অনুমোদনহীন অভিবাসীদের বহিষ্কারে পর্তুগালে অভিযান

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : অনুমোদন ছাড়া বসবাসরত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চলতি সপ্তাহে বড় পরিসরে অভিযান শুরু করেছে পর্তুগাল। এই অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।অনিয়মিত অভিবাসীদের বহিষ্কারে গত সোমবার অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয় পর্তুগিজ সরকার। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পর্তুগাল ছেড়ে যেতে প্রথম দফায় সাড়ে চার হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। দেশটিতে বসবাসের অনুমতি পেতে ব্যর্থ হওয়া অন্তত ১৮ হাজার অভিবাসীকে পর্যায়ক্রমে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানিয়েছে সরকার।

Manual1 Ad Code

সরকারি সূত্র অনুসারে, অভিবাসীরা মূলত ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের নাগরিক। এসব অভিবাসীকে বহিষ্কার বাধ্যতামূলক হওয়ার আগে ২০ দিন সময় দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে তারা আপিলের সুযোগ পাবেন।যারা সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করবেন, তাদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনে নির্ধারিত আটককেন্দ্রে রাখা হতে পারে। পর্তুগালে আটককেন্দ্রগুলো সিআইটি নামে পরিচিত।
Manual7 Ad Code

বিরোধীদের নিন্দা
বর্তমানে পর্তুগালের পোর্তোর কাছে শুধু একটি কার্যকর প্রত্যাবাসনকেন্দ্র রয়েছে। ন্যাশনাল রিকভারি অ্যান্ড রিজিলিয়্যান্স প্ল্যান তহবিলের মাধ্যমে সেখানে আরো দুটি কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের আগে এগুলো ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব হবে না। এদিকে সরকার ঘোষিত পদক্ষেপটি একটি বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দি সোসা বলেছেন, অভিবাসীদের ছাড়া পর্তুগিজ অর্থনীতি ভেঙে পড়বে।
Manual8 Ad Code

সরকারবিরোধী বামপন্থীরা ১৮ মে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের আগে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রকাশ্যে নিন্দা ও অভিযোগ করেছেন। বিরোধী সমাজতান্ত্রিক নেতা পেদ্রো নুনো সান্তোস বলেছেন, পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো ‘নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসনকে ব্যবহার করছেন, যাতে সরকারের ব্যর্থতাগুলো যাতে চাপা পড়ে যায়।

অন্যদিকে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংস্থাগুলো বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, বিদেশিদের বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত পরিষেবা সার্ভিস ফর ফরেইনার্স অ্যান্ড বর্ডারস (এসইএফ) বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। পরিবর্তে নতুন করে এজেন্সি ফর ইন্টিগ্রেশন, মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম (এইআইএমএ) চালু করা হয়েছে। কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষের দেরির কারণে অনেক বিদেশি নাগরিক দেশটিতে অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

২০২৩ সালে পর্তুগালে অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে গেলে জটিল এই পদক্ষেপটি নেয় সরকার। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটিতে বিদেশির সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। সরকারি তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে সর্বাধিকসংখ্যক অভিবাসীকে বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়েছিল। ওই সময় চার হাজার ৮০০ জনকে পর্তুগাল ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল। আর চলতি সপ্তাহে সাড়ে চার হাজার বিদেশিকে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

Desk: K

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code