ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন কক্সবাজারের জেলেরা

লেখক:
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual1 Ad Code

বৈরী আবহাওয়ার পর সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ। জেলেরা ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন। এতে কক্সবাজারের উপকূলের ঘাটগুলোতে এখন জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী, ট্রলার মালিক ও শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শুক্রবার সকালে দেশের অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র কক্সবাজার শহরের ৬ নম্বর ঘাটে ইলিশের ট্রলার আসতেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা। চড়া মূল্যে ইলিশ কিনে ট্রাক ভর্তি করে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সকাল ১০টায় ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে সাগর থেকে বাঁকখালী নদীর মোহনার এই ঘাটে পৌঁছায় ‘এফবি আব্দুল্লাহ’ নামের একটি ট্রলার। ট্রলারের মাঝি আব্দুল খালেক জানান, ১১ অগাস্ট ২১ মাঝিমাল্লা মিলে সাগরে যান। এক সপ্তাহ পর উপকূলে ফিরেছেন। তিন হাজারের মত ইলিশ পেয়েছেন; অন্যান্য মাছও পেয়েছেন।

২৩ জুলাই সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে রওনা হয়। দুদিন পর আবহাওয়া বৈরী হয়ে উঠলে উপকূলে ফিরে আসেন জেলেরা। এর মধ্যে কক্সবাজার ও আশপাশের জেলায় বন্যা দেখা দেয়।

Manual1 Ad Code

ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন কক্সবাজারের জেলেরা
১০ অগাস্ট কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করার পর জেলেরা আবার সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া ও সদরের ঘাট থেকে যাওয়া অনেক ট্রলার এখনও সাগরে রয়েছে বলে জানান জেলেরা।

Manual7 Ad Code

সরজমিনে শুক্রবার কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট ডিঙি নৌকা থেকে শ্রমিকরা ঝুড়ি ও লাই ভরে ইলিশ ও অন্যান্য মাছ খালাস করছেন। একদল শ্রমিক বরফ নিয়ে পেছনে পেছনে ছুটছেন।

ঘাটের পন্টুন ইলিশসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছে ভরপুর। ঝুড়ি থেকে মাছ ফেলতেই পাইকাররা কিনে নিচ্ছেন। পাশেই প্যাকেজিং করে ট্রাক ভর্তি করা হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে পাঠানোর জন্য।

প্রায় তিন মাস পর ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরে জেলে ও ট্রলার মালিকরা উৎফুল্ল।

Manual7 Ad Code

ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন কক্সবাজারের জেলেরা
ট্রলারের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, “একেকটি ট্রলারে আড়াই থেকে ৩ হাজার ইলিশ ধরা পড়েছে। কিছু ট্রলার আরও বেশি মাছ পেয়েছে। ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় এখন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। আশা করি, অনুকূল পরিবেশ থাকবে।”

ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন কক্সবাজারের জেলেরা
ঘাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের আকার মোটামুটি ভাল; তবে দাম চড়া। শুক্রবার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮০০ টাকা এবং ৮০০ থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়, আর ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা।

ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসয়াীরা বলছেন, এখনও মাছের যোগান বেশি নয়। এতে দাম বেশি। দুই-তিন দিনের মধ্যে ঘাটে শত শত ট্রলার ভিড়বে। তখন দাম কমে আসবে।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন বলেন, “প্রথম কয়েকদিন ইলিশসহ অন্যান্য মাছের দাম চড়া ছিল। এখন সাগর থেকে মাছ ভর্তি ট্রলারগুলো ফিরতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিন ইলিশে সয়লাব হতে পারে। তখন ঢাকার বাজারেও ইলিশের দাম কমে আসবে।”

ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন কক্সবাজারের জেলেরা
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. বদরুদ্দৌজা বলেন, “শুক্রবার ৭০ মেট্রিক টনের বেশি ইলিশ সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগের তিন দিনে এ ঘাট থেকে ইলিশ সরবরাহ হয়েছে ১০০ মেট্টিক টন। মাছের এ ধরনের যোগান অব্যাহত থাকলে রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।”

Manual1 Ad Code

জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, সমিতির নিবন্ধিত ছয় হাজার ট্রলার রয়েছে। এতে লক্ষাধিক জেলে ও শ্রমিক জড়িত।

দেলোয়ার বলেন, সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার কার্যকর সুফল নানা কারণে পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করে সমন্বয় করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন কক্সবাজারের জেলেরা
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, বৈরী আবহাওয়া কেটে সাগরে এখন মাছ ধরায় অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। শহরের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ জেলার উপকূলীয় ঘাট থেকে দৈনিক প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন সামুদ্রিক মাছ আহরিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই ইলিশ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code