

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া
সরকার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করলেও মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতিমুক্ত না হলে মানুষ পাবে কি তার সফলতা ? এমন প্রশ্ন করছেন এখন সচেতন জনতা । যদিও সহযোগিতা আর অসহযোগিতা, প্রতিকূল আর অনুকূল পরিস্থিতি উপেক্ষা করে সরকার মাঠ প্রশাসন পরিচালনা করছেন। কিন্তু আমাদের সভ্যতার অভাব থাকায় স্বচ্ছতা রয়েছে এখনো যথেষ্ট দূরে আমাদের থেকে। প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার চেয়ারে দায়িত্বহীন ব্যক্তিদের ঘাপটি মেরে বসে থাকার কারণেই মাঠ পর্যায়ে সরকারি সেবা ও কাজের স্বচ্ছতা আসছে না বলে অভিমত ব্যক্ত করছেন অনেকেই।
সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ এর সংস্কার ও মেরামতের সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
জালিয়াতি করে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা এনামুল হকের বিরুদ্ধে।
জানা যায়,২০২৪- ২৫ অর্থবছরে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাঊয়া বাজার ইউপির সুনামগঞ্জ পত্তর -২ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত/ সংস্কারের জন্য অনুন্নত রাজস্ব খাতের( কাবিটা) অনুকূলে ছাতক উপজেলাধীন চাউলির হাওয়রের বিনন্দপুর, কোনাপাড়া, বড় বিলএলাকায় ৯৭১ ঘনোমিটার ডুবন্ত বাঁধ এর ভাঙ্গা বন্ধ করন ও মেরামত কাজের নামে পি আই সি ১৭ এর প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ১৫,৭৫,১৯২.৮২ ( ১৫ লক্ষ ৭৫ হাজার ১৯২ দশমিক ৮২) টাকা সিংহভাগ কাজ না করে ই আত্মসাৎ করা হয়েছে।
স্বাক্ষর জাল করে উপরের লোকদের ম্যানেজ করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এনামুল হকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানা যায়। অভিযোগকারীরা ছাতকের ফসল রক্ষা বাঁধ এর পি আই সি নং ১৭ এর প্রজেক্ট কমিটির সদস্য। বিএনপি নেতা এনাম প্রজেক্টে তার আত্মীয় দুই ছেলের নাম দিয়েছেন। এতে বুঝা যায় শুরু থেকেই এই প্রজেক্ট লুটপাটের উদ্দেশ্য এনামুল হকের এমনটাই মন্তব্য করেছেন স্থানীয় এলাকার অনেকেই। তার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ করিরা হলেন জাঊয়া বাজার ইউনিয়নের জাঊয়া গ্রামের আবুল খায়ের ও শোয়েব আহমদ । একই গ্রামে বসবাস করেন প্রজেক্টর সভাপতি কয়েছ আহমদ পীর ও সদস্য সচিব এনামুল হক।
অভিযোগ দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: তরিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, ফসল রক্ষা বাঁধে কাজ হয়েছে বিধায় মানুষ ধান তোলেছে। আমরা তো কাজের বিনিময়ে টাকা দেই।এনামুল হক কে আমি চিনি না। তবে ফসল রক্ষা বাঁধে কাজ হয়েছে বলে ছবি ও ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপে দিতে বললে পাস কাটিয়ে কথা বলেন ইউএনও জানান পরে একসময় দিবেন।এগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এই মুহূর্তে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা এনামুল হকেরর সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও পাওয়া যায়নি মুঠোফোনে।
জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিএনপি নেতা এনামুল হকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে ছাতক উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফরিদ উদ্দিন এ প্রতিবেদককে জানান, আগে তদন্ত হউক,আবারো জানতে চাওয়া হয় তদন্ত প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থার জন্য সুপারিশ করবেন কিনা এ সময় তিনি অনেকটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, আমি একা কি করব? এতেইতো আর বুঝার বাকি থাকে না এনামুল হক স্থানীয় উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা।
তবে এনামুল হক ছাতক উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলে জানান তিনি।
জাউয়া বাজার ফসল রক্ষা বাঁধে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জজেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত ) রেজাউল করিম বলেন, এটাতো পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। আমাকে ফোন দিয়ে কি লাভ?
এবার কথা হয় প্রজেক্টের সাইনবোর্ডে নাম ঝুলিয়ে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাসুম চৌধুরী সাথে শুরুতেই কল রেকর্ড হচ্ছে শব্দ শুনে কেটে দেন মুঠোফোনের লাইন। বারবার চেষ্টা করেও আর পাওয়া যায় নি তাকে।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয় প্রজেক্টের সাইন বোর্ডে নাম ঝুলিয়ে থাকা আরেক কর্মকর্তা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের সাথে তিনি প্রথমে উচ্চ কন্ঠে বলেন, ফসল রক্ষা বাঁধে কাজ তো অবশ্যই হয়েছে। পরে ওই বাঁধের ছবি ভিডিও চাওয়া হয় তার কাছে। এরপর নমনীয় হয়ে বলেন খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
এ প্রতিবেদকের সাথে সর্বশেষ কথা হয় সাইনবোর্ডে নাম থাকা সুনামগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ড মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এর সাথে, তিনি জালিয়াতের অভিযোগ পেয়েছেন স্বীকার করে বলেন, ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। তবে তদন্ত ছাড়া বুঝা যাবে না সত্য মিথ্যা, এমনটাও জানান তিনি। DEsk bj