গোয়ালন্দ নদী ভাঙনের শঙ্কা : ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর ব্যাপক তান্ডব চলছে গত কয়েক বছর ধরে। ইতিমধ্যে গ্রামের পর গ্রাম, ফসলী জমি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে কয়েক হাজার পরিবার। শুধু গতবারের ভাঙনেই গৃহহারা হয়েছেন ১২শ পরিবার।
ভাঙন ঠেকাতে অনেক আকুতি, মানববন্ধন, স্মারকলিপি পেশসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হলেও কার্যত তাতে কোন কাজ হয়নি। এবারো ঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত এক হাজার পরিবার এবং দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাট।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট থেকে উজানে দেবগ্রাম ইউনিয়নের অন্তার মোড় পর্যন্ত ৪ কিমি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্যেখ করে জরুরী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতিমধ্যে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিক পত্র দেয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদী ভাঙন হতে শুধুমাত্র দৌলতদিয়া ফেরিঘাটগুলোকে রক্ষা করতে ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধানে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে ঘাটের উজানে নদীতে বিলীন হওয়ার পর অবশিষ্ট থাকা দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়ালজানি ও মধ্য কাওয়ালজানি পাড়া, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১নং ব্যাপারী পাড়া, সাহাজদ্দিন ব্যাপারী পাড়া, লালু মন্ডল পাড়া, নতুন পাড়া, ফেরি ঘাটের ভাটিতে বাহির চরের সাত্তার ফকির পাড়া এবং ঘাট এলাকার সিদ্দিক কাজীর পাড়া ও সাহাদত মেম্বর পাড়ার অন্তত এক হাজার পরিবার এখনো প্রচন্ড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা এবারের ভাঙনে এই গ্রামগুলো বিলীন হয়ে যাবে। সেই ক্ষেত্রে শত চেষ্টা করেও লঞ্চ ও ফেরিঘাটকে রক্ষা করা যাবে না।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ১নং ব্যাপারী পাড়ার বাসিন্দা হতদরিদ্র বাদল মন্ডল (৮০) বলেন, গতবারের ভাঙনে আমাদের এই গ্রামের বেশীর ভাগ অংশ বিলীন হয়ে গেছে। নদী আমার বাড়ী থেকে অল্প কয়েক গজ দুরে আছে। ভাঙন শুরু হওয়া মাত্রই আর এখানে থাকতে পারবো না। এ অবস্থায় গত কয়েকদিনে নদীর পারে থাকা ১৪-১৫টি পরিবার তাদের বাড়ী ঘর ভেঙে অন্যত্র চলে গেছে। আরো অনেকেই যাওয়ার জন্য বাড়ী ঘর ভাঙতে শুরু করেছে। কিন্তু আমার যাওয়ার মতো কোন ব্যবস্থা নেই। এই ভিটাতেই খেয়ে না খেয়ে পড়ে আছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. পান্নু মোল্লা বলেন, আরো অনেকের মতো আমিও আমার ঘরবাড়ী ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিতে ভাঙতে শুরু করেছি। এমনও অনেক পরিবার আছে যাদের সরে যাওয়ার মতো কোন জায়গা বা আর্থিক সঙ্গতি নেই। আমি সাধ্যমতো তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। নদী ভাঙন ঠেকানোর কথা বহু আগে থেকে শুনে আসলেও এখনো পর্যন্ত কিছুই হলো না। এবারের তান্ডবে হয়তো কিছুই থাকবে না।
দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম জানান, নদী ভাঙনে তার ইউনিয়নের বেশীর ভাগ এলাকা ইতিমধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এবারো ৪, ৫ ও ২নং ওয়ার্ডের আংশিক এলাকা হুমকির মুখে রয়েছে। আমরা বহুবার নদী ভাঙন রোধে স্থানীয় এমপি, প্রশাসন ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন নিবেদন করেছি। কিন্তু কোন ফল পাইনি। ভরা বন্যার সময় যখন ভাঙনের তান্ডব শুরু হয় তখন মানুষকে শান্তনা দেয়ার জন্য শুধুমাত্র কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়। তাতে অর্থের অপচয় ছাড়া কোনই উপকার হয় না।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, গত বছরের ভয়াবহ নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ১২শ এর অধিক পরিবার সর্বশান্ত হন। এবারো চরম ঝুঁঁকির মধ্যে রয়েছে দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটসহ অন্তত ১ হাজার পরিবার। ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধানে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। এর বাইরে ঘাট থেকে উজানে সাড়ে ৪ কিমি এলাকাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ উল্যেখ করে জরুরী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code