কোরবানি ইসলামের অন্যতম শি’আর বা নিদর্শন

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

জিলহজ মাস অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ এবং তাৎপর্যময় মাস। এই মাসেই ইসলামের অন্যতম রুকন হজ পালন করা হয়। এই মাসেই দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ শি’আর বা নিদর্শন কোরবানি আদায় করা হয়।

কোরবানির ধারাবাহিতা আদম (আ.) থেকে চলে এসেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত ইবরাহীম (আ.) এর পন্থা ও পদ্ধতিতে চলতে থাকবে।

রাসূল (সা.) বলেন, আমাকে ইয়াওমুল আযহার আদেশ করা হয়েছে। (এ দিন কোরবানি করার আদেশ করা হয়েছে) এই দিবসকে আল্লাহ্ তায়ালা এ উম্মতের জন্য ঈদ বানিয়েছেন।

রাসূল (সা.) তার জীবনে কোনো বছর কোরবানি করা হতে বিরত থাকেন নি। বরং আলী (রা.) কে নির্দেশ দিয়েছেন তার পক্ষ হতে প্রতি বছর কোরবানি করতে। কোরবানি অন্যান্য সুন্নতে মুয়াক্কাদার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব আমল। সুতরাং কোরবানি ইসলামের শি’আর বা নিদর্শন।

ইসলামী শি’আরের পরিচয়

Manual4 Ad Code

ইসলামের এমন কিছু বিধান রয়েছে যা আল্লাহর পবিত্রতা এবং মহিমার পরিচয় বহন করে। যা তাওহীদ তথা একত্ববাদের ঘোষণা প্রদান করে এবং ইসলামের বিশেষত্ব, মৌলিকত্ব ফুটিয়ে তোলে।

এই বিধানগুলোই দ্বীনে ইসলামের শি’আর বা নিদর্শন। যেমন- নামাজ, রোজা, ঈদ, কোরবানি ইত্যাদি। অর্থাৎ যা ইসলামকে রিপ্রেজেন্ট করে তাই ইসলামের শি’আর বা নিদর্শন।

ওলামায়ে কেরামের অভিমত হলো কেউ যদি ইসলামের কোন শি’আরকে অস্বীকার করে অথবা অবজ্ঞা করে তাহলে তার ঈমান থাকবে না।

কোরআনে কোরবানির আলোচনা দু’ভাবে এসেছে। ক.হজের সময়গুলোতে হজ ও ওমরা পালনকারীগণ আদায় করে থাকে। সূরা বাকারার:১৯৬,সূরা মায়িদা:২,৯৫-৯৭,সূরা হজ:২৭-৩৭ এবং সূরা ফাতাহ: ২৫ নম্বর আয়াতে এসেছে।

খ. জিলহজের দশ, এগারো ও বারো তারিখ যে কোরবানি করা হয়। প্রত্যেক মুকাল্লাফ মুসলিমের জন্য এই কোরবানির বিধান। কারো জন্য ওয়াজিব,কারো জন্য নফল।

এই কোরবানির আলোচনা সূরা আনআমের ১৬১-১৬৩ এবং সূরা কাউসারের ২ নম্বর আয়াতে এসেছে।

Manual6 Ad Code

সূরা আনআমে কোরবানির জন্য ‘নুসুক’ শব্দ এসেছে আর সূরা কাউসারে ‘নহর’ শব্দ।

আরবি ভাষার সকল অভিধানে নুসুক শব্দের অর্থ করা হয়েছে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আল্লাহর নামে জবাইকৃত পশু।

আর ‘নহর’ শব্দের অর্থ জবাইকৃত উট। তবে আরবরা যে কোন জবাইকৃত পশুকেই নহর বলে।

আয়াতে নহর দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহর জন্য জবাইকৃত পশু। চাই সেটা হজ, ওমরা বা সাধরণ কোরবানি হোক। এ জন্যই জিলহজের দশম তারিখকে ‘ইয়াউমুন নাহার’ বলা হয়।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসংখ্য হাদিসে কোরবানির আলোচনা এসেছে। সহীহ,সুনান, মুয়াত্তা, মুসনাদ, মুসান্নাফ ও মুসতাদরাক সহ সকল হাদিস এবং আসার গ্রন্থে কোরবানির ‘কিতাবুল উযহিয়া’ নামে জন্য স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে।

Manual3 Ad Code

শুধু মাত্র কোরবানির হাদিসগুলো একত্র করা হয় তবে বৃহৎ কলেবরের গ্রন্থ তৈরী হবে। তেমনিভাবে ফিকাহ্ শাস্ত্রের সব গ্রন্থে কোরবানির জন্য ভিন্ন অধ্যায়, অনুচ্ছেদ রয়েছে।

Manual1 Ad Code

ইদানীং তথাকথিত কতিপয় মুক্তমনা গবেষক, ইসলাম বিদ্বেষী বুদ্ধিজীবী কোরবানির বিধান অস্বীকার করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কেউ কেউ কোরবানির পশু জবাই না করে অর্থ দান করার দাবিও তুলছে।

ইতিহাসে কোরবানি

কোরবানির ধারাবাহিতা হজরত আদম (আ.) থেকে চলে আসছে। সূরা মায়েদার ২৭-৩১ নম্বর আয়াতে আদম (আ.) এর দু’সন্তানের কোরবানির কথা এসেছে।

সব নবীর জন্যই কোরবানির বিধান ছিলো কিন্তু সকলের কোরবানির পন্থা ও পদ্ধতি এক ছিল না।

রাসূলুল্লাহ (সা.) যেহেতু শেষ নবী ও বিশ্বনবী, তারপর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী আসবেন না। তাই কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্ববাসীর জন্য তার শরিয়তই অনুসরণ করা অবধারিত করা হয়েছে।

আর কোরআনুল কারীম ও সহীহ হাদিস দ্বারা এটা প্রমাণিত যে,আল্লাহ্ তায়ালা এই শরীয়তের জন্য কোরবানির যে পদ্ধতির নির্দেশ দিয়েছেন তা ইবরাহীমী মিল্লাতে বিদ্যমান ছিল। সুতরাং কোরবানিকে ইবরাহীম (আ.) এর সুন্নাত বলা যায়।

কোরবানির ইসলামী ধারণা ও পদ্ধতির পাশাপাশি জাহেলি ধারণাও রয়েছে। কোন মূর্তি বা দেব-দেবীর সন্তুষ্টির জন্য বা কল্পিত কোন অশুভ শক্তির ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাদের উদ্দেশ্যে কোন কিছু উৎসর্গ করা। এটা সম্পূর্ণ শিরক,হারাম।

উল্লেখ্য যে, ইসলামে কোরবানি বান্দার পক্ষ হতে শুধুমাত্র আল্লাহর নামে দিতে হবে। কোনো পীর,বুযুর্গ বা রাসূল সা. এর নামেও হতে পারবে না। তাহলে তা শিরিক-বিদআত হিসেবে পরিগণিত হবে।

কোরবানি ও জীব হত্যা

ইদানীং অনেক মুক্তমনা লেখক ইসলামের কোরবানিকে জীব হত্যার মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করছে। এটা এক প্রকারের মূর্খতা ও শরীয়ত বিকৃতির অপচেষ্টা।

কোরবানির ঈদের আনন্দ কেবলমাত্র আল্লাহর আদেশ যথাযথ পালন করার আনন্দ। এ আনন্দ আল্লাহর পক্ষ হতে আরাফার দিনের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আনন্দ।

হাজীদের জন্য হজ পালনের আনন্দ আর সবার আল্লাহর দরবারে কোরবানি পেশ করার আনন্দ। আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়া বস্তু দ্বারা আল্লাহর মেহমানদারিতে অংশগ্রহণ করার আনন্দ।

মহান আল্লাহ্ বান্দাদেরকে এই আনন্দ উদযাপনে শামিল হবার নির্দেশ প্রদান করেছেন। পশু জবাই কিংবা জীব হত্যায় মুমিন কখনো আনন্দ পায় না। মহান দয়াময় আল্লাহর নির্দেশ যথাযথ পালন করার মধ্যে মুমিনরা আনন্দ পায়।

লেখক: শিক্ষক, গবেষক

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code