আলু-ডাল-ডিমই ভরসা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual6 Ad Code

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে করোনা ও বন্যায় সবজি আবাদের বিপর্যয় ঘটেছে। সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে উপজেলাবাসীদের নির্ভর করতে হচ্ছে বাইরের জেলাগুলোর ওপর।

Manual3 Ad Code

এরই ধারাবাহিকতায় বাজারগুলোতে বাইরে উপজেলার বাইরে থেকে আসছে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় সপ্তাহে একদিনও সবজি কেনা এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য। তাই ডাল আর ডিমের ওপর ভরসা করছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ।

বন্যা শুরুর পর থেকেই সবজির বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। কিন্তু গত দু’সপ্তাহ ধরে সবজির দাম লাগামহীন হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রতিটি সবজিতে কেজি প্রতি দুই থেকে চারগুণ দামে কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।

Manual3 Ad Code

ফুলবাড়ী উপজেলার পৌর এলাকার সবজি বাজার, আটপুকুরহাট, আমডুঙ্গি হাট, বারাইহাট, মাদিলাহাট, লক্ষ্মীপুর বাজার, পুখুরীহাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি ৩৫-৪০ টাকার স্থানীয় জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়, ভারত থেকে আমদানীকৃত ৪৮-৫০ টাকায়, ১৫০ টাকার কাঁচামরিচ ২২০ টাকায়, ১৫০ টাকার আদা ২০০ টাকায়, ৮০ টাকার করলা ১০০ টাকায়, ৩২ টাকার আলু ৪০-৪৫ টাকায়, ৩৫ টাকার বেগুন ৫০ টাকায়, ২৫ টাকার মিষ্টি কুমড়া ৩৫ টাকায়, ১৫ টাকার পেঁপে ২৫-৩০ টাকায়, ৩০ টাকার কাঁকরোল ৪০ টাকায়, ২০-২২ টাকার কচুর বৈ ৩০ টাকায়, ৩০-৩৫ টাকার শসা ৫০ টাকায়, ৩২ টাকার বরবটি ৪০ টাকায়, ২৫ টাকার ঝিঙ্গা ৩৫ টাকায়, ৮০-৮৫ টাকার আদা ১০০ টাকায়, ৩৫ টাকার মূলা ৪৫ টাকায়, ৩৫-৪০ টাকার পটল ৫০ টাকায়, ২৫-৩০ টাকার ঢেড়স ৪০-৪৫ টাকায়, আকার ভেদে লাউ ২৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সবজি বাজারে বাজার করতে আসা উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের মহিদুল ইসলাম, চকচকা গ্রামের আব্দুস সালাম, ভিমলপুর গ্রামের আবুল কাশেম, আলাদিপুর গ্রামের ভবেন্দ্রনাথ বর্মন ও মধ্যগৌরীপাড়া গ্রামের রিপন গুহ বলেন, সবজিপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে করে নি¤œআয়ের মানুষের পক্ষে এগুলো কিনে খাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। বাজারে প্রচুর পরিমাণ মজুত থাকার পরও কেন দাম দিনদিন বেড়েই চলেছে এটা বোধগম্য নয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কোন হাত আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা প্রশাসনের দরকার। বাজার মনিটরিং না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

Manual8 Ad Code

মহদিপুর গ্রামের রিকশা-ভ্যান কারিগর মোশাররফ হোসেন বলেন, সবজির বাজারে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কাচামরিচ তো কিনে খাওয়ার কথা চিন্তাই করা যায় না। তাই আলু অথবা ডাল ভর্তা আর ডিম ভাজি দিয়েই সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় পারতে হচ্ছে।

ফুলবাড়ী বাজারের সবজি বিক্রেতা হারুন উর রশীদ বলেন, বন্যা আর অতিবৃষ্টিতে উপজেলার অধিকাংশ সবজি আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, অন্য জেলা ও উপজেলা থেকে সবজি এনে চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে, তাই দাম একটু বেশি।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারসহ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হলে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code