

যুক্তরাজ্য ব্যুরো অফিস :যুক্তরাজ্যের লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটসের স্যার জন কাস ফাউন্ডেশন এন্ড রেডকোট স্কুলের নাম পরিবর্তন করা হবে। একই সঙ্গে স্কুল থেকে উচ্ছেদ করা হবে স্যার জন কাসের পূর্ণ এবং অর্ধ মূর্তি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন ) রাতে স্কুলের শিক্ষার্থী, স্টাফ এবং গভর্নিং বডির এক যৌথ পরামর্শ সভায় গোপন ভোটাভুটির মাধ্যমে এই দুই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বুধবার অভিভাবকদের কাছে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিস্টার পি উড।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে স্কুলের শিক্ষার্থী, স্টাফ এবং গভর্ণীং বডির সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শ শেষে গোপন ভোটের মাধ্যমে প্রথমে স্কুলের সামনে এবং ভেতরে স্থাপিত স্যার কাসের পূর্ন এবং অর্ধ মূর্তি উচ্ছেদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ভোটে স্কুলের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মূর্তি উচ্ছেদ করা হবে এবং পরবর্তীতে পরিবর্তন করা হবে নাম। আর নতুন নাম করণের ব্যাপারেও স্কুলের শিক্ষার্থী/ স্টাফ এবং গভর্নীং বডির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। স্কুলের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে স্যার জন কাস ফাউন্ডেশনও একমত হয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরো জানিয়েছেন, স্কুলের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্কুল শিক্ষার্থীদের উপর কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। এমনকি তাদের জন্যে বাড়তি ব্যয়ও বাড়ানো হবে না বলে ইমেইলে নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য স্যার জন কাসের জন্ম ১৬৬০ সালে। আর মৃত্যু ১৭১৮ সালে। আফ্রিকান এবং ক্যারিবয়ান ক্রীতদাস ব্যবসার এজেন্ট হিসেবে ব্যবসার করেছেন তিনি।
যদিও গত ৩শ বছর ধরে ব্রিটেনের শিক্ষা উন্নয়নে তার নামে গঠিন ফাউন্ডেশনের ব্যাপক অবদান রেখে আসছে।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারের নির্যাতনে নিহত হবার পর ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ক্যাম্পেইনের সূচনা হয়। এই ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ক্যাম্পেইনাররা দু সপ্তাহ আগে ব্রিস্টলে সতের শতকের ক্রীতদাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কলস্টনের মৃর্তি উচ্ছেদ করে পাশ্ববর্তী নদীতে নিক্ষেপ করে।
এরপর লন্ডনে ক্রীতদাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মূর্তি উচ্ছেদের নির্দেশ দেন লন্ডন মেয়র।