আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual3 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

আজ জুমাতুল বিদা। রমজানের শেষ এ জুমা ইঙ্গিত দিচ্ছে পবিত্র এ মাসের বিদায়ের। তাই বিচ্ছেদের রক্তক্ষরণ চলছে মুমিন হৃদয়ে।

মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার মুসলিম উম্মাহর কাছে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। দিনটি ইবাদতবন্দেগি ও জিকির-আসকারের মাধ্যমে পালন করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। জুমাতুল বিদায় নামাজ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনা করেন মুসল্লিরা।
বিশ্ব মুসলিমের কাছে সপ্তাহের অন্য দিনের চেয়ে শুক্রবারের মর্যাদা অধিক। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আসা রমজান মাসের শুক্রবারগুলোর মর্যাদা আরও অধিকতর। শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদার মধ্য দিয়ে পবিত্র মাহে রমজানকে এক বছরের জন্য বিদায় সম্ভাষণ জানানো হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও দেশব্যাপী মসজিদে-মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। খুতবায় রমজান মাসের ফজিলত ও ইবাদতের গুরুত্ব ব্যাখ্যাসহ বিশেষ দোয়া করা হবে।

Manual5 Ad Code

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।।

পবিত্র এ মাসের আর কয়েকটি দিন বাকি। এখনই হিসাব মিলাতে হবে, বিশ্বজনীন এ ক্ষমা ও পুণ্য লাভের মাসে আমার সংগ্রহ কতটুকু? খোদার কাছ থেকে নিজেকে মাফ করিয়ে নিতে পেরেছি কি? আমি কি পেরেছি, আল্লাহর রঙে রঙিন হতে?

Manual5 Ad Code

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, একবার রমজান মাস এলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এ মাস তোমাদের কাছে এসেছে, এতে একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে সব ধরনের কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হয়েছে। মূলত এর কল্যাণ থেকে চিরবঞ্চিত ব্যক্তিরাই বঞ্চিত ব্যক্তি। (ইবনে মাজাহ)।

আলাদাভাবে কোনো ফজিলত না থাকলেও ইসলামের সূচনাকাল থেকেই রমজানের শেষ জুমাটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালিত হয়ে আসছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমান এ দিন আগে আগে মসজিদে জড়ো হয়ে থাকেন।

জুমার নামাজ শেষে মসজিদে মসজিদে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আজও তেমনি করা হবে। রমজানের সংযম সাধনায় যেন আমাদের জীবন ও সমাজে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসে, মাবুদের কাছে আজ সেই মিনতি জানাবে মুসলিম উম্মাহ।

Manual1 Ad Code

এ দিনটি ঐতিহাসিক আল-কুদস দিবস হিসাবেও মুসলিম উম্মাহর কাছে পরিচিত। এটি মুসলমানদের প্রথম কেবলা পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখলমুক্ত করার আন্দোলনের প্রতীকী দিন।

এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা এবং জায়নবাদ ও ইসরাইলের জেরুজালেম দখলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যখন কদরের রাত হয়, তখন জিবরাঈল (আ.) ফেরেশতাদের দলসহ অবতীর্ণ হন এবং আল্লাহর প্রত্যেক এমন বান্দার জন্য দোয়া করেন, যারা দাঁড়িয়ে বা বসে আল্লাহর জিকির-বন্দেগি করতে থাকেন। যখন ঈদুল ফিতরের দিন আসে, তখন আল্লাহতায়ালা ফেরেশতাদের কাছে তাদের ব্যাপারে গর্ব করে বলেন, হে আমার ফেরেশতারা, যে শ্রমিক তার কার্য সম্পন্ন করেছে, তার প্রতিদান কী হতে পারে?

ফেরেশতারা জবাবে বলেন, হে আমাদের প্রতিপালক, তার পারিশ্রমিক পুরোপুরি দেওয়া হচ্ছে। তখন আল্লাহ বলেন, হে আমার ফেরেশতারা, আমার যে বান্দা তার ওপর অর্পিত ফরজ যথাযথভাবে পালন করেছে, অতঃপর সে (নিজের ঘর থেকে ঈদগাহের দিকে) উচ্চৈঃস্বরে দোয়া করতে করতে বের হয়েছে-আমার সম্মানের কসম, আমি নিশ্চয় তার দোয়া কবুল করব।

তারপর তিনি বলেন, (হে বান্দারা) তোমরা ফিরে যাও। আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাদের পাপগুলোকে পুণ্য দিয়ে পরিবর্তিত করে দিলাম। রাসূল (সা.) বলেন, তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে। (বায়হাকি)।

হে আল্লাহ, আমাদের রোজাগুলো কবুল করে নিন। আমিন।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code