

গৌরনদী (বরিশাল) :
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও মসজিদের মাইক ব্যবহার করে মঙ্গলবার রাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশ ১জন কলেজ শিক্ষক, ২জন স্কুল শিক্ষক, ১জন মসজিদের ইমাম, ১জন মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক ও ১জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যসহ অন্তত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদেরকে গতকাল বুধবার দুপুরে ভ্রাম্যামান আদালতের মাধ্যমে দেড় লক্ষ টাকা জড়িমানা করে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাচ্ছে।
জানাগেছে, গ্রেফতারকৃতরাসহ এলাকার কোন এক অসাধু চক্র মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ব্যপক প্রচারনা চালায় যে, করোনা ভাইরাস নির্মূলে আজ রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে জীবানুনাশক স্প্রে করা হবে। অতএব আজ রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কেউ ঘরের বাইরে যাবেন না। ঘরের বাহিরে যদি কোন কাপড়-চোপড় থাকে তা দ্রুত ঘরে নিয়ে যান। এ ছাড়া বাসা বাড়ির সকল দরজা জানালা বন্ধ রাখবেন। এ প্রচারনা শোনার পর নড়ে চড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। তারা তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ নিয়ে এটাকে গুজব হিসেবে প্রচারনা চালায়। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পূনঃরায় বিভিন্ন মসজিদের মাইক থেকে পূর্বের ঘোষণকে গুজব বলে প্রচার করা হয়। এমনি প্রচারনার মূখে ভিত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্ধ্যারা। ফলে স্থানীয়দের মনে ধারনা জন্মে যে, কোন চোর, ডাকাত বা অপরাধী চক্র ওই রাতে কোথাও বড় কোন অঘটন ঘটাতে পারে। এ কারনে নির্ঘূম রাত কাটায় এলাকাবাসী।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ গোলাম সরোয়ার জানান, ফেইসবুক ও মসজিদের মাইকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই রাতে গৌরনদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম (৩৩)সহ ওই বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক দ্বিপালী দেবনাথ (৬০), বার্থী ডিগ্রী কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক সালমা আক্তার (৫৫), উপজেলার উত্তর বিজয়পুর বাদামতলা জামে মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক সরদার আল মামুন (৩০) ও বানিয়াশুড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল কাদের (৪৫), অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মোঃ সিরাজুল ইসলাম সরদার (৪৮)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট ইসরাত জাহান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে গুজব রটনাকারীদেরকে তাৎক্ষনিক প্রতিহত করা হয়েছে। ফলে আমরা বড় কোন অঘটনের সম্মুখীন হইনি। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃতদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে মোট দেড় লক্ষটাকা জড়িমানা করে মুক্তি দেয়া হয়েছে।