করোনা, ঘূর্ণিঝড়ে জনগণের পাশে সেনাবাহিনী

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দেশের সব জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রামপর্যায়েও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে কাজ করে যাচ্ছেন সেনাবাহিনীর সাড়ে ৭ হাজারেরও বেশি সদস্য। বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবা, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলতে মানুষকে উত্সাহিত করা, ত্রাণ সহায়তা প্রদানেও মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন সেনাসদস্যরা। করোনার মধ্যেই এসেছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। ফলে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সাহযোগিতা দেওয়া এমনকি ভেঙে যাওয়া বাঁধ তৈরিতেও কাজ করছেন সেনাসদস্যরা।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, জনগণকে নিরাপদ রাখতে দিন-রাত কাজ করছেন সেনাসদস্যরা। করোনার সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে। করোনা ভাইরাস পরাজিত হবেই এবং আমরা জনগণকে রক্ষা করতে পারব।

 

সেনাপ্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ও দিকনির্দেশনায় সেনাবাহিনী কাজ করে যাবে। সম্প্রতি একজন সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সেনাপ্রধান এ মন্তব্য করেন।

Manual4 Ad Code

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও সদস্যদের ১৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন সেনাপ্রধান। সেই নির্দেশনার আলোকে কাজ করে যাচ্ছে সেনাসদস্যরা। এপ্রিলের মাঝামাঝিতে করোনা মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, ‘আমরা সৈনিক, আমরা সব সময় যুদ্ধ করতে প্রস্তুত এবং সেই প্রস্তুতি নিয়েই আমরা কাজ করছি।’

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাঁধ মেরামত, ত্রাণ বিতরণ ও চিকিত্সাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন সেনাসদস্যরা। গতকাল শুক্রবারও সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায় বাঁধ মেরামতের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালান সেনাসদস্যরা। খুলনার হিরণখোলা, দক্ষিণ বেতকাশি এবং রত্না এলাকায় বাঁধ মেরামতের জন্য ১০ হাজার ৭৫০টি জিও ব্যাগ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে নিয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বাগেরহাটের শরণখোলায় বাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লি­ষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করছে।

এছাড়া সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, চাঁদপুর, নোয়াখালী, বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, জয়পুরহাট ও কক্সবাজার এলাকায় ২১টি মেডিক্যাল টিম চিকিত্সা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। গতকাল ১ হাজার ২৯৪ জনকে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৩টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় পানি বিশুদ্ধ করণ প্ল­্যান্ট স্থাপন করে মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উপকূলীয় এলাকায় গতকাল ১০ হাজার ৩২৪ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়। ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ৩৬১টি ঘরও মেরামত করে দিয়েছেন ঐ এলাকায় দায়িত্ব পালন করা সেনাসদস্যরা।

Manual8 Ad Code

এদিকে করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে সেনাপ্রধানের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে দিন-রাত কাজ করছেন সদস্যরা। সেনাপ্রধান যে ১৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলাকে একটি যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। একজন সৈনিক হিসেবে আমরা অকুণ্ঠচিত্তে এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি, যুদ্ধে আমরা জয়ী হবোই—ইনশাল্ল­াহ্। জনগণকে যথাযথভাবে সচেতন করাই আমাদের প্রধান কাজ। ধৈর্য, সহনশীলতা ও সত্ সাহসের পরিচয় দিয়ে জনগণের পাশে থেকে আমরা জনগণের আস্থা অর্জন করে যাচ্ছি। বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করে বিচক্ষণতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য সব বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই গুরু দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি এবং সবার সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখেছি।

Manual1 Ad Code

নির্দেশনায় আরো আছে, সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এ জাতীয় কোনো কাজ, কথা ও আচরণ করা যাবে না। ‘চেইন অব কমান্ড’ মেনে চলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। জনগণকে গুজব পরিহার করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। নিজেরা আতঙ্কিত না হয়ে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার জন্য সর্বোচ্চ চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। চলমান করোনা যুদ্ধে সিএমএইচসহ মেডিক্যাল কোরের সব সদস্য সারিরযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আপনাদের এই সেবা এবং ত্যাগ সেনাবাহিনী শ্রদ্ধাভরে স্মরণে রাখবে। আমরা নিজ নিজ ধর্ম পালন করব। নিজেদের মধ্যেও সর্বদা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সর্বোপরি পরিবার-পরিজনদের যথাযথ খোঁজখবর রাখতে হবে।

সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের প্রতিটি সদস্যের জন্য বরাদ্দ করা রেশন থেকে অসহায়, দুস্থ ও গরিবদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রাখার নির্দেশনাও দিয়েছেন সেনাপ্রধান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৮ হাজার পরিবারের জন্য ত্রাণসামগ্রী প্রদান করেছে সেনা কল্যাণ সংস্থা। সেনা কল্যাণ সংস্থার ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নির্দেশে এবং সেনা কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সাজ্জাদুল হকের নেতৃত্বে সংস্থাটি শুরু থেকেই সরকার ও জনগণের পাশে দাঁড়ায়। অতি দ্রুততার সঙ্গে সংস্থার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর এক দিনের বেতনসহ ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেন। এভাবে শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেনাসদস্যরা।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code