একজন কীর্তিমান মানুষ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual7 Ad Code

রুমেল এম এস পীর : একজন ।কীর্তিমান মানুষ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিলো ৪৩ বছর। ছিলেন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসের কর্মকর্তা, তুখোড় কূটনীতিক। যুদ্ধের শুরুতেই তিনি পাকিস্তান সরকারের গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করেন, লোভনীয় সরকারী চাকুরী থেকে ইস্তফা দেন এবং মুজিবনগর সরকারের পক্ষে দাঁড়ান। তিনি অসমান্য কূটনৈতিক দক্ষতায় পৃথিবীর ৪০ টি দেশের কাছ থেকে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি এনে দেন। তিনি এক কিংবদন্তী, দেশের কৃতি সন্তান এবং সিলেটবাসীর গৌরব। আজ তার মৃত্যুবার্ষিকী, এককালের চৌকশ কূটনীতিক এবং পরবর্তীতে সফল রাজনীতিবীদ এই মানুষটি ২০০১ সালের ১০ জুলাই ৭২ বছর বয়সে মারা যান।

কর্মজীবনে তিনি দেশকে ভীষণ ভাবে সেবা দিয়েছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় তিনি ছিলেন ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে ভারতের লোকসভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ভাষণ দেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। যার ফলে বিশ্বে আমাদের স্বাধীনতার স্বপক্ষে জোড়ালো জনমত তৈরি হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আমেরিকা, জার্মানী, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার খ্যাতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছিলো বিস্তৃত। ১৯৭৫ সালে যখন বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তখন তিনি জার্মানীতে। সেই সংকটকালে তিনি সাহসিকতার সাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে জার্মানীতে আশ্রয় দেন ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। ১৯৮৪-৮৫ সালে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত মহান জাতীয় সংসদে স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে অগ্রণীদের মাঝে তিনিও একজন।

Manual6 Ad Code

২০১৮ সালে মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পদক’ (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়। তার জন্ম হয়েছিলো ১৯২৮ সালে, সুনামগঞ্জ জেলার দরগাপাশা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার পিতা আব্দুর রশীদ চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত ভারতের আসাম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য আর মা সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য। সাত ভাই-বোনের মাঝে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ছিলেন সবার বড়। তিনি সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে মেট্রিক পরীক্ষা দেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। তিনি ইংল্যান্ড এবং আমেরিকা থেকেও উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৫৩ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগদান করেন।

Manual2 Ad Code

সিলেটের সকল মানুষের কাছেই হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এবং তার পরিবার বিশেষ সম্মানের সম্পদ। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সড়কপথে সিলেটে প্রবেশের মুখেই যে চত্বর, সেটাকে ‘হুমায়ুন রশীদ চত্বর’ নামকরণ করায় তার নাম অমর হয়েছে। মৃত্যুদিবসে তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আল্লাহ তার পরকালীন জীবনকে শান্তিময় করুণ…।

লেখক : শিক্ষক, লিডিং ইউনিভারসিটি সিলেট ।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code