চীনা কর্মকর্তার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চায় ফিজি

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৪৯ minutes ago

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে বসবাসরত চীনা একটি সরকারি সংস্থার একজন কর্মী বেইজিংয়ের পক্ষে ঘুষ দিয়েছেন— এমন অভিযোগের সপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রমাণ চেয়েছে ফিজি সরকার।গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ফিজির রাজধানী সুভায় অবস্থিত ‘ওভারসিজ চাইনিজ সার্ভিস সেন্টার’-এর পরিচালক ঝাও ফুগাংয়ের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর দুর্নীতিতে’ জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে।ওয়াশিংটনের দাবি, ফিজির নাগরিক ঝাও তার সরকারি পদমর্যাদা ব্যবহার করে চীনা সরকারের স্বার্থ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থ এগিয়ে নিতে ঘুষ দিয়েছেন।স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই ব্যবসায়ী অভিযোগগুলোকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।শুক্রবার ফিজি সরকার ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ফিজির অভ্যন্তরে সংঘটিত কথিত অপরাধের বিষয়ে ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ’ সরবরাহ করতে হবে।সরকারের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিজস্ব আইন ও নীতিমালার আওতায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান জানালেও ফিজির অভ্যন্তরে বেআইনি কর্মকাণ্ডের যেকোনো অভিযোগ যথাযথ ফিজীয় আইনি ও আইন প্রয়োগকারী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।’

Manual6 Ad Code

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘কোনো অভিযোগই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ নয়। ফিজির কর্তৃপক্ষের যেকোনো পদক্ষেপে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অধিকার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।’২০২৪ সালে অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের (ওসিসিআরপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল, ফিজিতে চীনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনায় ঝাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। প্রতিবেদনে তাকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটির নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছিল, মানব পাচার, অর্থ পাচার ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ঝাওকে সন্দেহ করত।তবে ঝাওয়ের আইনজীবী নিখিল নাম্বিয়ার এএফপি-কে জানিয়েছেন, তার মক্কেল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বেইজিংয়ের পক্ষে প্রভাব খাটানোর অভিযোগকে তিনি ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঝাওয়ের মামলার বিস্তারিত তথ্য তাদের জানা নেই। তবে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, ‘চীনের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অপবাদ ও কুৎসা রটনার আমরা সব সময় বিরোধিতা করি।’সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা জোরদার করেছে চীন। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code