এনায়েতগঞ্জ বাজারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

ডেস্ক নিউজ :: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার এনায়েত গঞ্জ বাজার। যা ইনাতগঞ্জ বাজার নামে পরিচিত।

১৬৯২ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের গভর্নর ইব্রাহিম খান দ্বিতীয় সাদেক খান এর পর,সিলেট সরকারের ফৌজদার অফেসের একজন সরকার ছিলে এনায়েত উল্লাহ।
তিনি ছিলেন মোগলের একজন ফৌজদার বা বাংলার সিনেট সরকার হিসেবেও পরিচিত।
সে-সময় এনায়েত উল্লাহর নাম অনুসারে একটি ছোট্ট শহর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যা (বর্তমানে একটি ইউনিয়ন পরিষদ)।

এনায়েত গঞ্জ বাজার এক সময় এশিয়ার পাট ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। এবং জাহাজঘাটি বা সমুদ্র বন্দরও ছিল। তখন বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বানিজ্য করার জন্য এই ইনাতগঞ্জ বাজারে ভিড় জমাত। মানুষ এখান থেকে জাহাজে করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গমন করত। এখনও ঐ জাহাজ ঘাটের নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায় এনায়েতগঞ্জ হাসপাতালের সামনে।

Manual7 Ad Code

কালের বিবর্তনে হারিয়ে গিয়েছে অনেক কিছুই, সপ্তদশ শতাব্দীর মোগল সাম্রাজ্যের অধীনস্থ বর্তমান সিলেট অঞ্চলের অন্যতম একজন ফৌজদার ছিলেন আফগান পুশতুন ইনায়েতউল্লাহ খাঁন। যার নামানুসারে এনায়েতগঞ্জ বাজারের নামকরণ করা হয়।
এবং যেখানে ছিল ভারতের মাড়ুয়ারীর বিশাল এক পাটের মিলস।
(বর্তমানে সেইস্থানে ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত)।
কালের বিবর্তনে হারিয়ে গিয়েছে ইতিহাস ও একসময়ের বানিজ্যিক অঞ্চল।

আমাদের এই এনায়েতগঞ্জ যেখানে বড় বড় জাহাজ এসে নোঙর ফেলতো আজ সেখানে ছোট কোনো নৌকাও দেখা দুরূহ। ইনাতগঞ্জ বাজার আমাদের শত বছরের ঐতিহ্য।
আজ সময় এবং আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে এই বাজারটিতে হয়েছে অনেক সংস্কায়ন। নবীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী পেড়িয়ে জগন্নাথপুর উপজেলায় চলে যাওয়ায় ইনাতগঞ্জ বাজারটি বিশাল বড় হয়েছে সেই বাজারে ছিল তখনকার জাহাজ ঘাট।

Manual1 Ad Code

আমাদের উচিৎ ইতিহাসকে লালন করা, ইতিহাসের চর্চা করা। ইনাতগঞ্জের ঐতিহ্যকে রক্ষা করা, নবীগঞ্জ ও জগন্নাথপুর এর এই অঞ্চলটুকু নিয়ে ইনাতগঞ্জ পৌর সভা ও থানা গঠন করার যোগ্যতা রাখে এই ইনাতগঞ্জ বাজার।
কিন্তু আজ অজ্ঞতাবশত কিছু লোক নিজেদের সুবিধার স্বার্থে ইনাতগঞ্জ বাজারটিকে দুই ভাগে ভাগ করে আলীগঞ্জ নাম করন করতে চাচ্ছে। এটা নিতান্তই বাজারটির ঐতিহ্য ও সুনাম নষ্ট করা, আর কিছু নয়!
ইনাতগঞ্জ বাজার নবীগঞ্জ এবং জগন্নাথপুর- এই দুই থানার দুই সীমান্তবর্তী
এই বাজারটি নবীগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার সবার ঐতিহ্য আর ভালবাসার নাম। আমরা এর ঐতিহ্য নষ্ট হতে দিবো না। এই নামে মিশে আছে এলাকার সোনালী অতীত।

এনায়েত খাঁনের প্রকৃত বংশধরেরা এলাকার মোস্তফাপুর গ্রামের পাঠান বাড়িতে বসবাস করছেন।
নরওয়ে প্রবাসী ইসাক ইমন খাঁন ( মুসলিম খাঁন ) , আমেরিকা প্রবাসী মুহিদ মুসা খাঁন ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী পাঠান আল-মাহদি খাঁন।এরা তিন ভাই ইনাতগঞ্জ এলাকার অত্যন্ত সুপরিচিত মুখ।
এনায়েতউল্লা খানঁ এর আওলাদ >দৌলত খাঁনের পুত্র মারফাত খাঁনের ১ম পুত্র আলম খাঁন ছিলেন একজন মেধাবী ছাএ, তার অকাল মৃত্যুর কারনে তিনি কোন ছেলে সন্তান রেখে যেতে পারেননি।
২য় সন্তানের নাম সোনাওর খাঁন যার পরিবার বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রবাস করছেন।
৩য় সন্তান ছিলেন, সিরাজ খাঁন ওরফে নবাব খাঁন যার তিন পুত্রের নাম উপরে বর্ণনা করা হয়েছে।
মারফত খাঁনের কনিষ্ট পুত্র ইকবাল খাঁন এখনও বেছে আছেন, এবং আমরা চাইলে তার কাছে বিস্তারিত আরও তথ্য জেনে নিতে পারি।

Manual1 Ad Code

তাছাড়াও পাঠানবাড়িতে এনায়েত খাঁনের বাকি আওলাদদের মধ্যে সমুজ খাঁন, ফিরোজ খাঁন, নাসির খাঁন এবং লয়লুছ খানঁ প্রমুখ।

Manual3 Ad Code

এনায়েত খাঁনের বংশের ভবিষ্যত প্রজন্ম হিসেবে আমরা এলাকাবাসি এবং বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এই বাজারটির নাম এবং ইতিহাসটির প্রকৃত মুল্যায়ন করার জন্য।
ইনাতগঞ্জ আমাদের সকলের বাজার, এলাকাবসীর অস্তিত্ব এবং গরিমা।
ইতিহাস হচ্ছে অম্লান যা পরিবর্তনীয় নয় এবং যার লালন করা আমাদের সবার কর্তব্য, এবং সেটার পরিবর্তন করা পৃথীবির সব দেশেই দন্ডনীয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code