জাপানের কয়েকজন বৃদ্ধা কেন কারাবাস পছন্দ করছেন

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাপানের সবচেয়ে বড় নারীদের কারাগার, তোচিগি। এটি দেখতে অনেকটাই বৃদ্ধাশ্রমের মতো। ভেতরে প্রবীণ বন্দিরা ধীর গতিতে হাঁটেন, কেউ কেউ হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন।

কর্মীরা তাদের খাওয়ানো, গোসল করানো এবং ওষুধ সেবনে সাহায্য করেন। তবে এটি আসলে একটি কারাগার, যেখানে বৃদ্ধ বন্দিদের অনেকেই বেছে নিয়েছেন স্থায়ীভাবে থাকার পথ।

তোচিগি কারাগারের এক কর্মকর্তা তাকায়োশি শিরানাগা বলেন, কিছু বন্দি তো মাসে ২০-৩০ হাজার ইয়েন দিয়ে এখানেই চিরকাল থাকতে চান।

খাবার চুরির অভিযোগে কারাগারে থাকা ৮১ বছর বয়সী আকিও নামের এক বন্দি বলেন, এখানে খুব ভালো মানুষ রয়েছেন। সম্ভবত এই জীবনটাই আমার জন্য সবচেয়ে স্থিতিশীল।

কারাগারের ভেতরে নিয়মিত খাবার, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং বৃদ্ধদের সেবাযত্ন পাওয়া যায়। কারাগারের বাইরে এই সুবিধাগুলো অনেকেরই নাগালের বাইরে।

Manual3 Ad Code

মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে পাঁচবার কারাবন্দি হওয়া ৫১ বছর বয়সী ইয়োকো জানান, কিছু মানুষ ইচ্ছে করেই অপরাধ করেন, যাতে তারা কারাগারে ফিরে আসতে পারেন।

জাপানের বৃদ্ধ বন্দিদের মধ্যে চুরির ঘটনা সবচেয়ে বেশি। ২০২২ সালে কারাবন্দি নারীদের ৮০ শতাংশই চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হন। এর পেছনে রয়েছে দারিদ্র্য ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা।

বৃদ্ধ বন্দিদের এই সংকট সামাজিক একাকীত্ব ও দারিদ্র্যের একটি করুণ প্রতিফলন। তবে কারাগারে জীবন বেছে নেওয়া কেবল সাময়িক স্বস্তি নিয়ে আসে, যা এই প্রবীণদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।

Manual6 Ad Code

আকিও বলেন, যদি আমার আর্থিক অবস্থা ভালো থাকত, তবে হয়তো এই পরিস্থিতিতে পড়তাম না।জাপানের বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করেন। পেনশন কম এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে অনেকেই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

Manual8 Ad Code

২০০৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৬৫ বা তার বেশি বয়সী বন্দিদের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। তোচিগি কারাগারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন বৃদ্ধদের ডায়াপার পরিবর্তন, গোসল করানো ও খাবার খাওয়ানোর মতো সেবায় জোর দিতে হচ্ছে।

কারারক্ষী মেগুমি বলেন, অনেকেরই পরিবার নেই। আর যাদের আছে, তারাও তাদের পরিত্যাগ করেছেন।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code