রাতে ফ্যান চালিয়ে ঘুমানো কি ক্ষতিকর?

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট:আমাদের সবার প্রথম পছন্দ মাথার ওপর ঘুরতে থাকা বৈদ্যুতিক পাখা বা ফ্যান। দীর্ঘদিনের অভ্যাস আর স্বস্তির কারণে সারারাত ফ্যান চালিয়ে ঘুমানো আমাদের অনেকের কাছেই সাধারণ বিষয়। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ঠান্ডা বাতাসের এই আমেজ কি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের কোনো ক্ষতি করছে? বিজ্ঞান বলছে, সারারাত ফ্যান চালিয়ে ঘুমানো মূলত ক্ষতিকর নয়, তবে এটি নির্ভর করে আপনার ঘরের পরিবেশ এবং শারীরিক অবস্থার ওপর। সঠিক নিয়ম জানলে ফ্যানের বাতাস হতে পারে আপনার নির্বিঘ্ন ঘুমের সহায়ক, নতুবা এটিই হয়ে উঠতে পারে অ্যালার্জি বা সাইনাসের কারণ।

কেন ফ্যানের বাতাস ঘুমের জন্য সহায়ক?

একটি চমৎকার ঘুমের জন্য শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকা জরুরি। ঘুমের আগে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা প্রাকৃতিক নিয়মেই কিছুটা কমতে শুরু করে। ঘর যদি অতিরিক্ত গরম থাকে, তবে শরীর সেই তাপ ত্যাগ করতে পারে না, যার ফলে অস্থিরতা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, বড়দের জন্য ৬৮ থেকে ৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২০-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রা ঘুমের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। ফ্যান এই তাপমাত্রা বজায় রাখতে এবং শরীরের অতিরিক্ত তাপ সরাতে সরাসরি সাহায্য করে। এছাড়া, ফ্যানের একঘেয়ে একটানা শব্দ বা ‘হোয়াইট নয়েজ’ বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ (যেমন- গাড়ির হর্ন বা কুকুরের ডাক) ঢেকে দিয়ে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে। এমনকি নবজাতকদের ক্ষেত্রে ফ্যান ব্যবহার করলে ‘সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম’ (ঝওউঝ)-এর ঝুঁকি প্রায় ৭২% কমে যায় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পাশাপাশি এটি ঘরে বাতাস চলাচল বৃদ্ধি করে এবং আর্দ্রতা কমিয়ে ছত্রাক ও ধুলিকণার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করে।

অসাবধানতায় বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

Manual8 Ad Code

উপকার থাকলেও ফ্যানের অপব্যবহার কিছু শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে-

অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্ট

ফ্যান চললে ঘরের কোণে জমে থাকা ধুলিকণা, পশুর লোম বা ফুলের রেণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে হাঁপানি বা অ্যালার্জির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

Manual7 Ad Code

চোখ ও সাইনাসের সমস্যা

ফ্যানের বাতাস সরাসরি চোখে লাগলে চোখের জল দ্রুত শুকিয়ে যায়, যার ফলে চোখ জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হতে পারে। এছাড়া শুষ্ক বাতাস নাকের ভেতরের ঝিল্লি শুকিয়ে দেয় এবং মিউকাস ঘন করে ফেলে, যা থেকে সাইনাস ইনফেকশন বা নাক বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

Manual2 Ad Code

পেশিতে টান ও অস্বস্তি

সরাসরি শরীরের ওপর দীর্ঘক্ষণ বাতাস লাগলে শরীর অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে, ফলে পেশিতে টান বা বারবার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

অতিরিক্ত গরমে সতর্কতা

Manual7 Ad Code

যখন তাপমাত্রা ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) উপরে চলে যায়, তখন শুধু ফ্যানের ওপর নির্ভর করা বয়স্ক, শিশু এবং হৃদরোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এ অবস্থায় ফ্যান শরীরের তাপমাত্রা কমাতে ব্যর্থ হয়, যা প্রাণঘাতী হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। এমন চরম আবহাওয়ায় এসি ব্যবহার করা অথবা শরীর ভিজিয়ে ফ্যানের বাতাস নেওয়া নিরাপদ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code