অভিবাসী ইস্যুতে বেকায়দায় পড়তে যাচ্ছে বাইডেন প্রশাসন

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ অভিবাসী ইস্যুতে বেকায়দায় পড়তে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিশেষ করে টেক্সাস সীমান্তে জড়ো হওয়া হাইতি থেকে আসা লোকজন তার প্রশাসনের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। টেক্সাসের রিও গ্রান্ডির ডেল রিও ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজের কাছে অস্থায়ী তাঁবুতে গাদাগাদি করে থাকা শরণার্থীরা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ই আসতে শুরু করেছিল।

Manual1 Ad Code

অভিবাসন নিয়ে রাজনীতির সূচনা ট্রাম্পের সময় হলেও এর জের টেনে চলেছে বাইডেন প্রশাসন। সীমান্ত রক্ষীরা ঐ শরণার্থীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করছে। মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার গ্রুপগুলো এ নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে। বলা হচ্ছে বর্ডার পেট্রল এজেন্টদের আচরণ ট্রাম্পের সময় যেমন ছিল এখনো ঠিক তাই আছে। শরণার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে, না আশ্রয় দেওয়া হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে বাইডেন ছিলেন অভিবাসন প্রত্যাশীদের পক্ষে উচ্চকণ্ঠ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন মানবাধিকার হবে তার পররাষ্ট্রনীতির মূল স্তম্ভ।

Manual7 Ad Code

বাইডেন প্রশাসন যেন হাইতির শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত না পাঠায় সে বিষয়ে অনুরোধ জানিয়ে গত সপ্তাহে ৩৮টি নাগরিক ও অভিবাসী অধিকার গ্রুপের এক জোটের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউজে চিঠি দেয়। সহিংসতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে তারা টেক্সাসের সীমান্তবর্তী ডেল রিওতে আশ্রয় নিয়েছিল।

ঐ জোটের মধ্যে ছিল এসিএলইউ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও কনফারেন্স অন সিভিল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন ব্ল্যাক অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ও ন্যাশনাল কনফারেন্স অব ব্ল্যাক লয়ার্সের সভাপতি নানা জিয়াম্ফি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, ‘হাইতিতে সরাসরি প্লেনে করে শরণার্থী ফেরত পাঠিয়ে তাদের চরম দুর্দশার মুখে ঠেলে দিয়েছে, এর ফলে মারাও গেছে কিছু শরণার্থী। বিষয়টি আপনার প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ডিপোর্টেশন ফ্লাইট অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

সীমান্তে যারা নিরাপত্তা আশ্রয় চাইছে তাদের অবশ্যই আশ্রয় এবং তাদের আবেদনগুলো আইনানুগভাবে বিবেচনা করতে হবে। লক্ষণীয়, ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতর থেকেই শরণার্থী বহিষ্কার বন্ধের কথা বলা হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে নির্বাচিত সিনেটর চাক শুমারও ঐ চিঠির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, শুমার সিনেটে সংখ্যগরিষ্ঠ দলের নেতা। কংগ্রেসের উচ্চ ও নিম্নকক্ষ মিলিয়ে ১২ জন সদস্য ২২ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে বাইডেনের কাছে বহিষ্কার বন্ধ করার আহ্বান জানান। এদিন শরণার্থীদের প্রতি বর্ডার পেট্রল এজেন্টদের নির্মম আচরণের প্রকাশিত ভিডিওর সমালোচনা করে হোয়াইট হাউজ।

এর আগে ন্যাশনাল বর্ডার পেট্রল ইউনিয়ন শরণার্থী ইস্যুতে হোয়াইট হাউজের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকার কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে। ন্যাশনাল বর্ডার পেট্রল কাউন্সিলের প্রধান ব্রেনডন জাড বলেন, ‘ডেল রিও সীমান্তে নতুন ১৫ হাজার শরণার্থী আসার বিষয়টি উল্লেখ করে আমি জুনেই হোয়াইট হাউজকে অবহিত করেছিলাম।’ তিনি বলেন, তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চেয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা ঠিক করে দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা এই সময়ের মধ্যে সেই চিঠির উত্তর দেয়নি। সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তত্ত্বাবধান করে থাকে।

Manual5 Ad Code

জাড বলেন, ‘হোমল্যান্ডের আচরণে আমরা যার পর নাই হতাশ হয়েছি। তারা জানত সীমান্তে শরণার্থী আসছে। কিন্তু তাদের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পাদনের কোনো পরিকল্পনা তারা নেয়নি। শরণার্থীরা ব্রিজের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। শিশুরা খুবই মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। অথচ আমরা সীমান্তে কারো সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত নই।

Manual1 Ad Code

ট্রাম্প যুগের নীতি পরিবর্তন ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই বাইডেন ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু এ ব্যাপারে তার প্রশাসন দৃশ্যত এখনো পর্যন্ত কোনো সাফল্য দেখাতে পারেননি। মনে হচ্ছে যেন এ ইস্যুতে হোয়াইট হাউজ এখন নীতিমালা ঠিক করে উঠতে পারেনি। সীমান্তে সর্বশেষ এ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি একদিকে যেমন অধিকার গ্রুপ থেকে নিজ দলের কংগ্রেস সদস্যদের কাছ থেকে চাপের মুখে রয়েছেন তেমনি বিরোধী রিপাবলিকান শিবির তার সমালোচনা করছে এই বলে যে শরণার্থীদের ফলে সৃষ্ট সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুটি তিনি উপেক্ষা করছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code