চালের মজুদ গড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্টঃ দিনাজপুর জেলায় এবার বোরোর বাম্পার ফলন হলেও এখানকার চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর কারণ মিল মালিক, মজুদদার ও ব্যবসায়ীদের চালবাজি।খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেও অনেক মিল মালিক শর্ত অনুযায়ী চাল সরবরাহ করেননি। উল্টো তারা ধান কিনে মজুদ করে রেখেছেন।

Manual3 Ad Code

এখন সেই মজুদ দিয়েই তারা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। সরকার চালের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও তাদের কারণে বাজারে অস্থিরতা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে মজুদদার ও মিল মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ ও প্রশাসন।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বাম্পার ফলন হওয়ায় এ বছর সরকারি খাদ্য বিভাগ ১ লাখ ৪ হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কিন্তু সংগৃহীত হয় মাত্র ৭৫ হাজার ৮০৫ মেট্রিক টন। আর ৩২ হাজার ৭২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সংগৃহীত হয় মাত্র ৯ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন।

চুক্তি অনুযায়ী মিল মালিকরা চাল না দেয়ায় খাদ্য বিভাগের চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। আর লটারিতে নাম উঠেও কৃষকরা ধান না দেয়ায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।সরকারি খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেও দিনাজপুরের প্রায় অর্ধেক মিল মালিক চুক্তি ভঙ্গ করেছে। ফলে সফল হয়নি সরকারি খাদ্য সংগ্রহ অভিযান।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশ্রাফুজ্জামান জানান, চাল সরবরাহের জন্য জেলার ২ হাজার ১৮১ জন মিল মালিক খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করে। কিন্তু সরবরাহ করেছে ১ হাজার ২৭৯ জন।বাকি ৮৪৮ জন মিল মালিক চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করেনি। চুক্তি ভঙ্গকারী এসব মিল মালিকের মধ্যে ১৫৭ জন আংশিক চাল সরবরাহ করেছে, আর ৬৯১ জন এক ছটাকও দেয়নি।

জানা যায়, একশ্রেণির মিল মালিক খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েও সরকারকে চাল না দিয়ে উল্টো তারা বাজার থেকে ধান কিনে মজুদ করেছেন। এখন সেই ধান দিয়ে তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন।মুনাফালোভী এসব মিল মালিক ও মজুদদারদের কারণেই বাম্পার ফলন সত্ত্বেও চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

অবৈধভাবে ধান ও চাল মজুদ রাখায় বৃহস্পতিবার বিকালে র‌্যাবের সহযোগিতায় প্রশাসন সদর উপজেলার রুবেল অটো রাইস মিলে এবং উলিপুর এলাকায় মেসার্স সাহা অটো রাইস মিলে অভিযান চালায়।এই দুটি মিলে ৩ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন ধানের মজুদ পায় অভিযানকারী দল। অবৈধভাবে ধান ও চাল মজুদ রাখায় রুবেল অটো রাইস মিলের মালিককে ৭০ হাজার টাকা এবং সাহা অটো রাইস মিলের মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, এই দুই মিলের মালিক বোরো সংগ্রহ অভিযানে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েও এক ছটাক চালও সরবরাহ করেনি। অথচ তাদের মিলে প্রায় ৫ মাস ধরে বিপুল পরিমাণ ধান ও চাল মজুদ আছে।

Manual4 Ad Code

খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশ্রাফুজ্জামান জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো মিল মালিক বাজার থেকে ধান ক্রয়ের ৩০ দিনের বেশি এবং চাল তৈরির ১৫ দিনের বেশি মজুদ রাখতে পারবে না।এই নিয়ম ভঙ্গ করে যারা ধান ও চাল মজুদ রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চালের বাজারের অস্থিরতা কমাতে ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ভালো মানের মিনিকেট চাল প্রতি কেজি সাড়ে ৫১ টাকা এবং আটাশ জাতের মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এরপরও দিনাজপুরে বেড়েই চলেছে চালের দাম।শুক্রবার বাহাদুরবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভালো মানের মিনিকেট চাল ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা এবং আটাশ জাতের চাল ৫০ থেকে ৫১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাল বিক্রেতারা জানান, সরকার মিলগেটে মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও মিল মালিকরা বেশি দামে চাল বিক্রি করছে। এজন্য তাদের বেশি দামে চাল কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও এক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে চালের দাম বাড়িয়ে চলছে মিল মালিকরা। এ কারণেই বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

Manual8 Ad Code

এই অভিযোগ সম্পর্কে জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা সহিদুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, আড়তদাররা যে দামে মিল থেকে চাল কিনছে, তার ভাউচার চেক করা হোক।তাহলেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে, মিলাররা কি দামে চাল বিক্রি করছে এবং কারা দাম বাড়িয়েছে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code