আমানতদারিতা’ – বিষয়ক হাদীছ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

(১) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হ’লে খেয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে; এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হ’লে অশ্লীলভাবে গালাগালি করে’।[1]

2– عَنْ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ رضى الله عنهما قَالَ قَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم خَيْرُكُمْ قَرْنِى، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ. قَالَ عِمْرَانُ لاَ أَدْرِى أَذَكَرَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ قَرْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً. قَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَخُونُونَ وَلاَ يُؤْتَمَنُونَ، وَيَشْهَدُونَ، وَلاَ يُسْتَشْهَدُونَ وَيَنْذِرُونَ وَلاَ يَفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ-

(২) ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল  (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার যুগের লোকেরাই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। অতঃপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা, অতঃপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা। ইমরান (রাঃ) বলেন, আমি বলতে পারছিনা, নবী করীম (ছাঃ) তাঁর যুগের পরে দুই যুগ নাকি তিন যুগের কথা উল্লেখ করেছেন। রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, তোমাদের পর এমন লোকেরা আসবে, যারা খেয়ানত করবে, আমানত রক্ষা করবে না; সাক্ষ্য দিতে না ডাকলেও তারা সাক্ষ্য দিবে; তারা মানত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবেনা। তাদের মধ্যে মেদওয়ালাদের প্রকাশ ঘটবে’।[2]

3– عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ رضى الله عنهماأَخْبَرَهُ قَالَ أَخْبَرَنِى أَبُو سُفْيَانَ أَنَّ هِرَقْلَ قَالَ لَهُ سَأَلْتُكَ مَاذَا يَأْمُرُكُمْ فَزَعَمْتَ أَنَّهُ أَمَرَكُمْ بِالصَّلاَةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ وَالْوَفَاءِ بِالْعَهْدِ وَأَدَاءِ الأَمَانَةِ. قَالَ وَهَذِهِ صِفَةُ نَبِىًٍّ-

Manual2 Ad Code

(৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ হ’তে আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, আবু সুফিয়ান আমাকে খবর দিয়েছেন যে, হিরাক্লিয়াস তাকে বলেছিল, তোমাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, নবী করীম (ছাঃ) তোমাদের কি কি আদেশ করেন? তুমি বললে যে, তিনি তোমাদের ছালাতের, সত্যবাদিতার, পবিত্রতার, ওয়াদা পূরণের ও আমানত আদায়ের আদেশ দেন। হিরাক্লিয়াস বললেন, এটাই নবীগণের ছিফাত’।[3]

4– عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ اضْمَنُوا لِى سِتًّا مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَضْمَنْ لَكُمُ الْجَنَّةَ اصْدُقُوا إِذَا حَدَّثْتُمْ وَأَوْفُوا إِذَا وَعَدْتُمْ وَأَدُّوا إِذَا ائْتُمِنْتُمْ وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ-

(৪) ওবাদা ইবনু ছামেত (রাঃ) হ’তে বর্ণিন, নবী করীম  (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা নিজেদের পক্ষ হ’তে আমাকে ছয়টি বিষয়ের যামানত দাও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের যামিন হব। ১. তোমরা যখন কথা বল, তখন সত্য বল; ২. যখন ওয়াদা কর, তা পূর্ণ কর; ৩. যখন তোমাদের কাছে আমানত রাখা হয়, তা আদায় কর; ৪. নিজেদের লজ্জাস্থানকে হেফাযত কর; ৫. স্বীয় দৃষ্টিকে অবনমিত রাখ এবং ৬. স্বীয় হাতকে অন্যায় কাজ হ’তে বিরত রাখ’।[4]

Manual7 Ad Code

5- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَرْبَعٌ إِذَا كُنَّ فِيكَ فَلاَ عَلَيْكَ مَا فَاتَكَ مِنَ الدُّنْيَا حِفْظُ أَمَانَةٍ وَصَدْقُ حَدِيثٍ وَحُسْنُ خَلِيقَةٍ وَعِفَّةٌ فِى طُعْمَةٍ-

(৫) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, যখন তোমার মাঝে চারটি জিনিস থাকবে, তখন  দুনিয়ার সবকিছু হারিয়ে গেলেও তোমার কোন সমস্যা নেই। ১. আমানত রক্ষা করা; ২. সত্য কথা বলা; ৩. সুন্দর চরিত্র   এবং ৪. হালার রূযী’।[5]

6– عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ مَا خَطَبَنَا نَبِىُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ قَالَ لاَ إِيمَانَ لِمَنْ لاَ أَمَانَةَ لَهُ وَلاَ دِينَ لِمَنْ لاَ عَهْدَ لَهُ-

Manual1 Ad Code

(৬)  হযরত আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাদেরকে এরূপ উপদেশ খুবই কমই দিয়েছেন,  যাতে একথাগুলি বলেননি যে, যার আমানতদারিতা নেই তার ঈমান নেই এবং যার অঙ্গীকারের মূল্য নেই তার দ্বীন-ধর্ম নেই’।[6]

Manual3 Ad Code

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code