সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়েছিল যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস, ৬৯ ঘণ্টার জীবনচক্র পেরিয়ে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে শক্তিশালী থেকে অতি-শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত গিয়েছিল সেটি। কিন্তু বুধবার দুপুরে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর থেকে ক্রমশ শক্তি হারাতে শুরু করে ঝড়টি। মৌসম ভবন জানিয়েছে, শক্তি ক্ষয় করতে করতে বৃহস্পতিবার ভোরেই ফের গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে ইয়াস। অর্থাৎ মৃত্যু হবে ইয়াস-এর। ভারতে ওড়িশা রাজ্যের উত্তর উপকূলে আছড়ে পড়ার পরপরই শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস।
Manual2 Ad Code
ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওড়িশার উত্তর উপকূলে আছড়ে পড়ে ইয়াস। সেই সময় এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার বেগ কখনো কখনো ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটারেও পৌঁছায়। তবে এরপর ক্রমেই শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে ঝড়টি।
Manual7 Ad Code
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ইতোমধ্যে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে।
বঙ্গোপসাগরে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে শুরু হওয়া নিম্নচাপ ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে সোমবার সকালে পরিণত হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-এ। তার পর থেকে ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে প্রথমে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও তার পর অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় ইয়াস। বুধবার সকাল ৯টা ১৫ নাগাদ ওড়িশার বালেশ্বরের দক্ষিণে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে এই ঘূর্ণিঝড়।
স্থলভাগে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-এর। ধীরে ধীরে শক্তি হারাচ্ছে ইয়াস। বুধবার রাতের মধ্যে শক্তি হারিয়ে ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বলেই জানিয়েছে মৌসম ভবন।
ঝাড়খণ্ডে বুধবার (২৬ মে) দুপুর পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) পৌঁছবে ঝাড়খণ্ডে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে এক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে এক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সবাইকে ত্রাণ সহযোগিতা পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বোলেণ, পশ্চিম বঙ্গে এখন পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগরস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১৫ লাখ মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছেন, সেখানে স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮ টা ৩৫ মিনিটের দিকে বান আসতে পারে, যা আগামীকালও থাকবে। এসময় পাঁচ ফুটের মতো জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
Manual3 Ad Code
এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ইয়াস এর কারণে আগামীকাল পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। আগামীকাল পর্যন্ত সমুদ্রের অবস্থা উত্তাল থাকবে।
উড়িষ্যা প্রশাসন জানিয়েছে, বালেশ্বর থেকে ময়ুরভঞ্জের দিকে যাবে ইয়াস। তবে বিকেল পর্যন্ত বালেশ্বরের উপরেই অবস্থান করবে এই ঘূর্ণিঝড়। ওড়িশার ত্রাণ কমিশনার জানালেন, স্থলভাগে ইয়াসের হাওয়ার গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১২০-১৪০ কিলোমিটার। তবে বালেশ্বর থেকে ময়ূরভঞ্জে ইয়াস ঢুকবে ১০০-১১০ কিলোমিটার গতিবেগে। তারপর ধীরে ধীরে কমবে ঝড়ের গতিবেগ।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, আগামী তিন ঘণ্টায় উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে বাঁক নেবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। সেসময় এর শক্তি আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার মধ্যরাতের মধ্যে ঝড়টি ঝাড়খণ্ডের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এর প্রভাবে সেখানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঝড়ের কারণে পূর্ব ও পশ্চিম সিংভূমে সতর্কতা জারি হয়েছে।
Manual7 Ad Code
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের দাপটে ওড়িশায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে পূর্বাভাসের তুলনায় ঝড়টি দুর্বলভাবে আছড়ে পড়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের বিশেষ ত্রাণ কমিশনার প্রদীপ জেনা।