

চারঘাট (রাজশাহী) :
রাজশাহীর চারঘাটে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোপা আমন ধানের জমিতে হপার পোকার (কারেন্ট পোকা) আক্রমনে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। এই পোকার আক্রমনে পাকা ধান ভূষি খোসা) করে ফেলছে বলে জানিয়েছেন আমনচাষীরা। ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার স্থানীয় ধানচাষীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার খোর্দ্দগোবিন্দপুর মাছে আদম আলী সরদারের ১০ কাঠা জমিতে রোপনকৃত আমন ধানের গোড়ায় পোকার আক্রমনে ধানের গোড়ায় পচঁন ধরে একেবারে ভূষি হয়ে গেছে। একই অবস্থা একই এলাকার সোনার আলীর আমন ধানের জমিতে।
এব্যাপারে কৃষক আদম আলী বলেন, আমি গরীব মানুষ খুব কষ্ট করে প্রায় ১০ কাঠা জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করেছিলাম। কিন্তু সর্বনাশা এই কারেন্ট পোকার আক্রমনে সব আশা নিরাশ করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষি অফিসের কাউকে জানিয়েছেন কি না জানতে চাইলে আদম আলী দু:খ করে বলেন আমরা মুর্খ মানুষ কোন অফিস চিনি না, তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোন দিন মাছে এসে আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি। অনুরুপ কথা প্রায় কৃষকের কাছ থেকে শোনা গেছে। অথচ এই এলাকায় একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মাছে সোনালী ধানের উৎপাদন খুব ভার হয়েছে। তাতে মৌসুমের শুরুতে কৃষকের মুখে হাসির ঝলক দেখা গেছে এবং প্রতিটি কৃষকই বিগত কয়েক বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ফলনের আশা করেছিল। তবে এই সর্বনাশা পোকা রোপা আমনচাষীদের সকল স্বপ্ন নষ্ট করে দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ এর সাথে যোগযোগ করলে তিনি বলেন, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ২শত ৬৫ হেক্টর। কিন্তু রোপা আমন চাষাবাদ হয়েছে ৪ হাজার ২ শত হেক্টর জমিতে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন-নাহারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ঐ এলাকায় দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলে পরামর্শ দিয়েছেন। তা ছাড়া সময়মত বিষ প্রয়োগ করলে হয়তো এত ক্ষতি হতো না।