চাইলেই স্বামীর পদবি নয়

লেখক:
প্রকাশ: ৮ years ago

Manual4 Ad Code

নারীরা বিয়ের পর চাইলেই জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম সংশোধন করে স্বামীর নামের অংশ বা পদবি যুক্ত করতে পারবেন না। শিক্ষাসনদ অনুযায়ী যে নাম, সেটাই জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকবে। বিশেষ প্রয়োজনে কেউ স্বামীর নাম যুক্ত করতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে। কমিশন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেবে।

গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানাবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। কারণ, হিন্দুধর্মাবলম্বী নারীদের বিয়ের পর স্বামীর গোত্রের পদবি ব্যবহার করার রীতি আছে।

জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, সনদে যে নাম ছিল, সে নামে পরিচয়পত্র করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাঁদের সনদ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে মা-বাবা যে নাম রেখেছেন, সেটি হবে। প্রয়োজনে কেউ স্বামীর নাম যুক্ত করতে চাইলে ইসিতে দরখাস্ত করতে হবে। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ইসি সিদ্ধান্ত দেবে।

ইসির এই সিদ্ধান্তের কথা জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, ইসি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তা দুঃখজনক। হিন্দুধর্মে বিয়ের পর মেয়েরা গোত্রান্তরিত হন। বাবার গোত্র থেকে স্বামীর গোত্রে চলে যান। তখন তাঁরা স্বামীর গোত্র-পরিচয় ব্যবহার করেন। ইসি হয়তো হিন্দু আইন, রীতি-নীতি সম্পর্কে জানে না। জানলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিত না।

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সূত্র জানায়, সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্রে নামসহ অন্যান্য সংশোধনী এই অনুবিভাগই করে থাকে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন লাগে না। বড় ধরনের ও জটিল সংশোধনীর ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানের পরও নির্বাচন কমিশনের সভায় অনুমোদন নিতে হয়। স্বামীর পদবি যুক্ত করতে হলেও এখন সেই জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

Manual7 Ad Code

ওই অনুবিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, হিন্দুধর্মাবলম্বী নারীরা বিয়ের পর স্বামীর পদবি ধারণ করেন বলে হিন্দু নারীদের নামের সংশোধনী চেয়ে প্রচুর আবেদন আসে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁদের বিয়ে নিবন্ধিত হয় না। যে কারণে বিয়ের পরের নাম যাচাই করতে গিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। মিতা সরকার নামে এক হিন্দু নারীর নাম পরিবর্তনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিচয়পত্র অনুবিভাগ সিদ্ধান্ত চেয়েছিল। তার ভিত্তিতে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নেয়।

Manual7 Ad Code

জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (পরিচালনা) মো. আবদুল বাতেন প্রথম আলোকে বলেন, ইসির সিদ্ধান্ত হচ্ছে, যাঁদের শিক্ষাসনদ আছে, তাঁদের নাম সনদ অনুযায়ী হবে। এ ক্ষেত্রে সংশোধন হবে না। আর যাঁদের শিক্ষাসনদ নেই, তাঁদের অন্যান্য দলিল এবং আবেদনের ‘মেরিট’ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনো আবেদন জরুরি হলে সিদ্ধান্তের জন্য কমিশনের সভায় তুলতে হবে। তিনি বলেন, যাঁরা ধর্মান্তরিত হয়ে নাম পরিবর্তন করতে চাইবেন, তাঁদের আগে শিক্ষাসনদে নাম পরিবর্তন করতে হবে।

Manual5 Ad Code

একজন ব্যক্তি কী নামে পরিচিত হতে চান, তা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারেন না বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মী আইনজীবী সুলতানা

কামাল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যিনি যেই নামে পরিচিত হতে চান, আইনানুগভাবে তাঁর জন্য সে সুযোগ থাকা উচিত।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code