

বিশেষ প্রতিবেদন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অঞ্চলের বাজারে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পোশাক রফতানি বেড়েছে বাংলাদেশের। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন বেশি।
ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব মন্দায় সার্বিকভাবে ইউরোপের ক্রেতারা অন্যান্য দেশের পোশাক পণ্য কেনা কমিয়ে দিলেও সেই তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক কেনা কমায়নি। গত বছরের জানুয়ারি-অক্টোবর এই ১০ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতারা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি পোশাক কিনেছেন।
পরিসংখ্যান সংস্থাটি আরও বলছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্ব থেকে ৮৬ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছে; যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। এই ১০ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে পোশাক নিয়েছে ১৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের; যা ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক আমদানির উৎসের অবস্থানে রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পোশাক আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেওয়া কমায়নি। বাংলাদেশের পোশাকের মান ও সবুজ কারখানা গড়ে তোলা তথা অবকাঠামগত উন্নতির কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রতি ঝোঁক তাদের আগের মতোই আছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অক্টোবর পর্যন্ত অন্য যে কোনও দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে তারা বেশি পোশাক নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশ থেকেও পোশাক আমদানি কমিয়েছে।