

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) :
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নেই কম বেশী সরিষার চাষ হয়ে থাকে। কৃষকরো এখন সকাল- বিকাল সরিষা খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে। সারা মাঠ যেন হলুদের চাদরে ঢাকা। সরিষা চাষকে কেন্দ্র করে এ উপজেলায় মৌচাষীদের তৎপরতা বেড়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সুত্র জানায় সরিষা রবি মৌসুমের ফসল। এবার শাহজাদপুর উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।
উপজেলার গাড়াদহ, কায়েমপুর, নাবাবিলা, পোরজনা, খুকনি এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় এই এলাকার বেশির ভাগ জমিতেই সরিষার চাষ হচ্ছে। সরিষা গাছের হলুদ ফুলে ঝাকে ঝাকে উড়ে বেড়াচ্ছে মৌমাছি সহ নানা রঙের কীট পতঙ্গ। অনেক কৃষককেই দেখা গেছে তাদের খেতের পরিচর্যা করতে।
কথা হয় নাবাবিলা গ্রামের চাষী শেখ আজমত আলীর সাথে। তিনি জানান, ধানের পরেই রবি মৌসুমে আমরা সরিষার চাষ করে থাকি। এতে খরচ কম এবং লাভও বেশী। এক বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভাল হলে বিঘা প্রতি পাচ থেকে ছয় মন সরিষা উৎপাদন হয়। আর প্রতি মন সরিষার মুল্য দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। এই সরিষা বিক্রি করেই প্রধান ফসল ধানের আবাদ করা যায়।
সৈয়দপুর ধেকে মধু সংগ্রহে আসা আব্দুস ছাত্তার জানান, তারা মৌমাছির মাধ্যমে জমি থেকে বিশেষ কায়দায় মধূ সংগ্র করে ঢাকা-চট্রগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকেন। মৌসুমে একজন মৌচাষী গড়ে ২০ থেকে ২৫ মন মধু সংগ্রহ করতে পারেন। তিনি প্রায় এক যুগ ধরে এই এলাকায় মধূ সংগ্রহ করে থাকেন। এই মৌসুমি ব্যবসা থেকে তার ভাল উপার্জন হয়।
শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্মা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুস ছালাম বলেন, এ বছর সরিষার ফলন ভাল হবে বলে আমরা আশাবাদী। আমাদের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগন বিভিন্ন মাঠে কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ প্রদান করছেন। সরিষা ৭০ থেকে ৭৫ দিনের একটি ফসল। কৃষকেরা ধান চাষের পর জমি ফেলে না রেখে লাভ জনক সরিষার চাষ করে থাকেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৌচাষ। আশা করছি সরিষা থেকে এ বছর ব্যাপক মধূ আহরণ হবে।