গ্রীনকার্ড থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোটার :: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের দোহা থেকে ডিপোর্ট হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসকারী বাংলাদেশি আবুল বাশার জুয়েল। গত মঙ্গলবার জুয়েল নিউইয়র্কে আসতে চাইলে দোহায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বিমানে উঠতে দেয়নি বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। জুয়েলকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

Manual7 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্ভরযোগ্য সূত্রটি জানান, বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও ব্লগার আবুল বাশার জুয়েল রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে ২০১৬ সালে গ্রীনকার্ড পান। এরপর জরুরি প্রয়োজনে তিনি এবছর বাংলাদেশে যান। গত মঙ্গলবার তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশে কাতার এয়ারওয়েজে যাত্রা করেন। সূত্র জানান, পথে দোহায় যুক্তরাষ্ট্রগামী যাত্রীদের ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। দোহায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জুয়েলকে নিউইয়র্কগামী ফ্লাইটে উঠতে বাধা দেয় এবং তার গ্রীনকার্ড জব্দ করে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

Manual5 Ad Code

সূত্রটি আরো জানায়, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জুয়েলকে জানিয়েছে, তিনি যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন তাই বাংলাদেশে গিয়ে তিনি তার আশ্রয়প্রাপ্তির অধিকার হারিয়েছেন। বাংলাদেশে যাওয়ার কারণে ধরে নেয়া হয়েছে যে তিনি নিজ দেশে আর হুমকির মুখে নেই। এখন দোহায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নাকি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন বর্ডার প্রটেকশনের কোনো প্রতিনিধি জুয়েলকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দিয়েছেন বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেননা, আরব আমিরাতের আবুধাবীতে মার্কিন ইমিগ্রেশনের প্রি-ক্লিয়ারেন্স ডিপার্টমেন্ট থাকলেও দোহায় এমন ব্যবস্থা আছে বলে জানা যায়নি। তবে নিউইয়র্কের একটি এরাবিয়ান ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানের কর্নধার জানিয়েছেন, সম্প্রতি কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশনের প্রি-ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হচ্ছে।

আবুল বাশার জয়েলের বাড়ি চট্টগ্রামে। নিউইয়র্কে তিনি একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কড়াকড়ি চলছে। জানা গেছে, গ্রীনকার্ড নিয়ে পাশ্ববর্তী কানাডায় ভ্রমণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাংলাদেশিদের। নিউইয়র্কের জ্যামাইকার হিলসাইডের ১৬৮ স্ট্রিটে বসবাসকারী জনৈকা বাংলাদেশি নারী কানাডায় ভ্রমণে গিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ফেরার পথে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানির শিকার হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী  বলেন, ‘প্রতিবছর আমি কানাডায় বেড়াতে যাই, কিন্তু এবার আমাকে যেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাতে আমার ভ্রমণের আনন্দটাই নষ্ট হয়ে গেছে।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ায় এখন দীর্ঘসূত্রিতা চলছে। রাজনৈতিক আশ্রয়, বৈবাহিক কারণ ও বিশেষ ক্যাটাগরিতে গ্রীনকার্ডপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত পেতে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। তাছাড়া বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রাপ্তির পরিমাণও অনেক হ্রাস পেয়েছে। সূত্রটি জানায়, আগে যেখানে ঢাকা থেকে দৈনিক গড়ে ৪০টির মতো ভিসা ইস্যু হতো সেখানে এখন মাত্র ৪ থেকে ৫টি ভিসা ইস্যু হচ্ছে। অধিকাংশ ভিসা আবেদনই প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code