ঝিনুকের জমজমাট বাজার

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual7 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদন: খুলনার কয়রা উপজেলার পাইকগাছা এলাকা। ভোরের আলো ফোটার পরেই এলাকার শাকবাড়িয়া নদীতে নেমে পড়েন শত শত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর। সবাই মাছ ধরতেই নদীতে নেমেছেন ভেবে ‘ভুল করবেন’ যে কেউ। ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যাবে, তারা ডুব দিয়ে বিশেষ কায়দায় পানির নিচ থেকে তুলে আনছেন অসংখ্য ঝিনুক ও শামুক। পরে ভালো করে ধুয়ে সেগুলো বস্তায় ভরে নিয়ে যাচ্ছেন বাজারে। নদীর প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে এমন দৃশ্য এখন প্রতিদিনের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাশয় থেকে ময়লা-আবর্জনা খেয়ে পানি দূষণমুক্ত রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে শামুক-ঝিনুক; ‘প্রকৃতির ফিল্টার’ হিসেবে পরিচিত এই প্রাণী প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরণ নিষিদ্ধ। মূলত বন্যপ্রাণী নিধন আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ এই এলাকায় অবাধে চলছে শামুক-ঝিনুক আহরণ।

পাশাপাশি পাইকগাছায় গড়ে উঠেছে কেনাবেচার আড়ত। নদীর তীরে ১৬০ থেকে ২৪০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও আড়তে এগুলোর দাম ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা। এই শামুক-ঝিনুকই এখানকার চুন তৈরির প্রধান উপাদানে পরিণত হয়েছে।

Manual6 Ad Code

জানা গেছে, সাধারণত পাথর ও শামুক-ঝিনুক থেকে চুন পাওয়া যায়। কিন্তু পাথুরে চুন প্রক্রিয়াকরণে রাসায়নিক দ্রব্য এবং এসিডের পরিমাণ বেশি থাকায় এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ক্যালসিয়ামের ক্ষয় হয়, দাঁতের ক্ষয় হয়, পাকস্থলীতেও সমস্যা করে। কেননা, এই চুন বেশিরভাগই ব্যবহৃত হয় বসতবাড়িতে চুনকাম করার জন্য। তবে প্রাচীন পদ্ধতিতে শামুক-ঝিনুক থেকে তৈরি করা চুন কেমিক্যালমুক্ত ও শরীরের জন্য ভালো হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। এই এলাকার শামুক ও ঝিনুক থেকে চুন উৎপাদন করে প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়।

Manual2 Ad Code

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া নদী থেকে ভাটার সময় দেদার আহরিত হচ্ছে শামুক ঝিনুক। শিশু, কিশোর, নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধারাও এগুলো আহরণ করছেন নির্দ্বিধায়। পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী বাজারের দীর্ঘদিন ধরে শামুক ও ঝিনুক ক্রয় করছেন। মূলত বর্ষা মৌসুমে বেশি পাওয়া যায়। সুন্দরবন থেকেও শামুক-ঝিনুক কুড়িয়ে সেখানে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে উপকূলের অসহায় অনেক পরিবার।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code