“তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে”

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago
SAMSUNG CAMERA PICTURES

Manual5 Ad Code

হাফিজার রহমান আদমদীঘি (বগুড়া) :

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশে অপরুপ সৌন্দর্যের নীলাভুমি গ্রাম বাংলায় যুগযুগ ধরে সৌন্দর্য বর্ধন করে চলেছে ঐতিহ্যবাহি তালগাছ। অন্যান্য গাছের তুলনায় তালগাছ খুব বেশি উচু হয়ে থাকে। তাই তো বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর তার “তালগাছ” কবিতায় লিখেছেন “তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে’’। তালগাছের উচ্চ তা আর সৌন্দর্য দেখে কবি জসিম উদ্দীন তার কবিতায় লিখেছেন “ঐ দেখা যায় তালগাছ ঐ আমাদের গাঁ, ঐখানেতে বাস করে কানাবগির ছা”। কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার দীর্ঘ উচ্চতা আর সৌন্দের্যের প্রতীক তালগাছ আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন কেউ আর তালগাছকে অর্থকরি বৃক্ষ মনে করেন না। এমন অবস্থার মধ্যে আদমদীঘির সান্তাহার তিয়রপাড়া ব্রিজ-সাইলো সড়কের দুই পার্শ্বে সারিবদ্ধ তালের গাছ সৌন্দর্য বর্দ্ধন করে যাচ্ছে। সান্তাহার প্রধান সড়কের খাড়ির ব্রিজ থেকে অত্যাধুনিক খাদ্যগুদাম সাইলো পর্যন্ত প্রায় সারে তিন কিলোমিটার সড়কের দু’ধারে শতশত তালগাছ দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেক বৃক্ষপ্রেমী ও ভ্রমন পিয়াসু আসেন দৃষ্টিনন্দন এই তাল গাছ এক নজর দেখতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারসহ আশেপাশের এলাকায় স্বাধীনতার পূর্বকালে প্রচুর বড়বড় তালগাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু মানুষের প্রয়োজনে ও তাল গাছের গুরুত্ব না থাকায় দিনে দিনে সেগুলো কেটে ফেলেন। ফলে এলাকা থেকে তালগাছ গুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে অবহেলায় অযতেœ কিছু কিছু এলাকায় এখনো বেড়ে উঠছে এই তালগাছ। গ্রামবাংলার প্রবীন লোকদের মতে, উচু তালগাছ বজ্রপাত রোধ করে। বর্তমানে তালগাছ কমে যাওয়ায় প্রতি বছর বজ্রপাতে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটছে। বজ্রপাত বেশী আঘাত হানে সাধারণত উচু গাছে। এ দিক থেকে তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তণ, মাটির ক্ষয়রোধ, অনাবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা করতে তালগাছ রোপনের গুরুত্ব অপরিসীম। আদমদীঘির সান্তাহার তিয়রপাড়া- সান্দিড়া সাইলো সড়কে এই সারিবদ্ধ তালগাছ দেখার জন্য প্রতিদিন দর্শনার্থীদের আগমনে সরগরম হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কিশোর কিশোরীদের আগমন ও মোবাইলে সেলফি তোলা চোখে দেখার মতো। আবার কেউ পরিবার নিয়ে এই অপরুপ দৃশ্য উপভোগ করছেন। সান্তাহার মাল্টিস্টোরিড ওয়্যার হাউজ (সাইলো) কর্তৃপক্ষ জানান, ১৯৮২ সালে তৎকালিন সাইলো’র প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান সান্তাহার তিয়রপাড়া ব্রিজ থেকে সান্দিড়া সাইলো পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কের দুই পার্শ্বে ৭ শত ৫০াট তালগাছ বোপন করেন। সেই তালগাছ গুলো এখন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফিট লম্বা রাস্তার দু’ধারে শোভা বর্ধন করে আসছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারি জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাত রোধে তালগাছ গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে। তালগাছ ভূমিক্ষয়, ভূমিধ্বস রোধ, ভূ-গর্ভস্থ পানির মজুদ বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। উপজেলায় তালগাছ বোপনের কর্মসূচী রয়েছে।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code