

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাজিরগাঁও (নছরতপুর) গ্রামের বিধবা চিরই শব্দকর। ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তার বয়স ৭৩ বছর। কিন্তু ছেলে মেয়ে সহ এলাকাবাসীর দাবী তার বয়স বর্তমানে ১০০ এর কোঠা ছুয়েঁেছ। এই অশীতিপর বৃদ্ধার ভাগ্যে জুটেনি সামাজিক নিরাপত্তার বিধবা কিংবা বয়স্ক ভাতার কার্ড।
৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের জননী চিরই শব্দকরের স্বামী অতুল শব্দকর মারা গেছেন আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে। তারও প্রায় ৫/৬ বছর আগেই তার বড়মেয়ে নিঃসন্তান মীরা শব্দকর স্বামীহারা হলে পিত্রালয়ে বসবাস শুরু করেন। স্বামী হারিয়ে অন্যের বাড়ীতে দিন মজুরী করে মীরা জীবন ধারন করলেও বিধবা ভাতার কার্ড তার ভাগ্যেও জুটেনি।
স্থানীয়রা জানালেন তিন ছেলের মধ্যে বড় ও ছোট ছেলের অবস্থা অনেকটা ভালো হলেও তারা মায়ের কোন খোঁজ খবর নেয় না। মেঝো ছেলে বারীন্দ্র শব্দকরের ইচ্ছে থাকলেও রিক্সা চালিয়ে যা রোজগার হয় তাতে নিজের পরিবারের ভরনপোষণ চালাতে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। এমনি অবস্থায় বয়োবৃদ্ধ চিরই শব্দকরের জীবণ সায়াহ্নে ঠাঁই হয় বড় মেয়ে মীরার কাছে। কিন্তু তারা আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকার কারণে তার কাপড়-চোপড়ও ঠিক মত কেনা হয়না। অন্যের বাড়ীতে কাজ করে যা পায় তাদিয়ে কোনমতে চলছে মামমেয়ের দিন যাপন।
স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের বলেও বিধবা ভাতা বা বার্ধক্য ভাতার কার্ড পাননি বৃদ্ধা চিরই শব্দকর কিংবা তার মেয়ের।
আর কত বয়স হলে চিরই শব্দকরের ভাগ্যে বিধবা বা বার্ধক্য ভাতা জুটবে, এই প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ চিরই শব্দকরের মেয়ে উষা শব্দকরও। তিনি বলেন, বারবার ধর্ণা দিয়েও তার মায়ের বয়স্ক ভাতার কার্ড মেলেনি। পাননি বড় বোন মীরাও বিধবা ভাতার কার্ড।
এ বিষয়ে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলার আনসার শোকরানা মান্না বলেন, চিরই শব্দকরকে বার্ধক্য ভাতার কার্ড দেয়ার ব্যাপারে তার পরিবারের লোকজন আমার কাছে আসলেও বয়োবৃদ্ধতার কারনে বয়স্ক ভাতা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান করোনা সংকট নিরসনের পর তার বিধবা মেয়েকে আমরা বিধবা ভাতা ব্যবস্থা করে দেবো।
কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, অতিশীপরবৃদ্ধা চিরই শব্দকর আজও সরকারি ভাতার সুযোগ-সুবিধা পায়নি এসংবাদে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তিনি
চিরই শব্দকর যাতে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা সমাজসেবা বিভাগ ও পৌর মেয়রের সাথে কথা বলবেন বলে আশ্বাষ দেন।