শ্রীলঙ্কার দুই উইকেট নেই

লেখক:
প্রকাশ: ৮ years ago

Manual8 Ad Code

স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিদাহাস ট্রফির লড়াইয়ে প্রেমাদাসায় মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় দেড় মাস পরে দলে এসেছেন নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ফিরেই নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই দানুশকা গুনাথিলাকাকে ফিরিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সাকিবের বলে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন লঙ্কান উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। এরপর চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজের বলে ফিরে গেছেন ম্যান্ডিস। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪ ওভার শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ২২ রান।

‘অঘোষিত সেমিফাইনালে’ দলে ফিরেছেন নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ফিরেই টসটাও জিতেছেন সাকিব। টস জিতে বোলিং বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

এ ম্যাচ দিয়ে প্রায় দেড় মাস পর দলে ফিরলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। একাদশে তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে বাদ পড়েছেন আবু হায়দার রনি। দলের বাকি জায়গাগুলো রয়েছে অপরিবর্তিতই।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা দল নেমেছে দুটি পরিবর্তন নিয়ে। সুরাঙ্গা লাকমলের পরিবর্তে দলে এসেছেন পেসার ইসুরু উদানা। অন্যদিকে দুষ্মন্থ চামিরার বদলে দলে ঢুকেছেন বাঁহাতি স্পিনার আমিলা আপোন্সো।

ম্যাচ শুরুর আগে কলম্বোর আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে ম্যাচ চলাকালে থাকছে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা। সমান দুই পয়েন্ট পেলেও বাংলাদেশ দল রানরেটে পিছিয়ে রয়েছে টেবিলের তলানিতে। যদি বৃষ্টির কারণে খেলা মাঠে না গড়ায় তবে রানরেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে ফাইনাল খেলবে স্বাগতিকরাই।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের আগে স্বাগতিকদের চেয়ে মানসিকভাবে একটু এগিয়ে থেকেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারলেও বাংলাদেশ মাঠে নামা শেষ লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা হারিয়েছে রেকর্ড গড়েই।

Manual5 Ad Code

নিদাহাস ট্রফিতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুশফিকের ব্যাটে চড়ে ২১৪ রানের পাহাড় বাংলাদেশ টপকেছিল দুই বল হাতে রেখেই। অবশ্য পরিসংখ্যানটা পরিষ্কার কথা বলছে শ্রীলঙ্কার হয়েই। মুখোমুখি হওয়া দশ ম্যাচের সাতটিতেই জিতেছে লঙ্কানরা। বাংলাদেশের জয় তিনটিতে।

চার ম্যাচে তিন জয় নিয়ে ভারত আগেই নিশ্চিত করে ফেলেছে ফাইনাল। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে সেটা জানা যাবে এই ম্যাচের পরেই। ১৮ মার্চ মাঠে গড়াবে নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল ম্যাচটি।

Manual7 Ad Code

বাংলাদেশ একাদশ: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপু ও মুস্তাফিজুর রহমান

কতটুকু প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচটি কার্যত রূপ নিয়েছে সেমি-ফাইনালে। প্রথম ম্যাচ হেরে শুরু করা ভারত টানা তিন জয়ে ফাইনালে উঠে গেছে সবার আগে। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর শ্রীলঙ্কা হেরেছে টানা দুটি। দুটি হারের মাঝে একটি ম্যাচ দারুণভাবে জিতেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার লড়াইয়ে জয়ী দল খেলবে রোববারের ফাইনালে।

দুই দলের আগের লড়াইয়ে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ২১৫ রান তাড়ায় জিতেছে ইতিহাস গড়ে। তবে সেই চূড়া থেকে পতন হয়েছে পরের ম্যাচেই। বুধবার ভারতের বিপক্ষে ১৭৭ রান তাড়ায় বাংলাদেশ হেরেছে ১৭ রানে।

শ্রীলঙ্কা ম্যাচের পর পাওয়া আত্মবিশ্বাসেও চোট লাগার কথা এই হারে। তবে কোচ কোর্টনি ওয়ালশ ওই ম্যাচকে এত গুরুত্ব দিতেই রাজি নন। অন্তবর্তীকালীন কোচ দলকে উজ্জীবিত করছেন ভারতের বিপক্ষে হারকে পেছনে ফেলে।

Manual8 Ad Code

ওয়ালশের বক্তব্য, ‘গতকাল জিততে পারলে ভালো হতো। কিন্তু সেটাও আমাদেরকে ফাইনালের নিশ্চয়তা দিত না। এই ম্যাচ জিততেই হতো। সেভাবেই তৈরি হচ্ছি আমরা। চ্যালেঞ্জটা নিতে প্রস্তুত। ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই।’

‘যদি আমরা নিজেদের পরিকল্পনা মতো ও সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে খেলতে পারি, তাহলে অবশ্যই সুযোগ থাকবে। আজকের দিনটায় ছেলেরা রিল্যাক্সড ছিল। তরতাজা হয়ে সবাই কালকের লড়াইয়ে নামবে’, বলছিলেন তিনি।

টুর্নামেন্টের তিন ম্যাচে বাংলাদেশকে দেখা গেলে তিন রূপে। প্রথম ম্যাচে বিবর্ণ হার, দ্বিতীয় ম্যাচে অসাধারণ জয়। তৃতীয় ম্যাচটি দুটির মিশেল, ফলাফলে প্রাপ্তি যদিও হার। ফাইনালে ওঠার চ্যালেঞ্জে নিজেদের পারফরম্যান্স আরেকটু ধারাল দেখতে চান ওয়ালশ।

‘কালকের ম্যাচ কার্যত সেমি-ফাইনাল। দুই দলই জিততে চাইবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমরা খারাপ খেলছি। স্রেফ প্রয়োজন নিজেদের একটু শাণিত করে তোলা। সেটুকু পারলেই ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে আমাদের। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।’

ম্যাচের গুরুত্ব জানে শ্রীলঙ্কাও। জিততে না পারলে শুধু ফাইনালে ওঠার সুযোগই হাতছাড়া নয়, দেশের স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত টুর্নামেন্টও তাদের কাছে হয়ে পড়বে রঙহীন।

তবে চন্দিকা হাথুরুসিংহে মাঠের বাইরের হিসাব-নিকাশে মন দিতে চান না একটুও। দলকে চাপমুক্ত রাখতেই হয়তো লঙ্কান কোচ চেষ্টা করছেন প্রস্তুতিতে ম্যাচটিকে খুব বড় করে না দেখার।

হাতুরু বলেন, ‘অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি স্বাভাবিকভাবেই। ওদের বিপক্ষে সম্প্রতি আমরা অনেক খেলেছি, তাই ওদেরকে খুব ভালো করে জানি। ওরাও জানে আমাদের। ব্যাপারটা হলো দিনটায় কে ভালো খেলবে। আমরা আশাবাদী।’

গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচেও শ্রীলঙ্কা পাচ্ছে না দিনেশ চান্দিমালকে। মন্থর ওভাররেটের কারণে নিষিদ্ধ চান্দিমালের জায়গায় যথারীতি নেতৃত্ব দেবেন থিসারা পেরেরা। বাংলাদেশ ফিরে পেতে পারে নিয়মিত অধিনায়ককে। ম্যাচের আগের দিনই চোট কাটিয়ে এই অলরাউন্ডার যোগ দিয়েছেন দলের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত সাকিব খেললে সেটিও গড়ে দিতে পারে বড় পার্থক্য।

আগের রাতে ম্যাচ খেলার ক্লান্তি আছে। হারের মানসিক ধকল তো আছেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন তাই অনুশীলন করেনি বাংলাদেশ। এই অনুশীলন না করাটাও আসলে প্রস্তুতির অংশ। শ্রান্তিটুকু দূর করে, মানসিকভাবে আবার চাঙা হয়ে মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ। জিততে চায় ফাইনালে ওঠার চ্যালেঞ্জ।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code