

সকালে অ্যালার্ম কলকের কর্কশ আওয়াজে ঘুম ভাঙল আপনার। কাজে যেতে হবে দেরি হয়ে যাচ্ছে। এই ব্যস্ত জীবন আর ভাল লাগছে না। তবে সবচাইতে আনন্দের বিষয় হল, সাপ্তাহিক ছুটিতে বেড়াতে যাবেন চাঁদে। হাতে কিছু বাড়তি সময় থাকলে প্লুটো গ্রহে স্থাপিত নতুন মানব বসতিতে যাওয়া হবে।
উপরের বর্ণনা শুনে নিশ্চয়ই মনে করছেন পাগলের প্রলাপ। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে এমনটাই ভাবা হয়েছিলো ২০২০ সালে মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে। এখন এর অনেক কিছু হাস্যকর মনে হলেও তখনকার সময় অনেক বিশেষজ্ঞ এর পক্ষে মত দেন।
চাঁদে ছুটি কাটানোর মতই আরেকটি আলোচনার বিষয় ছিলো মানব সভ্যতার ওপর রোবটের আধিপত্য বিস্তার। না, টার্মিনেটর মুভির মত নয়। কিন্তু ২০০৫ সালে অনেকেই মনে করতেন ২০২০ সালে কর্মসংস্থান হারাবে বড় জনগোষ্ঠী আর তাদের স্থান দখল করে নেবে রোবট। সেই সঙ্গে কম্পিউটার বা রোবটের স্নায়ুবিক সক্ষমতার বিষয়েও দারুণ আশাবাদী ছিলেন তাঁরা। এ তালিকায় উপরের দিকে রয়েছেন ব্রিটিশ ফিউচারলজিস্ট ইয়ান পিয়ারসন। ইলিয়ন ইউনিভার্সিটি একই রকম মত প্রদান করেছিলো। সম্প্রতি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে কর্মসংস্থানের সবচাইতে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে রোবটিক্স শিল্পকে।
অনেকে বলেছিলো প্রচলিত খাবারের বিকল্প তৈরি হয়ে যাবে এই দশকে। কিন্তু এখনো মানুষ প্রচলিত খাবার খাচ্ছে। অবশ্য খাবারের স্বাদে ভিন্নতা আনার চেষ্টার অংশ হিসেবে নব্বইয়ের দশকের তুলনায় রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য।
চাঁদে ছুটি কাটানো শুরু না হলেও সাধারণ মানুষের চন্দ্র ভ্রমণের জন্য নতুন প্রজেক্ট চালু করেছে নাসা। বিষয়টি বাস্তবায়ন হতে লাগবে আরো কয়েক বছর। কিন্তু এখানে নাম লেখাতে এখন থেকেই ভিড় করছে সকলে।
বেশ কিছু ভবিষ্যতবাণীর খুব কাছ থেকে আমরা হাঁটছি এটা সত্য। কিন্তু অনেক ভবিষ্যৎ ছুঁয়ে দেখার ধারে কাছেও নেই আমরা। বিংশ শতকের শুরুতে মানুষ বিশ্বাস করত ২০২০ সাল নাগাদ পৃথিবীতে জনসংখ্যার বোঝা কমাতে প্লুটো বা সৌর জগতের অন্য কোন গ্রহে নতুন আবাসস্থল তৈরি করবে মানুষ। কিন্তু বিষয়টি এখনো সাইন্স ফিকশন হিসেবে ভাবা হচ্ছে। সিএনএন।