ট্রলার ছাড়াতে দুই লাখ টাকা উৎকোচ দাবী

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago
sdr

Manual6 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

মোংলা (বাগেরহাট) :
গভীর সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়ে সুন্দরবনের খালে আশ্রয় নেয়া জেলে ট্রলারে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, চাহিদার আরও দুই লাখ টাকা না পেয়ে ১৩ জেলেকে বাঘ ও কুমিরের মুখে ছেড়ে দেয়া হয় গভীর বনে। টানা তিনদিন বনের মধ্যে হিং¯্র প্রাণীর মুখোমুখি হয়ে প্রাণ নিয়ে পায়ে হেটে লোকালয়ে ফিরে আসেন এ সকল জেলোরা। মঙ্গলবার দুপুরে মোংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বনরক্ষীদের লুটপাট ও মারধরসহ বনের মধ্যকার লোমহর্ষক বর্ণনা করেন ভুক্তভোগী জেলেরা। জেলে ও ট্রলার মালিক মোঃ আব্দুর রশিদ লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ৭ মে বনবিভাগের দুবলা ফরেষ্ট ষ্টেশন থেকে বৈধ পাস পারমিট (অনুমিত) নিয়ে দুইটি ট্রলার যোগে ১৩ জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। ঘুর্ণিঝড় আম্পানের আগ মুর্হুতে হঠাৎ সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠায় দিক ভুল করে সাগর সংলগ্ন সুন্দরবনের বেহালা কয়লা খালে আশ্রয় নেয় তারা। এদিন সন্ধ্যায় পশ্চিম সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনী ফরেষ্ট ষ্টেশনের কর্মকর্তা মোঃ আখতারুজ্জামান, বনরক্ষী রাসেল, কাওছার, আমজাদ ও বনবিভাগের বোট চালক আসাদসহ আরও ৩ থেকে ৪ জন বনরক্ষী বনে আশ্রয় নেয়া জেলেদের ট্রলারে উঠে মারধরসহ ১৫ মণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, বেশ কয়েকটি জাল, ৬শ লিটার জ্বালানী তেল ও নগদ ৪৫ হাজার নগদ টাকা লুটে নেয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন জেলেরা। এছাড়া মারধর ও শারীরিক নির্যাতনসহ রাইফেল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে জেলেদের ভয় ভীতি দেখানো হয়। কেঁড়ে নেয়া হয় তাদের সঙ্গে থাকা বনবিভাগের বৈধ পাস পারমিটও। আর বনরক্ষীদের চাহিদার আরও ২ লাখ টাকা দিতে না পারায় ট্রলার আটকে রেখে ১৩ জেলেকে গভীর বনে বাঘ-কুমির মুখে বনে মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয়। জেলেরা অভিযোগ করেন, তাদের ট্রলার আটকে বনরক্ষীরা এখনও ঘুষের টাকার দাবীতে নানা টালবাহানা করে চলছে। টাকা না দিলে ট্রলার ও এ সকল জেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হবে বলেও বন কর্মকর্তা মো: আখতারুজ্জামান তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। বনরক্ষীরা দুইটি ট্রলার, মাছ, জাল ও নগদ ৪৫ হাজার টাকা নেয়াতে মোট প্রায় ১০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে দাবী জেলেদের। এ অবস্থায় আর্থিক ক্ষতিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ক্ষতিগ্রস্থ জেলেরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকারী জেলে ও ট্রলার মালিক মো: আ: রশিদ মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়ন জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তার এ সমিতিতে সদস্য রয়েছে সাড়ে ৩শ। এ ইউনিয়নে সমিতি ও সমিতির বাহিরের মিলিয়ে মোট জেলের সংখ্যা ১৩শ জন।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে পশ্চিম সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনী ফরেষ্ট ষ্টেশনের কর্মকর্তা মোঃ আখতারুজ্জামানের মোবাইল ফোনে (০১৭১৯৮৪৮১২৯) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code