গদখালীর ফুল চাষিরা ফুল উৎপাদন ও পরিচর্যায় ব্যস্ত

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

বেনাপোল (যশোর) :
করোনা ভাইরাস ও আম্পান ঝড়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে যশোরের ঝিকর গাছার গদখালির ফুল চাষিরা আগামি বিশেষ দিবস গুলোকে সামনে রেখে ফুল উৎপাদন ও পরিচর্যায় দিন পার করছে।

তবে প্রকৃতিক দূযোগ প্লাস্টিকের ফুলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ফুলচাষ বৃদ্ধি সহ নানা সমস্যায় ব্যবসার মৌসুমেও লাভ ক্ষতি নিয়ে চিন্তিত যশোরের ফুল চাষিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসাড়া গ্রাম ও গদখালির মাঠ গুলোতে এ খন শোভা পাচ্ছে রজনীগন্ধা,গোলাপ,জারবেরা,গাদা,গ্লাডিওলাস,জিবসি,রডষ্টিক,কেলেনডোনা,চন্দ্রমল্লিকা সহ ১১ ধরনের ফুল।কৃষকেরা গোলাপের কুড়িতে সাদাক্যাপ পরিয়ে রেখেছেন।এগুলো করা হয়েছে যাতে রোগ বালাই পোকামাকড় থেকে রক্ষাপেতে।

কেননা সামনে রয়েছে ফুল বিক্রির উপযুক্ত সময়।আর কয়েক দিন পর ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস,তার পর ১জানুয়ারি ইংরেজি নতুন বছর,১৩ ফেব্রুয়ারী বসন্ত দিবস,পরদিন১৪ ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সহ রয়েছে বেশ কয়েকটি বিশেষ দিবস।এসব দিবসে দেশব্যাপি থাকে ফুলের বিশেষ চাহিদা।আর এ চাহিদা মেটাতে গদখালির মাঠে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ফুল চাষি ও শ্রমিকরা।

ব্যবসায়ী ও ফুলচাষী আবুতাহের জানান করোনা ভাইরাস ও আমপান ঝড়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বার ৮ বিঘা জমিতে রজনীগন্ধাএবং গ্লাডিওলাস চাষ করেছি।সামনে বিজয় দিবস এর পর নতুন বছর এবং ফেব্রুয়ারীতে তিনটি বিশেস দিবসকে সামনে রেখে প্রস্ততি নিযেছ্ িআশায় বুক বেধেছি যদি সামনে দিন গুলোতে ভাল দাম পাই তবে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবো।

ফুল চাষি লিয়াকত হোসেন বলেন এবার গোলাপ ও জারবেরা ফুল ৫ বিঘা জমিতে চাষ করেছি।যদি আবহাওয়া অনুকুলে থাকে তা হলে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাভের আশা করছি।

Manual2 Ad Code

গদখালি কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে(১ডিসেম্বর)বর্তমানে ১০০ পিচ রজনীগন্ধা ৭০০ টাকা,গোলাপ একশত পিচ ৩০০-৪০০ টাকা,একশত জারবেরা ৯০০ টাকা,্একশত পিচ গাদা ২০০-২৫০ টাকা,গ্লাডিওলাস একশত পিচ ১১০০ শত টাকা,জিবসি প্রতি ব্যান্ডিল ৫০ টাকা ও রড ষ্টিক প্রতি ব্যান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে।

Manual5 Ad Code

কৃষক হারুনার রশিদ ও সরোয়ার হোসেন বলেন দেশে প্লাষ্টিকের ফুল আমদানি এবং ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের ফুল বিক্রি বেশ কমে গেছে।এছাড়া যে সব জেলায় আমরা আগে ফুল দিতাম এখন তারাও ফুল চাষ করছে।ফলে সেখানকার ব্যাবসায়ীরা ফুল সংগ্রহের জন্য আসছেনা,এতে আমরা ব্যবসায়ীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ারস সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন ,দেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা এই ফুলকে কেন্দ্র করে।প্রায় ২০ হাজার কৃষক ফুল চাষের সঙ্গে সম্পক্ত,করোনা পরবর্তীতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের ঘোষিত কৃষি প্রণোদনার ঋনের জন্য ব্যাংক সহ আর্থিক পতিষ্টনে ধরনা দিয়েও ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীরা কোন অর্থিক সুবেধা পাইনি।কিছু ব্যাংক সামান্য কিছু ঋন কিছু এলাকায় কয়েক জন কৃষককে দিয়েছে।বর্তমান অবস্থায করোনায় দূর্যোগ সৃষ্টি না করলে আগামী যে অনুষ্টান গুলো আছে এই অনুষ্টানকে ঘিরে ফুল সেক্টর পুনরায় ঘুরে দাড়াতে পারবে।তবে সরকারী কৃষি প্রণোদনা ঋন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চাহিদানুযায়ী বিতরণ এবং সারাদেশে সামাজিক অনুষ্টান চালুর জন্য সরকারি ভাবে ঘোষনা দেওয়ার প্রয়োজন।

Manual8 Ad Code

ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ জানান,যশোরের ঝিকরগাছার উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ৬২৫ হেক্টর জমিতে বানিজ্যিক ভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে।তিনি আরো জানান গ্লাডিওয়াস ২৭২ হেক্টর,রজনীগন্ধ্যা ১২৫ হেক্টর,গোলাপ ১০৫ হেক্টর,গাদা ৫৫ হেক্টর,জারবেরা ২২ হেক্টর,রডষ্টিক ৬ হেক্টর।এছাড়া অন্যান্য ফুলচাষ করা হচ্ছে ৫০হেক্টর জমিতে।ফুল চাষের সাথে এখানকার প্রায় ছয় হাজার কৃষক এবং এক লাখ শ্রমিক সম্পক্ত রয়েছে।

Manual2 Ad Code

উল্লেখ্যঃ – ১৯৮৩ সালে গদখালীর পানিসাড়া গ্রাম থেকে ৩০শতক জমিতে ফুল চাষ শুরু হয়।দেশে ফুলের মোট চাহিদার সিংহ ভাগই যশোরের গদখারী থেকে সরবরাহ করা হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code