কার্নি সরকারের ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনায় শঙ্কিত ফরেন সার্ভিস ও কূটনীতিকরা

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে সরকার বড় ধরনের ব্যয় সংকোচন নীতি হাতে নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী বাজেট বছর থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার খরচ অন্তত ৭.৫ শতাংশ কমানো। অর্থমন্ত্রী ফ্রাসোয়াঁ-ফিলিপ শ্যাম্পেইন এ নির্দেশনা মন্ত্রিসভার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। এই পদক্ষেপের আওতায় গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা যা দেশের বিদেশনীতি ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে তাও বাদ যাচ্ছে না। আর এখানেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

Manual6 Ad Code

একদিকে কানাডা সরকার প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, অন্যদিকে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা বিদেশে তাদের উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ চালিয়ে আসছিল। নতুন দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশন খোলার পরিকল্পনাও ছিল আলোচনায়। ফলে কূটনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি এবং বাজেট কাটছাঁট এই দুই ভিন্নমুখী অবস্থান দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক খাতও এই সাশ্রয় কর্মসূচির বাইরে থাকবে না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আসল সমস্যা কূটনীতিক বা কার্যক্রমের সংখ্যা নয়, বরং প্রশাসনিক অদক্ষতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য। তাঁর মতে, যদি সেগুলো কমানো যায় তবে খরচও সাশ্রয় হবে, আবার কূটনৈতিক নেটওয়ার্কও অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব। কিন্তু কীভাবে তা করা হবে, সেই বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা দেননি।

Manual8 Ad Code

এই আলোচনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ১,৩০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে উত্তর আমেরিকার দুই বড় শক্তির কূটনৈতিক কাঠামোই বর্তমানে চাপের মুখে। কানাডার ক্ষেত্রে এ পদক্ষেপ তাদের বৈশ্বিক প্রভাব কতটা দুর্বল করে দেবে, সেটি এখনো অনিশ্চিত।সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান সেনেটর পিটার বোহেম সতর্ক করেছেন, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার বাজেট কমানোর আগে সরকারকে ভেবে দেখতে হবে। তাঁর মতে, কানাডা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে, আর এই উপস্থিতি দুর্বল হলে দেশের বৈদেশিক নীতি কার্যকারিতা হারাবে।

Manual7 Ad Code

একইভাবে অভিজ্ঞ কূটনীতিক অ্যালান কেসেল বলেছেন, কূটনীতিকের সংখ্যা হ্রাস করলে বিদেশে অবস্থানরত কানাডিয়ান নাগরিকদের সুরক্ষা ঝুঁকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক মঞ্চে কানাডার প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি কানাডা ব্যয় সংকোচনের নামে কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক দুর্বল করে ফেলে, তবে এর প্রভাব কেবল পররাষ্ট্রনীতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা, অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সব ক্ষেত্রেই পড়বে।

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কানাডা দীর্ঘদিন ধরে শান্তি রক্ষা, উন্নয়ন সহায়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় ছিল। এই সংকোচন সেখানে কৌশলগত শূন্যতা তৈরি করতে পারে।ফলে এখন মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে সরকার কি শুধু প্রশাসনিক অদক্ষতা কমিয়ে স্মার্ট সাশ্রয় করবে, নাকি সরাসরি কূটনৈতিক কার্যক্রমে কাটছাঁট করবে? এর উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী বছরগুলোতে বৈশ্বিক অঙ্গনে কানাডার অবস্থান দৃঢ় থাকবে নাকি দুর্বল হয়ে পড়বে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code