উলিপুর গবাদি পশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস : আতঙ্ক কৃষক

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) :
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সর্বত্রই গবাদি পশুর ভাইরাস জনিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি)রোগের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ রোগের নিদিষ্ট কোন প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন না থাকায় দ্রুত এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খামারী ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি গরু মারা যাওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার পরামর্শ দিচ্ছেন।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মশা মাছির মাধ্যমে ভাইরাস জনিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ আক্রান্ত গরুর শরীর প্রথমে ফুলে গুটি-গুটি হয়। কয়েকদিন পর গুটিগুলো ফেটে রস ঝড়তে থাকে। ফলে ফেটে যাওয়া স্থানেই ক্ষত সৃষ্টি হয়ে গরুর শরীরে প্রচন্ড জ্বর এবং খাবার রুচি কমে যায়। জ্বরের সাথে নাক ও মুখ দিয়ে লালা বের হয়। আক্রান্ত গাভীর দুধ খেলে বাছুর সংক্রমিত হওয়ার আশংকা থাকে। সেই সাথে আক্রান্ত গরুতে ব্যবহার করা সিরিঞ্জ এবং গরুর পরিচর্যাকারীর কাপড়ের মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।
অভিযোগ উঠেছে, এ ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য বাজারে পিনিসিলিন জাতীয় ওষুধের সংকট থাকায় তা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আক্রান্ত গবাদি পশুকে বাধ্য হয়ে সেফটি অ্যাক্সন জাতীয় এন্টিবায়োটিক বেশি দামে কিনে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলেও জানান পশু চিকিৎসকরা।
উপজেলার রামদাস ধনিরাম গ্রামের কৃষক রোস্তম আলী জানান, তার একটি গাভি ও ৩টি বকনা বাছুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি বাছুর মারা গেছে। আক্রান্ত গরুগুলো নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় ভূগছেন। এছাড়াও উপজেলার তেতুলতলা গ্রামের নুর ইসলামের একটি গাভী, কালিরপাঠ গ্রামের জগদীশ চন্দ্র বর্মনের একটি গাভী, হোকডাঙ্গা গ্রামের ফজলুল হকের একটি ষাঁড়, নতুন অনন্তপুর গ্রামের সাজু মিয়ার একটি গাভী ও একটি বাছুর, গাবের তল গ্রামের মোকছেদ আলীর একটি বাছুর, মুন্সিপাড়া গ্রামের সুমন মিয়ার একটি গাভী, রাজবল্লভ গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের একটি ষাঁড়সহ উপজেলায় বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। অন্তত কয়েকশ গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত এসব গরুগুলো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভূগছেন বলেও জানান ভূক্তভোগি কৃষকরা।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জন তানভীক জাহান বলেন, গবাদি পশুর ভাইরাস জনিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ যেহেতু মশা-মাছি থেকে ছড়ায় সেজন্য আক্রান্ত গরু থেকে সুস্থ্য গবাদি পশুগুলো আলাদা করে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেইসাথে গবাদি পশু থাাকার জায়গা সব সময় শুকনো রাখাসহ মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে খামারী ও কৃষকদের।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code