আয়না ঘরের গল্প

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: গুমে থাকতে তিন বেলায় খুব বাজে দুর্গন্ধযুক্ত বাটিতে পঁ-চা খাবার দেয়া হত। মনে হতো কেউ খেয়ে মাখিয়ে আমাদের দিয়েছে। প্রথম প্রথম খেতে পারতাম না। পরে বাধ্য হতাম।

Manual4 Ad Code

দেখলাম যে রোজা রাখলে দুপুরের খাবারের বদলে ছোলা-বুট দেয়। মাঝে মাঝে সাথে একট পেঁয়াজু বা অন্য কিছু থাকে। আর সকালের খাবারের বদলে রাতেই দুইটা রুটি দেয়। তাই আগেই বলে রাখতে হয়।

Manual7 Ad Code

তো আমি করলাম কি, লাগাতার রোজা রাখার চেষ্টা করতাম। একে তো সওয়াব। তার সাথে সাথে তিন বেলা তিন রকমের খাবার। আর ওই দুর্গন্ধযুক্ত বাটি থেকে কিছুটা মুক্তি। ইফতার করতাম, আর রাতেই সেহরীর জন্য দেয়া রুটি খেয়ে নিতাম। মাঝে মাঝে রুটি এত বা-জে পড়তো, মনে হতো যেনো কেমিক্যাল মিশিয়ে দিয়েছে।

একবার এমন হয়েছে যে, রুটি বাদ, সেহেরীর জন্যও ভাত-তরকারি। পঁ-চা মাছ দিলে আমি সেটা খেয়ে নিতে পারতাম। কিন্তু সেটাও বাদ দিয়ে মাছের মাথার কাটা দিয়ে কি একটা বিভ-ৎ-স তরকারি দিত। তাও আবার রাতে দুইবার। দ্বিতীয়টা সেহেরীর জন্য। আমি একবার আইয়ামে বীজের তিন রোজা রাখার জন্য টানা তিনদিন শুধু ইফতার করেছি, আর কিছু খাই নি। শেষ দিন বাধ্য হয়ে জীবনের প্রথমবারের মত ওই নোং-রা ভাতগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করে, এরপর খেয়েছি – পানি মিশিয়ে। কী যে স্বাদ লেগেছিল!

Manual8 Ad Code

তাদের ক্যান্টিনের যেসব মাছ বিক্রি হতো না। সেগুলো ভেজে আমাদেরকে দিতো। আমাদের জন্য পার মিল যত টাকা বরাদ্দ ছিল, সেগুলোর ১০ ভাগের এক ভাগও আমাদের জন্য ব্যবহার করতো না। সেটা তারা নিজেদের পকেটেই ঢুকাতো।

Manual6 Ad Code

এরপরও বেশি বেশি রোজা রাখতে চাইলে এদের অনেকে গাল-মন্দ করতো। একবার একজন বলেছিলো – আমরা কি মুসলমান না? আমরা জানি না রোজা কি, কয়ডা রাখতে হয়? – এই টাইপের কথা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code