আরবি ভাষার গুরুত্ব 

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual2 Ad Code

ধর্ম ডেস্কঃ বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ভাষাগুলোর মধ্যে আরবি ভাষার অবস্থান ষষ্ঠ নম্বরে। পৃথিবীব্যাপী প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ আরবি ভাষায় কথা বলে, যার মধ্যে প্রধানত সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো উল্লেখযোগ্য। গোটা পৃথিবীতে বর্তমানে ২২টি দেশের রাষ্ট্রভাষা আরবি। এ ছাড়া অন্য মুসলিম দেশগুলোতেও আরবি ভাষার ব্যবহার দিনদিন বাড়ছে।

জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসিসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অফিশিয়াল ভাষা আরবি। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠালগ্নে দাপ্তরিক ভাষা ছিল পাঁচটি। পরে আরব নেতাদের প্রচেষ্টায় ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে আরবিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সর্বশেষ আরবি ভাষার গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১২ সালের অক্টোবরে ইউনেসকোর নির্বাহী পরিষদ বৈঠকের ১৯০তম অধিবেশনে ১৮ ডিসেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস’ ঘোষণা করা হয়। দিবসটি আরব বিশ্বে গুরুত্ব ও জাঁকজমকভাবে পালন করা হলেও আমাদের দেশে গত তিন বছর ধরে পালিত হচ্ছে। উপমহাদেশে মুসলমানদের কাছে আরবি ভাষাকে মূলত ধর্মীয় ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরবি ভাষা ইসলামি জ্ঞানচর্চা ও মুসলিম সমাজ-সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমিই আরবি ভাষায় কোরআন অবতীর্ণ করেছি। যেন তোমরা উপলব্ধি করতে পারো।’ (সুরা ইউসুফ :২)।

Manual3 Ad Code

সমাজবিজ্ঞানী আল্লামা ইবনে খালদুন (রহ.) সেই সময়ের প্রেক্ষাপটের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ইসলাম আগমনের পর আরবের অনেকে হেজাজ ছেড়ে অনারবদের

Manual2 Ad Code

সঙ্গে মেলামেশা আরম্ভ করে। ফলে নবাগত আরবদের কথা শুনতে থাকায় প্রকৃত আরবদের শ্রবণশক্তিতে পরিবর্তন ঘটে। অথচ শ্রবণশক্তি ভাষা শেখার অন্যতম একটি উপকরণ। তখন বিজ্ঞজনেরা ভাবলেন, এমন অবস্থা দীর্ঘ হতে থাকলে আরবদের শ্রবণশক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। এতে কোরআন-হাদিস বোঝাও কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে তারা নিজেদের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে ভাষা শেখার মূলনীতি প্রণয়ন করেন। বিভিন্ন নিয়মনীতির আলোকে ভাষার সব শব্দ ও বাক্যকে অন্তর্ভুক্ত করে নেন।’ (আল মুকাদ্দিমা :৪২৬)।

Manual5 Ad Code

একজন মুসলমানের জীবনে আরবি ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা আরবি ভাষা শেখো। তা তোমাদের দীনের অংশ।’ (মাসবুকুজ জাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারফুল ইলমি আলা শারফিন নাসবি :১/৯)। পৃথিবীর যে কোনো ভাষার প্রধানত তিনটি বৈশিষ্ট্য। তা চিন্তাজগতের প্রথম সিঁড়ি, জ্ঞানজগতের আধার এবং যোগাযোগ, ভাষণ-বক্তব্য ও আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম। কিন্তু আল্লাহতায়ালা আরবি ভাষায় ওহি অবতীর্ণ করায় সব ভাষার মধ্যে আরবি এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী। আরবি ভাষায় সহজে পুরোপুরি সুস্পষ্ট ভাব বর্ণনা করা যায়। আরবি ভাষার এই বৈশিষ্ট্যের স্বীকৃতি রয়েছে পবিত্র কোরআনেও। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি।’ (সুরা শুআরা :১৯৫)।

Manual5 Ad Code

কোরআনের অনেকগুলো আলৌকিকত্বের মধ্যে একটি হলো তার ভাষা, যা চোখ দিয়ে দেখা যায় না, অন্তরে উপলব্ধি করতে হয়। আরবি ভাষা বোঝা ছাড়া এই আধ্যাত্মিকতা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। সর্বোপরি কোরআনের অলংকার, ছন্দ ও তথ্যের উপস্থাপন অলৌকিক। আল্লাহতাআলা কেয়ামত পর্যন্ত মানব জাতিকে এর চ্যালেঞ্জ করে রেখেছেন। কেউ এর মতো একটা সুরাও রচনা করতে পারবে না। আল্লাহতাআলা বলেন, ‘যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মতো একটি সুরা রচনা করে নিয়ে এসো।’ (সুরা বাকারা :২৩)।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code