গাফিলতিতে আটকে আছে দেড় কোটি শিক্ষার্থীর ৮৬৪ কোটি টাকা 

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

গত জানুয়ারিতে প্রায় দেড় কোটি কোমলমতি স্কুলশিক্ষার্থীর কাছে এ বছরের শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য ভাতা পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু এখনো সেই ভাতা পৌঁছেনি। অথচ বছর শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। সামনের জানুয়ারি মাসেও এই ভাতা পৌঁছানো যাবে কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় এই ভাতা বাবদ ৮৬৪ কোটি ২০ লাখ টাকা অনেক আগেই বরাদ্দ দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক জন কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে সবকিছু চূড়ান্ত করার পরও এই ভাতা পৌঁছানো যায়নি। এই টাকা এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে অলস পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক জন কর্মকর্তা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই ভাতা দিয়ে থাকে। কেন এখনো এই ভাতা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো যায়নি? জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা নিজেরা একটা ডাটাবেজ তৈরির কাজ করছি। আমাদের সফটওয়্যার আপডেটের কাজ চলছে। সেটা হলেই টাকা শিক্ষার্থীদের কাছে চলে যাবে।

প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ কেনার ভাতা দেয় সরকার। নানা প্রক্রিয়া শেষে এখন মোবাইল ফাইনান্সিয়্যাল সার্ভিসের মাধ্যমে এই টাকা পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাকাগুলো ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার (ইএমটি) করা আছে। এখন কেবল বিতরণকারী সংস্হার কাছে গেলেই এটি বিতরণ করা যাবে।

Manual8 Ad Code

এমন পরিস্থিতিতে চিঠি দিয়ে পুরো কাজ আটকে রাখা হয়েছে। ফলে শুধু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের দুই-তিন জন কর্মকর্তার অনাগ্রহ এবং বিরোধিতার কারণে প্রায় দেড় কোটি কোমলমতি শিক্ষার্থী এই ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

গত ১৮ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ভাতা বিতরণের দায়িত্ব এখন পেয়েছে ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ। কেন টাকা পাঠানো যাচ্ছে না জানতে চাইলেও এ বিষয়ে নগদের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রাথমিক পর্যায়ের দেড় কোটি শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ কেনার ভাতা বিতরণের দায়িত্ব পায় নগদ। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে শিক্ষার্থীদের মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং শিক্ষার্থীর নিবন্ধিত নাম দিয়ে একটি ডেটাবেজ তৈরি হয়। সেই ডেটাবেজ অনুসারেই নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরো উপবৃত্তি ও ভাতা বিতরণ করেছে তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় উপবৃত্তি বিতরণ অনেক সহজ এবং স্বচ্ছ হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রহণযোগ্য একটি ডেটাবেজ তৈরির কারণে সামনের দিনেও এই সংশ্লিষ্ট ভাতা ও উপবৃত্তি বিতরণ সহজ হবে। সবকিছু যখন তৈরিই আছে তাহলে কেন শিক্ষা উপকরণ কেনার ভাতা আটকে রাখা হয়েছে?

Manual7 Ad Code

জানতে চাইলে আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, এই ভাতা বিতরণে আমরা নিজেদের এমআইএস ব্যবহার করব। তবে এটা এমএফএসের মাধ্যমেই যাবে। এই সফটওয়্যারটি তৈরি করতে একটু সময় লাগছে। এটার জন্য আমরা একটা নীতিমালা করছি। সেটা এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য আছে। সেটা অনুমোদন হতে হতে আমাদের সফটওয়্যারও তৈরি হয়ে যাবে। তারপর শিক্ষার্থীদের এই টাকা পৌঁছানো হবে।

Manual4 Ad Code

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম আগ্রহী হলেই সঠিক সময়ে শিক্ষার্থীরা টাকা পেয়ে যেত। যদিও এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বারবার চেষ্টা করেও হাসিবুল আলমকে পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েক জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই কৃত্রিমভাবে এই সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর আগে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অপারেটর শিওর ক্যাশের মাধ্যমে এই উপবৃত্তি ও ভাতা বিতরণ করত সরকার। তখন এ খাতে সরকারের প্রতি হাজারে সাড়ে ২২ টাকা করে খরচ হতো। এখন নগদ ১ হাজার টাকা বিতরণের জন্যে সরকারের কাছ থেকে নিচ্ছে সাত টাকা। এর মধ্যে তারা ভাতা ও উপবৃত্তির ক্যাশ-আউটের পুরো খরচ সুবিধাভোগীকে দিয়ে দেয়।

১৮ নভেম্বরের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল নম্বর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শুরুর দিকে ২ লাখ ১ হাজার ২৬৫টি অ্যাকাউন্টে ভাতা ও উপবৃত্তি বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে নগদ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই নম্বরগুলোতে উপবৃত্তি বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code