

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ (সিলেট) থেকে:
স্বাদে অতুলনীয় ও পুষ্টিগুণে ভরপুর, দেশি ফলের চাহিদাও প্রচুর। মৌসুমের প্রায় শেষের দিক সরবরাহ মোটামোটি থাকায় বেশি দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। স্বাস্থ্যের যত্নে বেশি করে দেশি ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভিটামিনের চাহিদা পূরণে মিনারেল ও ভিটামিন সমৃদ্ধ দেশি ফলের প্রতি সকলের আগ্রহী হওয়া উচিত বলে মত চিকিৎসকদের। স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ফরমালিন ও ক্যামিকেল দেয়া বিদেশি ফল নয়, বরং দেশি ফলই অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে বলে জানান চিকিৎসকরা। উপজেলার প্রায় রাস্তামোড়ে, পাইকারী ও খুচরা বাজারগুলোতে দেশি ফলের সমাহারই বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে এসেছে মধু মাস জ্যৈষ্ঠ। জ্যৈষ্ঠের এ সময়ে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন ফলে ভরপুর গোটা দেশ। গোলাপগঞ্জে ব্যতিক্রম ঘটেনি। মৌসুমি ফলে ছেয়ে গেছে এ উপজেলার ফলবাজারসহ উপজেলার প্রতিটি রাস্তা মোড়ে ও হাট-বাজারগুলিতে। তবে এসব ফলের দামও বেশ চড়া। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে উপজেলা বিভিন্ন ফল বাজার ও রাস্তার বিভিন্ন মোড় ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি দোকানে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি ফলের সমারোহ। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস ও তাল ইত্যাদি। এছাড়াও বেল, বাঙ্গি, তরমুজ ও পেপেসহ আরও বিভিন্ন ফল দেখা গেছে ফল হাট-বাজার ও রাস্তার মোড় গুলোতে। গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে কাঠাল, লিচু ও আনারস।
বাজার দর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি একশ লিচু বিক্রি করছেন ২৬০ থেকে ৩৮০ টাকায়, প্রতি পিস কাঁঠাল সাইজ অনুসারে ৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। আম প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, আনারস প্রতি জোড়া ৬০ থেকে ১২০ টাকায়, প্রতি কেজি জাম ৬০ টাকা থেকে ১শ ৫০ টাকা এবং তালের শ্বাস প্রতি পিস ১০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর বাঙ্গি বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে ৩শ থেকে ৫শ টাকা পিস।
উপজেলার পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড চত্বরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বিপরীতে ফল বাজারে চমৎকার মৌসুমি ফল লিচু, আম ও আনারসসহ বিভিন্ন ফলে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে সব চেয়ে বেশি লিচু ও আনারস বিক্রি হতে দেখা গেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে মিষ্টি ও রসালো আম বিক্রির দখলে যাবে বাজার। এমনটাই ধারণা ফল ব্যবসায়ীদের।
ঢাকাদক্ষিণ বাজারের ফল ব্যবসায়ী মকতুর রহমান জানান, গতবারে তুলনায় প্রথমদিকে দাম কিছুটা বেশি ছিল লিচুর। আমের বেচাকেনা এখনো জমে উঠেনি। তবে লিচু স্থানীয় আনারসের এখন ভরপুর মৌসুম। তাই লিচু ও আনারস ব্যবসা জমজমাট। আমের বেচাকেনা জমে উঠবে আগামী সপ্তাহ থেকে। বর্তমানে মানুষের কাছে লিচুর দাহিদা বেশি। চায়না- ৩ জাতের লিচু ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দরে শতকরা হিসেবে বিক্রি করছি এখন।
নজরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, বড় সাইজের ১০০ পিস লিচু কিনেছি ২৫০ টাকা দিয়ে। বাজারে ভরপুর মৌসুমি ফল থাকলেও দাম চড়া বলে মনে করেন এ ক্রেতা। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং বিষাক্ত রাসায়নিক মুক্ত ফল বিক্রিতে প্রশাসন বাজার মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানান তিনি।
সিলেট থেকে গোলাপগঞ্জে ভাদেশ^র শশুড় বাড়িতে আসা সাংবাদিক ও রোটিয়ান শাহজান সেলিম বুলবুল বলেন, গোলাপগঞ্জে প্রায় রাস্তার মোড়ে ফরমালিনমুক্ত দেশীয় ফলে ভরপুর। এখানে লটকন, আম, লিচু, আনারস ও কাঁঠাল দেখে আমি খুবই অবাক হলাম। চিন্তা করেছি আগামীতে এসব মৌসুমী ফল শহর থেকে না কিনে রাস্তার মোড় থেকে কেনা অনেক ভালো।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: গোলাম কিবরিয়া জানান, আমরা চাই ফরমালিন মুক্ত নিরাপদ ফল এ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ক্রয়-বিক্রয় হোক। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গোলাপগঞ্জে প্রায় রাস্তার মোড়ে
ফরমালিনমুক্ত দেশীয় ফলে ভরপুর
আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ(সিলেট) থেকে: স্বাদে অতুলনীয় ও পুষ্টিগুণে ভরপুর, দেশি ফলের চাহিদাও প্রচুর। মৌসুমের প্রায় শেষের দিক সরবরাহ মোটামোটি থাকায় বেশি দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। স্বাস্থ্যের যত্নে বেশি করে দেশি ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভিটামিনের চাহিদা পূরণে মিনারেল ও ভিটামিন সমৃদ্ধ দেশি ফলের প্রতি সকলের আগ্রহী হওয়া উচিত বলে মত চিকিৎসকদের। স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ফরমালিন ও ক্যামিকেল দেয়া বিদেশি ফল নয়, বরং দেশি ফলই অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে বলে জানান চিকিৎসকরা। উপজেলার প্রায় রাস্তামোড়ে, পাইকারী ও খুচরা বাজারগুলোতে দেশি ফলের সমাহারই বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে এসেছে মধু মাস জ্যৈষ্ঠ। জ্যৈষ্ঠের এ সময়ে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন ফলে ভরপুর গোটা দেশ। গোলাপগঞ্জে ব্যতিক্রম ঘটেনি। মৌসুমি ফলে ছেয়ে গেছে এ উপজেলার ফলবাজারসহ উপজেলার প্রতিটি রাস্তা মোড়ে ও হাট-বাজারগুলিতে। তবে এসব ফলের দামও বেশ চড়া। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে উপজেলা বিভিন্ন ফল বাজার ও রাস্তার বিভিন্ন মোড় ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি দোকানে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি ফলের সমারোহ। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস ও তাল ইত্যাদি। এছাড়াও বেল, বাঙ্গি, তরমুজ ও পেপেসহ আরও বিভিন্ন ফল দেখা গেছে ফল হাট-বাজার ও রাস্তার মোড় গুলোতে। গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে কাঠাল, লিচু ও আনারস।
বাজার দর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি একশ লিচু বিক্রি করছেন ২৬০ থেকে ৩৮০ টাকায়, প্রতি পিস কাঁঠাল সাইজ অনুসারে ৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। আম প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, আনারস প্রতি জোড়া ৬০ থেকে ১২০ টাকায়, প্রতি কেজি জাম ৬০ টাকা থেকে ১শ ৫০ টাকা এবং তালের শ্বাস প্রতি পিস ১০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর বাঙ্গি বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে ৩শ থেকে ৫শ টাকা পিস।
উপজেলার পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড চত্বরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বিপরীতে ফল বাজারে চমৎকার মৌসুমি ফল লিচু, আম ও আনারসসহ বিভিন্ন ফলে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে সব চেয়ে বেশি লিচু ও আনারস বিক্রি হতে দেখা গেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে মিষ্টি ও রসালো আম বিক্রির দখলে যাবে বাজার। এমনটাই ধারণা ফল ব্যবসায়ীদের।
ঢাকাদক্ষিণ বাজারের ফল ব্যবসায়ী মকতুর রহমান জানান, গতবারে তুলনায় প্রথমদিকে দাম কিছুটা বেশি ছিল লিচুর। আমের বেচাকেনা এখনো জমে উঠেনি। তবে লিচু স্থানীয় আনারসের এখন ভরপুর মৌসুম। তাই লিচু ও আনারস ব্যবসা জমজমাট। আমের বেচাকেনা জমে উঠবে আগামী সপ্তাহ থেকে। বর্তমানে মানুষের কাছে লিচুর দাহিদা বেশি। চায়না- ৩ জাতের লিচু ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দরে শতকরা হিসেবে বিক্রি করছি এখন।
নজরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, বড় সাইজের ১০০ পিস লিচু কিনেছি ২৫০ টাকা দিয়ে। বাজারে ভরপুর মৌসুমি ফল থাকলেও দাম চড়া বলে মনে করেন এ ক্রেতা। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং বিষাক্ত রাসায়নিক মুক্ত ফল বিক্রিতে প্রশাসন বাজার মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানান তিনি।
সিলেট থেকে গোলাপগঞ্জে ভাদেশ^র শশুড় বাড়িতে আসা সাংবাদিক ও রোটিয়ান শাহজান সেলিম বুলবুল বলেন, গোলাপগঞ্জে প্রায় রাস্তার মোড়ে ফরমালিনমুক্ত দেশীয় ফলে ভরপুর। এখানে লটকন, আম, লিচু, আনারস ও কাঁঠাল দেখে আমি খুবই অবাক হলাম। চিন্তা করেছি আগামীতে এসব মৌসুমী ফল শহর থেকে না কিনে রাস্তার মোড় থেকে কেনা অনেক ভালো।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: গোলাম কিবরিয়া জানান, আমরা চাই ফরমালিন মুক্ত নিরাপদ ফল এ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ক্রয়-বিক্রয় হোক। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।