

নিউইয়র্ক : করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯তে পৌঁছার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শনিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন গভর্নর অ্যান্ডু্র এম কুমো। এ রাজ্যে করোনা ভাইরাসের উৎস হিসেবে ধরা হয় ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিকে। নিউইয়র্ক থেকে উত্তরে এই শহরে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ জন। নিউইয়র্কে এক রাতের মধ্যে নতুন ২১ জনের দেহে এই ভাইরাস ধরা পড়ে। আক্রান্তের মধ্যে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো জানিয়েছেন। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো জানান, বিগত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে নতুন করে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭-তে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও আটটি অঙ্গরাজ্যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো হলো-সাউথ ক্যারোলাইনা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, ওকলাহোমা, নেব্রাস্কা, কেনটাকি, মিনেসোটা ও পেনসিলভানিয়া। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় অর্ধেকেই এ ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৩৭৭ জনের মধ্যে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটের সান ফ্রান্সিসকো উপকূলে আটকে পড়া প্রমোদ তরীর ২১ যাত্রীর দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। যাত্রী ও নাবিক মিলিয়ে ৩ হাজার ৫৩৩ জন মানুষ এখন ওই প্রমোদ তরীতে আটকা আছেন। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে স্ক্রিনার, স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কারণ, বিশ্বজুড়ে যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে। সেখানে যাওয়া বিমান যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের দায়িত্বে আছেন এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেকের কাছে সার্জিক্যাল মাস্ক নেই। এ অবস্থায় আরো কার্যকর সার্জিক্যাল মাস্ক দেয়ার জন্য সুপারভাইজারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। শুক্রবার সন্ধ্যায় লস অ্যানজেলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে দু’জন স্ক্যানারের পরীক্ষা করা হয়। তাতে তাদের করোনা ভাইরাস পজেটিভ পাওয়া যায়। এর ফলে আতঙ্ক আরো বেড়েছে।
দেশজুড়ে করোনা ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আরেকটি পেশাতেও তিনি উন্নতি করতে পারতেন। আর তা হলো চিকিৎসা বিজ্ঞান। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খাওয়া চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এমআইটি-তে পড়াশোনা করা নিজের অসাধারণ প্রতিভাধর চাচা-র কথা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, হয়তো তাদের পরিবারের জিনেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভালো করার দিকটি রয়েছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। একপর্যায়ে এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দুনিয়াজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। এরইমধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বের ১০২ টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে, আর ৩ হাজার ৪০০ এর বেশি মানুষ মারা গেছেন।