আরবি মাসগুলোর নামের অর্থ ও নামকরণের কারণ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual3 Ad Code

ধর্ম: ইসলামের আগমনের আগে আরবের সমষ্টিগত কোনো তারিখ ছিল না। সে সময় তারা প্রসিদ্ধ ঘটনা অবলম্বনে বছর ও মাস গণনা করতো। আল্লাহর নবী ইবরাহিম (আ.)-এর সন্তানরা কাবা শরিফ নির্মিত হওয়ার আগে তার আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ঘটনা অবলম্বনে তারিখ নির্ধারণ করতো।

কাবা শরিফ নির্মাণের পর তারা বিক্ষিপ্ত হওয়া পর্যন্ত এর আলোকেই সাল গণনা করতেন। তারপর বনু ইসমাঈলের যারা হেজাজের তেহামা অঞ্চল থেকে বেরিয়ে অন্যত্র চলে যেত, তখন সেই গোত্র বেরিয়ে যাওয়ার দিন থেকে তারিখ গণনা করত।

Manual7 Ad Code

যারা তেহামাতে রয়ে যেত তারা বনি জায়েদ গোত্রের জুহাইনা, নাহদ ও সাদের চলে যাওয়ার দিন থেকে সাল গণনা করত। কাব বিন লুআইয়ের মৃত্যু পর্যন্ত এ ধারা চলমান ছিল। পরে তার মৃত্যুর দিন থেকে নতুনভাবে সাল গণনা শুরু হয়। এটি চলতে থাকে হস্তী বাহিনীর ঘটনা পর্যন্ত। ওমর (রা.) হিজরি নববর্ষের গোড়াপত্তন করার আগ পর্যন্ত আরবে ‘হস্তীবর্ষ’ই প্রচলিত ছিল। (আল-কামেল লিইবনিল আসির: ১/৯)

মহররম

ইসলামের আগমনের আগে আরবদের নিকট এই মাসে কোনো ধরনের যুদ্ধবিগ্রহ ও রক্তপাত করা হারাম এবং অবৈধ ছিল। তাই এই মাসকে মুহররমুল হারাম নামকরণ হয়েছে।

সফর

সফর শব্দটি সিফর থেকে নির্গত। এর অর্থ শূন্য হওয়া, জাহেলি যুগে সফর মাসে লোকেরা যুদ্ধের জন্য বের হয়ে গেলে ঘর শূন্য হয়ে যেত, তাই সফরের মাসের নাম সফর রাখা হয়েছে।

রবিউল আউয়াল

এই মাসের সময়কালে প্রকৃতিতে বসন্ত থাকে। ফসলভূমি ছুঁয়ে যায় বসন্তের আবহ। তাই এ মাসের নামকরণ হয়েছে রবিউল আউয়াল।

Manual2 Ad Code

রবিউস সানি

এই মাসের নামের অর্থ দ্বিতীয় বসন্ত। বসন্তের শেষার্ধে পড়ার কারণে রবিউল আখের বা শেষ বসন্তও বলা হয়।

জুমাদাল উলা

জুমাদা শব্দটি এসেছে জুমুদ থেকে। এর অর্থ জমে যাওয়া বা স্থবির হওয়া। যখন এই মাসের নাম রাখা হয়, তখন ঠাণ্ডার মৌসুম আরম্ভ হয়। কেননা শীতলাবহের কারণে তরল প্রদার্থ ও অন্যান্য প্রায় জিনিস জমাট বেঁধে যায়। এ জন্য এই মাসের নাম জুমাদাল উলা (প্রথম) রাখা হয়।

জুমাদাল উখরা

এই মাসের সময়কালে শৈত্যপ্রবাহের প্রচণ্ডতায় পানি পর্যন্ত জমে যেত। তাই এই মাসের নাম এভাবে রাখা হয়েছে।

রজব

রজব শব্দটির অর্থ সম্মান করা। আরববাসী এ মাসকে সম্মান করতো এবং শাহরুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর মাস বলতো, তাই এ মাসের নাম রজব বা সম্মানিত মাস রাখা হয়।

Manual1 Ad Code

শাবান

শাবান শা’ব শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এর অর্থ হলো বের হওয়া, শাখা-প্রশাখা হওয়া, প্রকাশ হওয়া, বিদীর্ণ হওয়া। যেহেতু এ মাসে বিপুল কল্যাণ প্রকাশিত হয়, মানুষের রিজিক উৎপাদন ও বণ্টিত হয় এবং তকদিরের ফয়সালাগুলোও বণ্টন করে দেওয়া হয়—তাই এ মাসের নাম শাবান রাখা হয়েছে।

রমজান

রমজান শব্দের মূল অর্থ হচ্ছে জ্বালানো-পোড়ানো। যেহেতু এই মাসে মুমিনের গুনাহগুলো জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ভষ্ম করে দেওয়া হয়, তাই এ মাসের নাম রমজান রাখা হয়।

শাওয়াল

শাওয়াল শব্দটি শাওল ধাতু থেকে নির্গত, অর্থ বাইরে গমন করা। এখানে আরববাসী নিজ ঘরবাড়ি থেকে ভ্রমণে বের হতো। তাই এর নামকরণ হয় শাওয়াল।

জিলকদ

‘জিল’ অর্থ ওয়ালা আর ‘কাদাহ’ অর্থ বসা, যেহেতু এ মাসও সম্মানিত একটি মাস। তাই আরবরা এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতো। সে হিসেবে এ মাসের নামকরণ।

Manual4 Ad Code

জিলহজ

জিলহজ শব্দটি হয়তো হাজ্জ থেকে নেওয়া হয়েছে। অর্থ একবার হজ করা অথবা শব্দটি হিজ থেকে নেওয়া হয়েছে। অর্থ বছর। যেহেতু এই মাস বছরের শেষাংশে আসে এবং এর দ্বারাই পূর্ণ বছরের সমাপ্তি ঘটে, তাই এই মাসের নামকরণ হয়েছে জিলহজ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code