কলকাতা বিমানবন্দরে যাত্রা হবে আরও দ্রুত! ডমেস্টিক ট্রান্সফারে চালু হচ্ছে ‘ডিজিযাত্রা’

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : কলকাতা বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য শুরু হচ্ছে আরও এক নতুন ডিজিটাল যুগ। এই সপ্তাহান্ত থেকে চালু হচ্ছে ডিজিযাত্রা (DigiYatra) পরিষেবা, এবার ডমেস্টিক-টু-ডমেস্টিক (D2D) ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটিতেও। ফলে অভ্যন্তরীণ কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে যাত্রীদের সময় বাঁচবে, যাত্রাও হবে অনেক বেশি ঝামেলাহীন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার যাত্রী এই ডমেস্টিক ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটি ব্যবহার করেন। যাঁদের অনেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ডিজিযাত্রা চালু হলে তাঁদের যাত্রাপথ আরও মসৃণ হয়ে উঠবে।

বিমানবন্দর অধিকর্তা প্রবত রঞ্জন বেউরিয়া জানিয়েছেন, “সবকিছু ঠিকঠাক চললে শুক্রবার থেকেই D2D জোনে ডিজিযাত্রা পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে আপগ্রেড হয়ে গেলে দ্রুত যাত্রার সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। গেটগুলি আগেই বসানো হয়েছিল, কিন্তু এনইসি সার্টিফিকেশন না থাকায় চালু করতে দেরি হচ্ছিল। এখন সেই বাধাও কেটে গেছে।”

ডিজিযাত্রা পরিষেবা শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্যবহারকারীর সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। জানুয়ারি ২০২৪-এ যেখানে দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২ হাজারের নিচে, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬,৫০০-রও বেশি। এবার D2D ফ্যাসিলিটিতে যুক্ত হওয়ায় সেই সংখ্যা ১০,০০০ ছাড়িয়ে যাবে বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা।

ডিজিযাত্রা অ্যাপ ব্যবহার করে ওয়েব চেক-ইন করার পর যাত্রীরা তাঁদের বোর্ডিং পাস প্রি-লোড করতে পারেন, যার ফলে টার্মিনালে প্রবেশ ও নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পূর্ণ হয় কোনও মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই। এই পরিষেবা বিশেষত কোভিড-পরবর্তী যুগে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, কারণ এটি সময়ও বাঁচায়, আবার সংক্রমণের ঝুঁকিও কমায়।

Manual4 Ad Code

যাঁরা অ্যাপ ব্যবহার করেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে ডিজিযাত্রা কিয়স্ক। তবে কিয়স্ক ব্যবহারকারীদের দু’বার যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়—একবার কিয়স্কে, আবার সিআইএসএফ সদস্যদের মাধ্যমে। এক বছর আগেও ৮৫%-৮৬% ডিজিযাত্রা ব্যবহারকারী কিয়স্ক ব্যবহার করতেন। কিন্তু অক্টোবর ২০২৪ নাগাদ সেই হার কমে দাঁড়ায় ৫০%-এর ঘরে। সাম্প্রতিক কিয়স্ক বিভ্রাটের কারণে এখন প্রায় ৮৩%-৮৪% যাত্রী অ্যাপের দিকেই ঝুঁকেছেন।

Manual8 Ad Code

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা বিমানবন্দরে ডমেস্টিক-টু-ডমেস্টিক ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটি চালু হয়। এর ফলে ট্রানজিট যাত্রীদের আর টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে আবার প্রবেশ করতে হয় না। বরং একটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা গেট দিয়ে সরাসরি পৌঁছে যাওয়া যায় ডিপারচার লেভেলে। এতে ৫০-৬০ মিনিট পর্যন্ত সময় বাঁচে।

Manual5 Ad Code

পরিকাঠামোগত দিক থেকেও উন্নয়ন ঘটেছে। বসানো হয়েছে দু’টি ব্যাগেজ এক্স-রে মেশিন, তিনটি ফ্রিস্কিং বুথ (একটি মহিলাদের জন্য ও দুটি পুরুষদের জন্য), এবং তিনটি ডেডিকেটেড লিফট। রয়েছে আলাদা ওয়াশরুম ও সম্প্রসারিত সিকিউরিটি হোল্ড এরিয়া। নতুন দু’টি বাস বোর্ডিং গেটও তৈরি হয়েছে, যাতে রিমোট বে-তে থাকা উড়ানে দ্রুত যাত্রী ওঠানো সম্ভব হয়।

Desk: K

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code