জমে উঠছে সোনাগাজীর মুহুরী প্রজেক্ট : বাড়ছে পর্যটক

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

সৌরভ পাটোয়ারী, ২০ জানুয়ারী ২০২০
ফেনী থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে সোনাগাজী উপজেলা শহরের পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত মুহুরী সেচ প্রকল্প ও প্রজেক্ট। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে ঘেষে নৈসর্গিক শোভা ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ছুটে আসেন হাজার হাজার পর্যটক। শীত মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে এখানে এ সংখ্যা আরো বাড়ে। নদীর পাড়ে সবুজ বনানী ঘেরা মায়াবী পরিবেশ সাথে সাগরের ঢেউ মিশে যেন একাকার। তাই এখানে প্রতিদিন জোয়ার-ভাটা দেখে অনেক আনন্দ পায় দেশী-বিদেশী পর্যটক। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসবের সময় যেমন ঈদ, বিজয় দিবস-স্বাধীনতা দিবস ও বিশ্বভালবাসা দিবসে জমে উঠে এ পর্যটন এলাকা। নদীতে চলে সারি সারি নৌকা। মাঝি ধরে মাছ। মাছ ধরা ও নৌকা ভ্রমণের দৃশ্য ভ্রমণ পিয়াসী মানুষদের আকৃষ্ট করে। ।

শীতকালে অতিথি পাখির আগমন ও তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে এ এলাকা। এখানে যে আসে তাকেই নি:স্বার্থভাবে মুগ্ধ করে এখানকার অপরূপ প্রকৃতি। নদীর পানিতে সূর্যদোয় ও সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। আয় কাছে আয়। আর সে ডাকে সাড়া দেয় পর্যটকরা। তাই ভোর থেকে রাত অবধি ভ্রমন পিপাসু মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়েও এখানে বেড়াতে আসেন ।

সংশিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮২ সালে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্পটি নির্মিত হয়। এ প্রকল্পের ৪০ গেট বিশিষ্ট রেগুলেটর ও ক্লোজার ড্যাম রয়েছে। এর ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা ৬ একর ভূমির উপর ৯ কোটি টাকা ব্যায়ে ২০০৫ সালে স্থাপন করা হয়। এর ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে নির্মিত হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল।

এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে আছে পুলিশ ফাঁড়ি। মুহুরী নদীতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভাসমান মাচ চাষ, নদীতে জাল ফেলে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র, পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ, ডেইরী ফার্ম, ব্যক্তিগত পর্যায়ে নার্সারী ও এগ্রো খামারসহ ইত্যাদি দেখার দৃশ্য মনে রাখার মত। জীবন জীবিকার তাগিদে খেটে খাওয়া মানুষ এ প্রজেক্টকে ঘিরেই এলাকাসহ দেশের অন্য অঞ্চলের মানুষ জিবীকা নির্বাহ করে। আবার কেউ কেউ নদীতে জাল ফেলে নোনা পানিতে চিংড়ি পোনা সংগ্রহ করে। এ চিংড়ির পোনা সাগর থেকে ফেনী নদীতে ভেসে আসে।

Manual8 Ad Code

কিন্তু অতিব দু:খের সাথে বলতে হয় যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর পর্যটন কেন্দ্র বা নগরী হিসেবে গড়ে উঠার কথা থাকলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বা ব্যক্তিগত উদ্যোক্তাদের সদিচ্ছার অভাবে কাঙ্খিত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। এখানে নেই কোনো ভালো মানের হোটেল-মোটেল। তাই বিদেশী পর্যটক এখানে আসতে আকৃষ্ট হয়না।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আধুনিক একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতো বলে স্থানীয়দের দাবি। দরকার মানসন্মত থাকা ও খাওয়ার হোটেল।

Manual3 Ad Code

এখানে যাতায়তের একমাত্র বাহন সিএনজি চালিত অটো-ব্যাটারী চালিত টমটম। কিন্তু মুহুরী নদীর কোল ঘেঁষে ে পিচঢালা সড়ক আছে সেটি দিয়ে যাত্রীবাহী পরিবহণ যেমন বাস , মিনিবাস চলাচল সম্ভব। কিন্তু তিন যুগের অধিক সময়েও এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এখানে ছোট্ট একটি পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। আবার ভ্রমনের নাম করে কতিপয় নকল স্বামী-স্ত্রী ও প্রেমিক-প্রেমিকা সেঁজে আপত্তিকর কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। এ অবস্থায় বিব্রতকর এলাকার মানুষ। এঅভিযোগ দীর্ঘ দিনের। আবার সত্যিকারে পর্যটকেও লাঞ্চিত হতে দেখা গেছে। এলাকার উঠতি বয়সী বখাটে তরুণর ছেলে-মেয়ে যুগল দেখে সুযোগবুঝে তাদের খারাপ মন্তব্য করে টাকা-পয়সা স্বর্ণ-গহনা দামী মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। আবার কখনও কখনও নারী পর্যটকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়।

Manual2 Ad Code

এলাকাবাসী আবদুল করিম ভোলা মিয়া ক্ষোভের সাথে জানান, এলাকা ও স্থাপনাগুলো মনোরমভাবে সাজানো ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। আর পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারলে এখানে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন জানান, অপার সম্ভাবনাময় এলাকাটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি এলাকার বেকার লোকদের কর্মসংস্থানেরর সুযোগ সৃষ্টি হতো। প্রতিদিন প্রকল্প এলাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত লোক ও প্রতিষ্ঠান মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে আসেন।

এ বিষয়ে ফেনী-৩ আসনের সাংসদ সদস্য লে: জে: (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, সরকারিভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছে। আমরা খুব শিগ্রই মুহুরী প্রকল্প এলাকাকে পর্যটন এলাকা হিসাবে ঘোষণা করবো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code