

নিউজ ডেস্কঃ
‘জর্জ এইচডব্লিও বুশ পয়েন্টস অব লাইট রোল অব অনার ২০২১’ এ ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তা সাগর মজুমদার। উন্নয়নমূলক কাজ এবং নানা উদ্যোগে সমাজের জন্য অর্থবহ অবদান রাখা ব্যক্তিত্বদের স্বীকৃতি জানানো হয় এই সম্মাননার মাধ্যমে। এই বছর সাগর মজুমদার সহ তিন বাংলাদেশী এই পুরস্কার লাভ করেছেন। গত ২৮ শে সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় এ বছরের আয়োজনটি।
বাংলাদেশের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা পেয়েছেন সাগর। শুধু তাই নয়, তার ঝুলিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক অর্জন। ২০২১ সালে বাংলাদেশের হয়ে ‘ডায়না অ্যাওয়ার্ড’ এর জন্য নির্বাচিত হওয়া তরুণদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি জাতিসংঘের ‘ইয়াং লিডারস ফর এসডিজিস’ এ ফাইনালিস্ট ছিলেন।
চট্টগ্রামের ছেলে সাগর স্কুল জীবন থেকেই জড়িত ছিলেন নানা সামাজিক কার্যক্রমের সাথে। পড়াশোনা করেছেন চিটাগং গ্রামার স্কুলে। স্কুলজীবন থেকেই তাদের ‘ডিউক অব এডিনবার্গ’ কার্যক্রমের আওতায় যুক্ত ছিলেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদানে। ২০১২ সালে একটি এতিমখানার শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের কাজ করেন তিনি। সেখান থেকেই তার আগ্রহের শুরু। যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করার প্রেরণা খুঁজে পান।
পড়াশোনা এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টকে আরো সহজে সকলের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ করেছেন সাগর। শিখন পদ্ধতিকে আরো সৃজনশীল উপায়ে শিশু কিশোরদের কাছে তুলে ধরার জন্য নানারকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুক্ত থেকেছেন বিভিন্ন উদ্যোগের সাথে। প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা উপকরণের সাথে পরিচিত করানোর ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত ছিলেন নানাভাবে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহারকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য তিনি একটা লম্বা সময় ধরে কাজ করেছেন এই তরুণ, যা ভবিষ্যতে দেশের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সাগর মজুমদারের মতে, বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমানে অনেক সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই সমাজের নানা অসংগতি এবং সমস্যার সমাধান হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন নতুন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ দেশকে সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাগর।
তরুণদের উদ্যোগ গুলোকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দেশের নীতি নির্ধারনী পর্যায় থেকে আরো স্বতস্ফুর্ত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার ক্ষেত্রে সকলকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বানও জানান । এছাড়াও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সুবিধা আরো বাড়ানোর প্রয়োজন সম্পর্কে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট স্টার্টআপ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে নয়, নতুন উদ্যোগগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহায়তা করতে হবে। তাহলেই স্টার্টআপগুলো সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা পালন করতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমগুলো একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে মনে করেন সাগর। এ সময়টায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের বিশ্লষণী ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং কর্মদক্ষতা অনেকাংশে বৃদ্ধি করে নেয়া সম্ভব।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রিকয়াল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেছেন সাগর। স্নাতক শেষে কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করতে চান। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার স্বপ্নের কথাও জানান তিনি।
নিজের স্বপ্নের পথে অবিচল থাকা এবং হাল না ছাড়ার মানসিকতাই একজন উদ্যোক্তাকে সফলতার শিখরে নিয়ে যায় বলে মনে করেন সাগর মজুমদার। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “জীবনে ব্যর্থতা আসবে৷ কিন্তু পেছনে ফিরে তাকানো যাবে না। আমরা সবাই-ই জীবনের বিভিন্ন সময় হতাশ হয়ে পড়ি। কিন্তু দিনশেষে নিজের কাজের উপর বিশ্বাস রাখাটা খুব প্রয়োজন। আর আমরা যাই করি না কেন, আমাদের সমাজ কে কিছু দেয়ার মানসিকতা ধারণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।