কামনা করা হয়।দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মাহমুদ জাকারিয়া।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code