করোনার অ্যান্টিবডি পরীক্ষা কতটা কার্যকর

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ  করোনার টিকা তো নিয়েছেন অনেকেই, তাতে কি একে প্রতিরোধের শক্তি তৈরি হয়েছে রক্তে? রক্তে কি করোনার অ্যান্টিবডি আছে? এ প্রশ্ন ঘুরছে ঘরে ঘরে। অনেকে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করাচ্ছেন। দেখতে চাচ্ছেন করোনার বিরুদ্ধে লড়তে শরীর কতটুকু প্রস্তুত?

Manual7 Ad Code

অনেক দেশ করোনার টিকা নেওয়া পর্যটকদের অ্যান্টিবডি টেস্ট করানো বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। অনেক অফিসও কর্মীদের কাজে যোগ দেওয়ার আগে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার রিপোর্ট দেখতে চায়।

Manual7 Ad Code

কিন্তু অ্যান্টিবডি পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই পরীক্ষা কি সত্যিই করোনা সংক্রমণের প্রতিরোধশক্তির নির্দেশক হয়ে উঠতে পারে? দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বা ইমিউন সিস্টেমের অংশ হচ্ছে অ্যান্টিবডি। জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে অ্যান্টিবডি। এগুলো প্রোটিন দিয়ে তৈরি। জীবাণু শরীরে হামলা চালালে এরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। যদি সেই জীবাণুর অ্যান্টিবডি আপনার শরীরে না থাকে, তাহলে তার হামলার পর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এর জন্য একটা সময় লাগে। টিকা দেওয়া থাকলে সেই রোগের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে থাকে, শরীর আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে। ফলে সেই জীবাণু শরীরে ঢুকলেই তাকে চিনতে পেরে অ্যান্টিবডি চলে আসে। সাধারণত আপনার রক্তে থাকা কোনো একটি রোগের অ্যান্টিবডি আরেকটির জীবাণুর চেহারা চিনতে পারে না।

কিছু রোগের ক্ষেত্রে শরীরে একবার অ্যান্টিবডির জন্ম হলেই হলো, সারাজীবন সেই রোগটি আপনাকে ধরতে পারবে না। আবার কিছু রোগে অ্যান্টিবডি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলে যায়, প্রতিরক্ষাশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আসলে একটি নির্দিষ্ট সময় পেরোনোর পর এক্ষেত্রে রক্ত থেকে অ্যান্টিবডিগুলো উধাও হয়ে গেছে। অ্যান্টিবডি থাকা এবং আগামীতে করোনা সংক্রমণ থেকে কত দিনের জন্য সুরক্ষা মিলবে, তা নিয়ে অবশ্য আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ব্রিটিশ সংস্থা ককরেনের সমীক্ষায় জানা গেছে, মাত্র ৩৮ শতাংশ অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফল ঠিকঠাক। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলছে, অ্যান্টিবডি পরীক্ষা গুরুত্বহীন। কারণ, করোনা সংক্রমণ থেকে কতটা সুরক্ষা পাওয়া যায়, তা এর মাধ্যমে স্থির করা যায় না, বা সেটা অনুচিতও। এ ছাড়া ভুল ফলাফল আসার আশঙ্কাও রয়েছে। এটিও চিন্তার বিষয় বটে। এখন যদি কারও ভুল রেজাল্ট আসে, তাহলে তিনি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধি মানার ক্ষেত্রে শৈথিল্য দেখাতে পারেন। এতে সংক্রমিত হয়ে পড়তে পারেন ওই ব্যক্তি। আবার এমনও হতে পারে, অ্যান্টিবডি পজিটিভ আসার পর তিনি সংক্রমিত হলেন, কিন্তু উপসর্গহীন, তাতে করে অজান্তেই তিনি বহু মানুষের করোনার কারণ হয়ে উঠবেন। এর মধ্যে কারও প্রাণও যে যাবে না, তা বলা যায় না। অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করাতে পারেন; তবে ফলাফল পজিটিভ এলে একে চূড়ান্ত বলে ধরবেন না। মনে করবেন যেন এমন কোনো পরীক্ষাই হয়নি আপনার। কোনো রকম শৈথিল্য দেখালে করোনা হয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে সরবেন না।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code