

মির্জা আবুল কাসেম:আসন্ন ৭ মে, লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রেস কনফারেন্সে কথা বললেন জামি আলী, জানালেন বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা।ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত হয়ে মেয়র প্রার্থী জামি আলী উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দিলেন।শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির তত্ত্বাবধানে পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে মেয়র পদপ্রার্থী জামি আলী এ গুরুত্বপূর্ণ প্রেস কনফারেন্স করেন।প্রেস কনফারেন্সের শুরুতে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির জেনারেল সেক্রেটারি আব্দুল বাছির সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের এবং টাওয়ার হ্যামলেটস ইনডিপেনডেন্ট পার্টির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র পদপ্রার্থী জামি আলী সহ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির অন্যান্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।তারা হলেন- নুরুল মালেক, কবির হোসেন, ইউয়ান হরটন, কিটোন আহমেদ, লিটন আহমদ, মিজানুর রহমান, জাহিদ আবু হায়াত প্রমুখ।তাছাড়া ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য সহ অন্যান্য বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এতে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।
উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, স্থানীয় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন।বিশেষ করে মেয়র প্রার্থী জামি আলীকে ঘিরে প্রশ্নের তীব্রতা ছিল লক্ষণীয়। তবে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাস ও সাবলীলতার সঙ্গে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তার পরিকল্পনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।জামি আলী একজন ব্যারিস্টার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশায় যুক্ত এবং জনকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন।
উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি :
মেয়র প্রার্থী জামি আলী তার নির্বাচনী পরিকল্পনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।লন্ডনের খালগুলোকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ যার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং মানোন্নয়নের কথা বলেন তিনি।আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।
তিনি সামাজিক সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন।
যুবসমাজের অবক্ষয় রোধে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ভ্যাপিং ও মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা ও কার্যকর নীতি গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স প্রদানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।তিনি বলেন, অনেক তরুণ উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। এই সমস্যার সমাধানে একটি সুসংগঠিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
নতুন রাজনৈতিক যাত্রার ব্যাখ্যা:
প্রেস কনফারেন্সে অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থী পূর্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদেরকে প্রশ্ন করা হলে কেন তারা নতুন একটি দলে যোগ দিয়েছেন, উত্তরে তারা জানান—জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং জবাবদিহিতার অভাবই তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।তারা দৃঢ়ভাবে বলেন, নতুন প্ল্যাটফর্মে তারা জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং লন্ডনের সার্বিক উন্নয়নে বাস্তবধর্মী অবদান রাখতে চান।সার্বিকভাবে, এই প্রেস কনফারেন্সে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির প্রার্থীরা তাদের পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এবং একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করেন এবং জনমনে নতুন প্রত্যাশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল এনআরবি ইউকে এর সম্পাদক এ রহমান অলি, আইঅন টিভি, যমুনা টিভি ও ইউকে বিডি টিভির এম এ মোমিন, বাংলা টিভির লন্ডন ব্যুরো চিফ আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ, ব্রিজবাংলা ২৪ এর সম্পাদক শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, এটিএন বাংলা ও ভয়েস অব টাওয়ার হ্যামলেটসের মোঃ সুয়েজ মিয়া, এলবি ইকো নিউজ ও জগন্নাথপুর টাইমস নিউজ এডিটর মির্জা আবুল কাশেম, জে টাইমস্ টিভি ও ইউকে বাংলা গার্ডিয়ানের এস কে এম আশরাফুল হুদা, ২৬শে টিভির চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ চৌধুরী, বাংলা সংলাপের সাজ্জাদ হোসাইন, রেড টাইমস্ এর ইমদাদুন খানম, বাংলা পেইজ ২৪.কম, ইক্করা বাংলা ও নিউজ২৪টিভির খালেদ মাসুদ রনি, গ্রীন অনলাইন টিভির আব্দুল কাদির জিলানী, ডায়াল সিলেট টিভির সোহেল আহমেদ, সিলেটভিউ ২৪ এর ইউকে প্রতিনিধি মুন্না মিয়া, জগন্নাথপুর টাইমসের আব্দুর রহিম।