বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বিপর্যয় অনিবার্য

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual7 Ad Code

উপ-সম্পাদকীয়: ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মাসেই মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশে পৌঁছার আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি যে গভীর উদ্বেগজনক, তা বলাই বাহুল্য। বস্তুত মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ, যা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ সহসাই কমবে না বলে ধরে নেওয়া যায়। মূলত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে; উপরন্তু মুদ্রাবাজারে লক্ষ করা যাচ্ছে অস্থিরতা। এ অবস্থায় পরিকল্পিত মুদ্রানীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সরকার অবশ্য সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশে এ বছর চালের উৎপাদন কম হয়েছে; বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আমনের চাষ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বিচক্ষণতার প্রমাণ দিতে হবে। এতে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা যায়।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে তা ধরে রাখা যায়নি। সরকারের তরফ থেকে এর পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বলা হচ্ছে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশেও মূল্যস্ফীতি হচ্ছে; বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সমন্বয় করতে দেশে এর দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে অনিবার্যভাবেই পণ্য ও সেবা খাতের ব্যয় বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির হারে উল্লম্ফন ঘটিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে জনজীবনে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অনেকে কাজ হারিয়েছেন, অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। এতে আয় কমেছে দেশের একটি বড় অংশের মানুষের। এ অবস্থায় অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুযোগ ও বিনিয়োগ থেকে মুনাফা আসার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code