কর্মস্থলে খাবার পৌঁছে খুশি ওরা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

বেনাপোল থেকে :
প্রতিদিন মানুষকে ছুটতে হয় জীবন-জীবিকার তাগিদে নিজস্ব কর্মস্থলে। কর্মে ব্যস্তÍ থাকার সুবাদে খাবার খেতে সময় পান না অনেকেই। কেউ কেউ আবার শত কর্ম ব্যস্ততার মধ্যেই নিয়ম করে খাবার খান। কিন্তু সেই খাবার যদি মানসম্মত না হয় তাহলে শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
অনেকেই ব্যস্ততার কারণে বাড়ির রান্না করা খাবার সঙ্গে আনতে পারেন না। যারা সাথে করে সকালে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসেন তাদের দুপুরে খাবারের জন্যে চিন্তা করা লাগে না। দুপুরে যারা হোটেলে খান তাদের শারীরিক-অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তে হয়। এক সময় খাওয়ার প্রতি রুচিই উঠে যায়। তাই দুপুরের খাবার নিয়ে একরকম সমস্যায় থাকেন কর্মজীবীরা।
যারা খাবার সাথে করে আনেন তাদের কথা আলাদা। দুপুরে মা অথবা প্রিয়জনের হাতের রান্না করা খাবার যদি সহজেই পৌঁছে যায় নিজ কর্মস্থলে তাহলে তো কথাই নেই! বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িতে রান্না করা দুপুরের খাবার কর্মস্থলে পৌঁছে দিচ্ছে কিছু এজেন্সি। তাদেরকে মাস শেষে কিছু অর্থ দিলেই হয়। শুধু এজেন্সি না, ব্যক্তি উদ্যোগেই এ কাজটি করছেন অনেকেই।
প্রথম দিকে রাজধানীতে এ ব্যবস্থা শুরু হলেও পরে তা অন্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। যশোরও এই সেবা থেকে বাদ পড়েনি। অফিসপাড়া বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুপুরের আগেই পৌঁছে যাচ্ছে খাবারের ভ্যান। নাম খাবারের গাড়ি। যে গাড়িতে সাজানো আছে সারিসারি খাবারের টিফিন বক্স। মাসের শেষে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এমন সেবা দিচ্ছেন তারা। যশোর শহরের শংকরপুর, বিরামপুর, শহরতলীর ভেকুটিয়া, নওদাগাঁর কয়েকজন বেশ কয়েক বছর আগে এই কাজ শুরু করেন। রোজগারের পাশাপাশি সেবা দেয়ার মানসিকতা নিয়ে তারা এ কাজে নামেন। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, শীত উপেক্ষা করে তাদের এ কাজ করতে হয়।
সকাল এগারটা বাজার সাথে সাথে তারা শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন বাসা এবং বাড়ি থেকে খাবার ভর্তি টিফিন বক্স সংগ্রহ করে নেন। দুপুর দুটোর আগেই পৌঁছে দেন অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে।

Manual8 Ad Code

ভেকুটিয়ার আলী হোসেন প্রায় বছর দুয়েক আগে শুরু করেছেন খাবার পৌঁছানোর কাজ। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি খাবারের বাটি পৌঁছে দেন নির্দিষ্ট জায়গায়। সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে মাসে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা করে নেন। ভেকুটিয়া, বড় ভেকুটিয়া, সুজলপুর, কদমতলা, খোলাডাঙ্গার বিভিন্ন বাড়ি ও বাসা থেকে খাবার সংগ্রহ করে পৌঁছে দেয়া অনেকটা কষ্ট হলেও বাড়িতে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিতে পেরে দারুণ খুশি আলী হোসেন।
তিনি বলেন, প্রতিদিন ৫০-৬০টি বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আবার তা পৌঁছে দেয়া কষ্টকর। কিন্তু এমন সেবা দিতে পেরে দাতা-গ্রহীতা দু’জনই খুশি।

Manual8 Ad Code

বিরামপুরের নুরু মিয়া জানান, অনেক কাজ থাকলেও এ কাজের মধ্যে এক রকম মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। আলী হোসেন, নুরু মিয়ার মতো শাহীন আলম, আব্দুল আলী সবাই প্রায় একই কথা বলেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে খাবার সংগ্রহ করে শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, পৌর হকার্স মার্কেট, ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন অফিস, মাইকপট্টির বিভিন্ন দোকান, আদ-দ্বীন হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন মার্কেটে পৌঁছে দেয়া হয়।

এ রকম একজন সেবা গ্রহীতা ব্যাবসায়ী আব্দুল্লা আল মামুন জানান,সারাদিন পরিশ্রমের মধ্যে বাড়িতে রান্না করা খাবার তৃপ্তি সহকারে খেয়ে কাজ করতে পারেন। বাইরের খাবার খেয়ে শরীর খারাপের কোনো আশঙ্কা থাকেনা।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code