

বিশেষ প্রতিবেদন: দেশের নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা
উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা করছে সরকার। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে
শিগগিরই সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মনিটরিং ব্যবস্থা
জোরদার করা হবে। আর কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে
নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনও
শিক্ষক কোচিংয়ে জড়িত হলে প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ
(এমপিও) বন্ধ করে দেওয়া হবে। মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং করে নেওয়া হবে
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল
বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনবল সবচেয়ে বেশি বিকেন্দ্রীকরণ করা।
৩০ হাজার মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৭ হাজার
সরকারি। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি। আমরা টাকা দেই কিন্তু
ব্যবস্থাপনার মধ্যে আমরা হাত ঢোকাতে পারি না। কিছু করলেই মামলা করা
হয়। এখানে টেকনিক্যাল প্রবলেম (সমস্যা) আছে। টাকা সরকারের, দায়
মন্ত্রণালয়ের, দোষ মন্ত্রণালয়ের অথচ পরিচালনায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ
নেই। বাস্তবতা হচ্ছে—শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিরেক্ট
পলিসি ইমপোজ করতে পারে না, যতক্ষণ তারা নিজেরা না করে। এখানে
কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও প্রয়োজন
নেই সেসব প্রতিষ্ঠানে তা বন্ধ করে দিতে হবে। আর যাদের এমপিও
প্রয়োজন তাদের তা দিতে হবে।’
দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২২ হাজার
১৭৪টি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বর্তমান সরকারের সময়ে গত ১৫ বছরে
নতুন করে এমপিওভুক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৮০৭টি। এসবের মধ্যে রয়েছে
স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। এছাড়া নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সারা
দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রতি মাসে বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। অথচ
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যবস্থাপনা সরকারের
নিয়ন্ত্রণের বাইরে।